Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ইসদাইরের শুভ হত্যাকাণ্ডে ফতুল্লা থানা পুলিশের গাফিলতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

ইসদাইরের শুভ হত্যাকাণ্ডে ফতুল্লা থানা পুলিশের গাফিলতি

ইসদাইরের শুভ হত্যাকাণ্ডে ফতুল্লা থানা পুলিশের গাফিলতি

Swapno


‎# পরিবারের দাবি মামলায় রানার নাম  না দেওয়ার  দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে পুলিশ কর্মকর্তা মিলন ফকির

# পুলিশ  বিরুদ্ধে মামলা নিতে কোন গাফিলতি করেন না শুভ পরিবারের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা - ওসি ফতুল্লা

‎# আমি এমনটি বলিনি তাদের স্বজন হারিয়েছে তাই  পরিবারটি এমনটা বলছে- পুলিশ কর্মকর্তা মিলন ফকির



নারায়ণগঞ্জের সবথেকে আলোচিত  ঘটনা শুভ নামে এক তরুন কে প্রথমে গুম তারপর হত্যাকাণ্ডের মতোনঘটনা ঘটিয়েছে আসামীরা। গত ২৯ তারিখ শুভ নিখোঁজ হওয়ার  পর পরই  যখন শুভর পরিবার ফতুল্লা থানায়   মামলা করতে আসে ,  তখন থানা পুলিশ প্রথমে মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রানার নাম দিতে বাধা প্রদান  করে।


এমনকি রানার কাজ থেকে শুভকে উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করবে এমনটাই যেন।  শুধু তাই নয় গুমের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলন ফকির  শুভর পরিবারকে বার বার বলে আপনারা রানার নাম বাদ দিয়ে অন্য নাম দিন এমনকি সুস্থ ভাবে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও তারা কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।


এমনকি  স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রানা কাছ থেকে শুভনে এনে দেওয়ার কথা জানান তদন্ত করে কর্মকর্তা মিলন ফকির। এমনটাই দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। তারা এটাও দাবি করেছেন ফতুল্লা থানা পুলিশের এমন গাফিলতির কারনেই আজকে শুভকে হারাতে হয়েছে।


এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ মান্নান নাম জানান, আমাদের কোন ধরনের  গাফিলতি ছিল না। আমরা রানার নাম প্রথমেই দিয়েছি। এই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা  এই ঘটনাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছে। সবার পরিবার যে বক্তব্য দিয়েছি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 


অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তার মিলন ফকির জানান,আমাদের কোন ধরনের গাফিলতি ছিলোনা না, তাদের স্বজন হারিয়েছে তাই এমনটা বলছে।তবে এই ধরনের একটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা কি ছিলো। সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ করছে এমনকি শুধু একটি মাত্র ঘটনা নয় বিভিন্ন সময়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের এমন গাফিলতি এবং পক্ষপাতিত্বের কারণে  হারাতে হচ্ছে অনেক মায়ের বুকের মানিককে।


জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর নিখোঁজ থাকা এক তরুণের লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, অপহরণের পর দিনই তার মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হয়। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে দাফন করা হয়। উদ্ধারের সময়কার মরদেহের ছবি দেখে রোববার সকালে পরিবারের লোকজন তাকে শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন।পরিবারের দাবি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীরা ওই তরুণকে অপহরণের পর হত্যা করেছে।


রানা ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়া যুবদলের সেই সময়ের ‘ক্যাডার’ মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। নিহত ২১ বছর বয়সী মাহফুজুর রহমান শুভ ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে।


গত ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় শুভর অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনকে আসামি করেন শুভর মা মাকসুদা বেগম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় তার বড় ছেলে শুভ।


মারধরের পর শুভকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তোলা হয়। ওই ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটিও চালিয়ে যান রানা। এরপর শুভ কিংবা তার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।


এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে তর্ক হয় শুভর। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল বলে এজাহারে বলেন তার মা।


এজাহারে বলা হয়, শুভ আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র মেরামতের কাজ করলেও পরে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েন। অপরাধ কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও শুভর সন্ধান দিতে পারেনি।


এর মধ্যে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত মরদেহের ছবি দেখালে রোববার পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে।


ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে।


রূপগঞ্জ থানার ওসি সালাউদ্দিন বলেন, “৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নীলাফুলা জখম ছিল।” শরীরের এসব জখম হত্যার আগে নির্যাতনের নির্দেশ করছে বলেও জানান তিনি।


মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত হিসেবে রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে বলে জানান ওসি সালাউদ্দিন।


মামলার প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন