আশ্বাস নয়, কাজে প্রমাণ দিচ্ছেন মামুন মাহমুদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
আশ্বাস নয়, কাজে প্রমাণ দিচ্ছেন মামুন মাহমুদ
# বর্ষা শুরুর আগেই ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে নানামুখী পরিকল্পনা
তবে নারায়নগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদকে নিযুক্ত করার পর পরই ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের এই জলবদ্ধতা থেকে ফতুল্লাবাসীকে মুক্ত করতে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন সহ নানান কর্মসূচি করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় বেশ কিছুদিন আগে কাশিপুর গোয়ালবন্দ এলাকায় একটি স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা ছিল দীর্ঘদিন কিন্ত সেই মাঠ এখন খেলার উপযোগী হয়ে উঠেছে জেলা পরিষদের নিযুক্ত প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সহযোগিতায় দলীয় ভাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনটি হাতছাড়া হওয়ার কারনে অনেকটাই চিন্তিত ছিল ফতুল্লাবাসী ভেবেছিল এবার হয়তো পানিতে ঢুবতে হবে।
সকলের সেই ধারনা পাল্টে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। জানা যায়, ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে থাকা ফতুল্লা ইউনিয়নের ইসদাইর, লালপুর, পৌষারপুকুরপাড়, মাসদাইর, গাবতলী এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানি খালটি ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত দুই দশকে দখলের কারনে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। খাল দিয়ে পানি প্রবাহ না হওয়ায় বছরের প্রায় ৯ মাস ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা পানির নিচেই থাকতো। সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কারণে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। গতকাল রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে খাল খনন শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ জানান, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করেন।
সেই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ দিতেই এই সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালের খনন কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং এই এলাকায় আর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী জনমানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বড় কোনো প্রকল্পের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা না করে জেলা পরিষদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের মূল লক্ষ্য। মানুষকে বছরের পর বছর পানিতে ডুবিয়ে রেখে বড় পরিকল্পনার অপেক্ষায় বসে থাকার নীতিতে তারা বিশ্বাসী নন বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।


