Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কুখ্যাত ওসমানদের ভূমিকায় ডেভিডের ভাগ্নে রানা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

কুখ্যাত ওসমানদের ভূমিকায় ডেভিডের ভাগ্নে রানা

কুখ্যাত ওসমানদের ভূমিকায় ডেভিডের ভাগ্নে রানা

Swapno



# পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে : মাকসুদা
# ত্বকীকে গুমের পর হত্যার অভিযোগ ওসমান বাহিনীর বিরুদ্ধে
# শুভকে গুমের পর হত্যা রানা বাহিনীর বিরুদ্ধে


পতন হওয়া আওয়ামী লীগের শাসনামলে ওসমান পরিবারের নির্যাতনে অত্যাচার নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাদের কাছে জিম্মি ছিল। গুম খুন সন্ত্রাসী সহ নানা অপরাধ চালিয়ে এখন ওসমান সম্রাজ্যের গুন্ডাবাহিনী পলাতক রয়েছে। ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টে জুলাই আন্দোলনে ওসমানদের পতন হলে গত দুই বছরে তাদের এখনো দেখা যায় নাই।


নারায়ণগঞ্জে রাজত্ব চালানো ওসমান পরিবারের গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান সহ তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান, ছেলে ওয়ন ওসমানের নামে জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া ১০ হত্যা মামলায় চার্জশিট হয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া বিগত সাড়ে ১৫ বছর তাদের বিরুদ্ধে গুম খুন সহ ১০ টির মামলা রয়েছে যে গুলোর কোন সুরাহা হয় নাই। ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ত্বকীকে গুম করে পরে হত্যা করা হয় এমন অভিযোগে হত্যা মামলা রয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমবাতি প্রজ্বলন করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ত¦কির বাবা রফিউর রাব্বি বিচার চেয়ে আসছেন। শেখ হাসিনার আমল গেলো বিচার চাইতে চাইতে, আওয়ামী লীগের পতনের মাধ্যমে শামীম ওসমানের অত্যাচারের সমাপ্তি ঘটার মধ্য দিয়ে আসলো অন্তবর্তি সরকার আসার পরে বিচার আশা জাগলেও সেখানে হতাশ হয় ভুক্তভোগি পরিবার। ওসমান পরিবারের হাতে নিহত হওয়া ত্বকী হত্যার বিচারের দাবী জানান বর্তমানে বিএনপি সরকারের কাছে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। আর কতকাল বিচার চাইলে গুমের পরে নিজ সন্তানের হত্যার বিচার প্ইাবে এমন প্রশ্ন এখন বিচার চাওয়া পরিবারের সদস্যদের।


এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের দের মাসের মাঝে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত গত কয়েক দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইরের মাহফুজুর রহমান শুভ নামে এক যুবককে অপহরণের মামলা হয়েছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শহরের মাঝে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। গুম হওয়ার পর গতকাল ৫ এপ্রিল রুপগঞ্জ থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসন। নিহত শুভর মার দাবী তার ছেলেকে রানার বাহিনী গুম করে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তুলেন


এমনকি সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জে এই গুমের পরে হত্যা তা মানুষের মাঝে ভয় এবং আতঙ্ক তৈরী করেছে। আর এতে করে প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে বরেন সচেতন মহল। এদিকে, অপহরণের পর নির্যাতনে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সাখাওয়াত রানা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিএনপি সরকার গঠনের দায়িত্ব নিয়ে বুঝে না উঠতেই গুমের পরে হত্যার ঘটনা দলটির সুনাম বিসর্জন হয়েছে বলে জানান তৃণমুলের নেতাকর্মীরা।


খোঁজ নিয়ে যানাযায়, নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী (১৭) হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে । ২০১৩ সালের ৬ মার্চ গুম হওয়ার পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের নির্দেশে গুমের পরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা দীর্ঘদিন তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। দীর্ঘ সাড়ে এগারো বছর পর ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব জানিয়েছিল তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত র‌্যাবকে ৩০ দিনের মধ্যে দ্রুততম সময়ে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচার দাবি:

