স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম নতুন কোন ঘটনা নয়। নানা সময় অভিযোগ উঠে বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগি নিহত হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে আসলেও তেমন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই বলে অভিযোগ সচতেন মহলের। তাছাড়া প্রশাসন থেকে বার বার বলা হয় স্বাস্থ্য খাতে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। কিন্তু অনিয়মে জরিত থাকা কর্তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন দৃর্শ্যমান ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জবাসীকে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণার শিকার আমরা হতে দিবো না।
তারই প্রেক্ষিতে একশনে নেমে স্বাস্থ্য খাতের ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে একশনে যাচ্ছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি ক্লিনিককে জরিমানা করার মধ্য দিয়ে অভিযানে নেমেছেন।তাদের এই কাজকে নগরবাসি সাধুবাদ জানান। তবে তারা যেন অবৈধ ক্লিনিক নিয়ে কোন ছাড় না দেন তার জন্য আহবান জানান।
খোজ নিয়ে জানাযায়, পূর্বের তালিকা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২০টি ক্লিনিক-ডায়গনষ্টিক সেন্টার বৈধ লাইসেন্স পেতে যথাসময়ে আবেদন করেননি। কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে বছরের পর বছর। অনেকের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু দিন আগে, কিন্তু তা নবায়নের নাম নেই। অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে কারা চিকিৎসা দিচ্ছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বাড়ছে অপচিকিৎসার অভিযোগ। আর এতে করে ভূল চিকিৎসার সিকার হতে হয় মানুষকে। অনেক সময় ভূল চিকিৎসায় রোগি মারাও যান।
অপরদিকে জেলা প্রশাসন নারায়ণগঞ্জে নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মেডিস্টার হাসপাতাল ও রেনেসা ল্যাবে সেবার মূল্য তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য আদায়, অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুসরণ না করা, যথাযথ স্টেরিলাইজেশনের অভাব, প্যাথোলজিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ানদের যোগ্যতার প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থতা এবং বেড অনুযায়ী নার্সের স্বল্পতা—এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স না থাকা, সেবার মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা, ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ এবং দক্ষ জনবল ছাড়া প্যাথলজি পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে অনুমোদনহীন ক্লিনিক রয়েছে এগুলো হলো, মেট্রোহল চত্বরের সোহেল জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল ইউনিট ২ , নারায়ণগঞ্জ প্রেসিডেন্ট রোড স্টার লাইফ হাসপাতাল, পশ্চিম দেওভোগ নাগবারি ডায়াবেটিক হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু রোড রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল, খানপুর ইমন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, ফতুল্লা সস্তাপুর বিশ্বর্ডো মাইক্রো প্যাথলজি, চিটাগাংরোড পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজি কদমতলি জেনারেল হাসপাতাল, মাদানি নগর মাদারাসার বিপরীতে শাহ আলম ভবন ট্রাষ্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনিষ্টিক,
সিদ্ধিরগঞ্জ হিরাজিল সূর্যের হাসি ক্লিনিক হিরাঝিল,ভূইয়াপাড়া শাহ সুজা রোড সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক, ফতুল্লা শাহী বাজার সুফিয়া ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, কতুবপুর লামাপাড়া সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক,ফতুল্লা আয়েশা জেনারেল হাসপাতাল, ফতুল্লা পঞ্চবপি মোড় মেরী স্টার হাসপাতাল। সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েছে, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, ডিগ্রী কলেজ রোড বাদশা প্লাজা দি মাতৃসেবা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চেীরাস্তা, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চেীরাস্তা,ডিগ্রী কলেজ রোড গ্রীন লাইফ মেডিকেল সার্ভিসেস, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ডক্টরস হেলথ কেয়ার লিঃ।
১৯৮২ সালের মেডিকেল অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার চালানোর সুযোগ নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে তাদের চিকিৎসা সেবা। ওই সকল ক্লিনিকগুলো কতটুক মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে তা জানা নেই অনেকেরই।
জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, স্বাস্থ্যখাতে কোন অনিয়ম করলে মেনে নেয়া হবে না। জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের যৌত উদ্যোগে নানা অনিয়ে বিরুদ্ধে প্রশানর মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযান অব্যহত থাকবে।