শহরে দেড় বছরে রানার আলোচিত ৫ হামলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
শহরে দেড় বছরে রানার আলোচিত ৫ হামলা
নারায়ণগঞ্জের শহরে সকল অপকর্মের মাস্টার মাইন্ড ‘গডফাদার’ শামীম ওসমান পালালেও তারই আদর্শ বুকে ধারণ করে নতুন ‘গডফাদার’ তালিকায় নাম উঠাতে চাইছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা। পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেন তিনি। ইতিমধ্যে পটপরিবর্তনের পরপরই শিবির নেতার উপরে হামলা, বন্ধন বাস নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে গোলাগুলি, চাঁদা না পেয়ে মৌমিতা বাসে হামলা, বিআইডাব্লিউটিএ‘র জায়গা কুমুদ্দিনের দখল নিয়ে হামলা ও সংঘর্ষ।
সর্বশেষ আওয়ামী লীগ কায়দায় আধিপত্য বিস্তারে গুম করে হত্যা করেই ফেঁসে গেলেন রানা। বর্তমানে সব ফেলে পলাতক তিনি। কিন্তু ইতিমধ্যে রানা অধরা এখনো গ্রেফতারে আসছে না যা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। একই সাথে এখনো দলীয় হাইকমান্ড রানার বিরুদ্ধে কোন অক্যাশন না নিয়ে প্রমান দিচ্ছেন অপকর্মকারীর আশ্রয় হতে পারে বিএনপি এমনটাই বলছে, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা।
সে ডেভিডের ভাগ্নে। সে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তারে বার বার বলছি আমার ছেলেরে ফিরিয়ে দেও কিন্তু দিল না। পুলিশও আমাদের সঙ্গে ছয় নয় করেছে। পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে। তা ছাড়া তিনি বারবারই বলছেন বিএনপি ক্ষমতায় আসা মাত্রই আমার ছেলে খুন হয়েছে দলের ক্ষমতার প্রভাবেই রানা এমন করতে পারলো তার দলের কারণেই রানার সার্পোট নিলো পুলিশ। বর্তমানে আলোচিত ঘটনায় রানা উধাও।
সকলের সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাও যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই রানা নানা ঘটনাতেই আলোচিত সমালোচিত হয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় মার্কেটের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজের পরিচালক ও সাবেক শিবির নেতা গোলাম সারোয়ার সাঈদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন রানা এসেই তিনি ও তার লোকজন সাঈদের উপর হামলা চালিয়ে কিল ঘুষি ও বেধড়ক মারধর করেন । এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকৃত পরিবহন দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রানাকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতেও দেখা গেছে। তা ছাড়া প্রায় ২/৩ ঘন্টা দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো বাসস্ট্যান্ড। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের (৮ ফেব্রুয়ারী) নগরীর খানপুর মেট্রোহলের বাস স্ট্যান্ডের দূরপাল্লা ও মৌমিতা বাস থেকে চাঁদা হিসেবে মাসে ২ লাখ টাকা উঠিয়ে দেওয়ার জন্য জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নং ঢা-৩৮১০।
এর সকল সদস্যদের হুমকি-দমকি দেওয়ার অভিযোগসহ দফায় দফায় মিশনপাড়ায় বাসে গুলি করার অভিযোগ উঠেছিলো মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শওকত তার রানার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার কিছুর পরপরই গত বছরের (১৫ ফেব্রুয়ারী) কুমুদ্দিন ও বিআইডাব্লিউটিএ‘র মালিকানাধীন জায়গা নিয়ে ঝামেলা হলে সেদিন প্রকাশ্যে পিস্তল ও লোকবল নিয়ে শোডাউন যোগে বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকার্তাদের হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছিলো এই রানার বিরুদ্ধে।
এর বাহিরে ও শত শত অভিযোগ এই রানার উপরে থাকলে ও প্রশাসনিক ও দলীয় কোন ব্যবস্থা নেই রানার বিরুদ্ধে যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ জনগণের। তা ছাড়া রানার বিরুদ্ধে মিশনপাড়া ও ফতুল্লা ইসদাইর এলাকায় মাদকের ডিলারদের প্রকশ্যে শেল্টার দেওয়া অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রানা এখনো বহাল তবিয়তে, তার খুটির জোর কোথায় তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