প্রতি বছর ৬ মার্চ ত্বকীর সমাধিস্থলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দ্রুত বিচার ও চার্জশিট জমা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ত্বকীর পরিবার। হত্যার ১৩ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় বিচার নিয়ে পরিবার হতাশা প্রকাশ করেছে। অপরদিকে বিএনপির সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী রানা বাহিনীর হাতে শুভ গুমের বেপারে তৎপর ছিলেন না প্রশাসন অভিযোগ নিহত শুভ’র পরিবারের। গতকাল নির্যাতনের পর শুভ’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসন। ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ।  

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ রয়েছে। বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শুভকে গুমের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে।

গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাঢ়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালায়। এ সময় জীবন বাচাতে রানা ও কাশেমসহ তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার পর পরই শুভ গুম হয়ে যায়। যা নগরবাসির মাঝে আবারও গুম নিয়ে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। নিহত শুভ’র মা মাকসুদা বেগম জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রানা জড়িত। সে ডেভিডের ভাগ্নে। সে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তারে বার বার বলছি আমার ছেলেরে ফিরিয়ে দেও কিন্তু দিল না। পুলিশও আমাদের সঙ্গে ছয় নয় করেছে। পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে।

নগরবাসীর মাঝে আলোচনা হচ্ছে যেই ভাবে ২০১৩ সনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানভীর মোহাম্মদ ত্বকীকে গুমের পরে ওসমান পরিবারের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা নদীতে ফেলে দেয়। একই ভাবে সন্ত্রাসী রানার বাহিনী শুভকে গুম করে নির্যাতনের পর হত্যা করে। তাই সচেতন মহল বলছে ডেভিডের ভাগিনা সাখাওয়াত ইসলাম রানা ওসমান পরিবারের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছে গুমের পরে হত্যার ঘটনার জন্ম দিয়ে। সেও পুরোনদের মত সন্ত্রাসী কার্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।


৫ আগষ্টের পরে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন মাফিয়া হয়ে অবতীর্ন হন রানা। তাই তাদের কঠোর বিচারের দাবী জানান। যেন ওসমান সম্রাজ্যের মত আর কেউ গুমের পরে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস না পান। এই ঘটনায় মামলার তদন্তকারি ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মিলন জানান,এই ঘটনায় মামলা গ্রহন করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহবায়ক শওকত আলী জানান, একটা ঘটনার পর থেকে খুব আতংকে আছি। বারবার ত্বকীর ঘটনার কথা মনে পড়ছে।  ত্বকীকে যেভাবে প্রথমে গুম করা হয় পরে হত্যা করা হয়। যার বিচার এখনো পাাই নাই। ঠিক একই রকম ভাবে শুভ নামের একটা ছেলেকে প্রথমে গুম করা হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের কাছে গেলে থানা থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রানার হেফাজতে আছে বলে পুলিশ স্বীকার করে পরিবারের কাছে। এবং বলে যে যথাসময়ে চলে যাবে বাসায়। অতচ সে গেলো লাশ হয়ে।


মহানগর ছাত্রশক্তির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের ভুমিকায় আবির্ভাব হয়ে বিএনপি ও তাদের কিছু সহযোগি সংগঠনের নেতারা অপকর্মে জরিয়ে নিজেদের পিছনের কথা ভুলে যাচ্ছে। ত্রাা এখন গুম খুনে মেতে উঠেছে। তারা ভুলে গেছে এটা আওয়ামী লীগের আমল না এটা ৫ আগষ্টের পরবর্তি সময়ের যুগ। আমরা জানতে পারি ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ মামলা নেয় এবং অপরাধী রানাকে পালিয়ে যেতে সুযোগ তৈরী করে দেয়। চিন্তা করে দেখেন কি ভয়াবহ ঘটনা। একটা মানুষ কে মেরে হচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন খুনীকে সহায়তা করছে,জেনে শুনেও কোন ব্যবস্থা নেয় নাই।


নারায়ণগঞ্জ এর এই চিত্র আগেও দেখেছি ওসমান পরিবারের আমলে। ত্বকী সহ এইরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটত, শীতলক্ষ্যায় লাশ ভেসে উঠত। সেই সময়েই কি ফিরে গেলাম আমরা?  এত রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার কে হটিয়ে আবার কি আরেক সন্ত্রাসের রাজত্বে প্রবেশ করলাম আমরা?

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন