Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অপহৃত যুবক শুভ’র মরদেহ শনাক্ত, পলাতক রানা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

অপহৃত যুবক শুভ’র মরদেহ শনাক্ত, পলাতক রানা

অপহৃত যুবক শুভ’র মরদেহ শনাক্ত, পলাতক রানা

Swapno

ফতুল্লার ইসদাইর থেকে মাহফুজুর রহমান শুভ অপহৃত হওয়ার পাঁচদিন পরে রূপগঞ্জে উদ্ধার অজ্ঞাত মরদেহটি তাঁর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, ২৯ মার্চ শুভ অপহরণ হওয়ার একদিন পরই রূপগঞ্জের রাজউকের কবরস্থানে দাফন করা হয় শুভকে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে এবং এই মর্মে অজ্ঞাত আসামী করে আরও একটি হত্যা মামলা হয় রূপগঞ্জ থানা। এদিকে গত ২ এপ্রিল ফতুল্লা থানায় শুভ অপহরণের মামলা হয় যেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামী করে মামলা করে শুভর স্ত্রী পিংকী।


সূত্র জানিয়েছে, শুভ গত ২৯ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যেই মারা যান যেহেতু ৩১ মার্চ অজ্ঞাত স্থান থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করে দাফন হয়। এদিকে শুভর মা মাকসুদা বলছেন,পুলিশ পরশুদিনও বলেছে, আপনার ছেলেকে নিতে চাইলে রানার নাম দিয়েন না, আপনার ছেলেকে বের করে দিচ্ছি। শুভর মায়ের এমন বক্তব্যে শুভর হত্যার পিছনে রানার সংশ্লিষ্ট রয়েছে ঘটনা পর্যলোচনায় প্রতিয়মান হয়।


এদিকে শুভ অপহরণের মামলার পর ফতুল্লা থানা পুলিশের তদন্তকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা এসআই মিলন ফকির শুভর পরিবারকে বরাবর মামলায় রানার নাম বাদ দেয়ার চাপ দেন বিনিময়ে শুভকে ফিরিয়ে দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দেন এমনটাই দাবি করছিলেন শুভর মা। এদিকে রানার দাবি শুভ অপহরণের সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের দাবি,তদন্ত এখনো চলমান নিশ্চিত ভাবে এখনই কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না।


রানা নিজেকে সেইফ করতে এখনো বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছেন। শুভর পরিবারের দাবি,রানা গাঁ ডাকা দেয়ার আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে আইনের আওতায় এনে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাক নাহলে এই রানা এমন হতে পারে দেশত্যাগও করতে পারেন।

শুভ অপহরণ থেকে লাশ উদ্ধার পর্যন্ত অর্থাৎ শুভ হত্যার অনুসন্ধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ।


সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। শুভর স্ত্রী পিংকী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩) ও লাল শুভ (২০)।


তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজনকে গ্রেফতারের পরও শুভ অপহরণের ঘটনা উদঘাটন করতে ব্যর্থ হন পুলিশ। উল্টো মামলার প্রধান আসামী রানাকে বাদ দিয়ে মামলা করার পরামর্শ আসে শুভর পরিবারের কাছে বিনিময়ে শুভ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন বলে অফার আসে। এদিকে ঘটনাচক্রে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।


তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয় এবং পরদিন উপপরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে জানান রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন।


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ‘মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত বা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নীলাফুলা জখম ছিল।’ শরীরের এসব জখম হত্যার পূর্বের নির্যাতনের নির্দেশ করছে বলে জানান তিনি।


মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত অবস্থাতেই রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে বলে জানান ওসি সালাউদ্দিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্যারেজের সামনে সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তর্কের এক পর্যায়ে ছুরি হাতে রানা ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন শুভ।

রোববার তদন্তের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত মরদেহ ছবি দেখালে পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে বলেও জানান। এদিকে, মামলার প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

যদিও শুভর বাবা মো. সোহেলের অভিযোগ, অপহরণের রাতেই থানা পুলিশের শরনাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। তবে, পুলিশের সহযোগিতা পাননি। মামলাও রেকর্ড করা হয়েছে তিনদিন পর।

সোহেল বলেন, “শুরু থেকেই সবার নাম বলছি, কারা তুইল্লা নিয়া গেছে তাদের নামও বলছি। কিন্তু পুলিশ পাত্তা দেয় নাই। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও ধরে নাই। শুরুতেই পুলিশ গুরুত্ব দিলে আমার ছেলেরে হয়তো জীবিত পাইতাম।” তিনি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও জানান।

তবে, তদন্তে কোনো প্রকার অবহেলা ছিল না বলে দাবি করেন ফতুল্লা থানা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে শুরু থেকে ঘটনাটির আপডেট ফলো রেখেছি। সারাদিন পুলিশ কাজ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ভিক্টিমকে উদ্ধার করা আর কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করা।” “সবাই পুলিশের নেগেটিভটা দেখে, কিন্তু আমরা শুরু থেকেই কাজ করেছি”, যোগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা ভিকটিমকে তিনি কখনো দেখেননি বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ‘এই ঘটনার সাথে আমি কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট নই। লোকমুখে শুনেছি, এই ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার যদি মৃত্যু হয়ে থাকে আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’

এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, ‘মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।’ তবে  তদন্তের স্বার্থে আগাম কোন তথ্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন