হকার নামক অভিশাপ থেকে মুক্তির পালা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
হকার নামক অভিশাপ থেকে মুক্তির পালা
নারায়ণগঞ্জ শহরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমল থেকেই বিবি রোডে দাপিয়ে বেড়িয়েছে হকার নামক দখলদারেরা। দায়িত্ব পেয়েই নগরবাসীকে অভিশাপমুক্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক। এদিকে দীর্ঘ কয়েক যুগ যাবৎ হকারদের অত্যাচারে নাজেহাল নগরবাসী। কোনভাবেই এর থেকে পরিত্রান পাওয়া না গেলে ও এবার নগরীতে চৌকস সিটি প্রশাসক ও সাংসদ সদস্য দায়িত্বকে ঘিরে এই অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও গণমাধ্যমের সাথে দফা দফা সভা করেছেন নবাগত প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। নগরকে অভিশাপমুক্ত করতে নগরবাসী ও সকল সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সিটি কর্পোরেশনের গতি বৃদ্ধিতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর অঞ্চলে অফিস করবেন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। দুইজনই চলতি সপ্তাহে হকার ও যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পনায় এগিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে শহরের হকারদের উৎসাহিত করার অভিযোগে হকার্স দলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে মহানগর শ্রমিকদল। বির্তক অভিযোগে এমন কান্ডে রীতিমত আলোচনা সমালোচিত ছিলেন হকার্স দলের নেতাদের বিরুদ্ধে।
যার কারণে হকারদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হকাস দলকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তা ছাড়া গত বৃহস্পতিবার ফুটপাতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন্ করে এবার হকার প্রতিকার চাইছেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু এখনো সরেজমিনে অভিযান পরেনি অভিযান পরলেই দ্রুত হকার উচ্ছেদ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। এবার এই হকার নামক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলেই স্বস্তি¡ ফিরবে নগরে।
তাঁর এই বক্তব্যে আশার আলো দেখেছিল নগরবাসী কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিশ্রুতির সেই অভিযান আজও শুরু হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ২নং রেলগেট, কালিরবাজার, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন এলাকা কোথাও স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ নেই। ফুটপাত পুরোপুরি দখল করে বসেছে ভ্রাম্যমাণ হকাররা। কাপড়, জুতা, ফল, মোবাইল এক্সেসরিজ কী নেই সেখানে! ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ না থাকায় পথচারীদের নামতে হচ্ছে মূল সড়কে।
এতে বাড়ছে ব্যাপক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তা ছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপির নামদারী কিছু চাঁদাবাজ গ্রুপ গত ৫ আগষ্টের পর থেকেই নগরীরর বিভিন্ন পয়েন্টে জায়গা ভাগ করে এসব চাঁদার টাকা উঠাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদের আগে চাঁদার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছিলো। ঈদের আগে উচ্ছেদ হবে না মর্মে জানিয়ে হকারদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি টাকা। ফুটপাত দখল, দুই-তিন লেয়ারে বসা দোকান, অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত দখলে চলে আসা সব মিলিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো কার্যত সরু হয়ে যায়। তা ছাড়া রমজান মাসে সিটি কর্পোরেশনে নানা বৈঠকে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছিলেন, ঈদের পর আর হকারদের বসতে দেওয়া হবে না।
একদিকে রয়েছে জীবিকার প্রশ্ন, অন্যদিকে নগর শৃঙ্খলা রক্ষা। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করেই সমাধান খুঁজতে হবে। হকার ও অটোরিক্সার কারণে শুধু যানজটই নয়, নগরজীবনের নানা দিকেও প্রভাব পড়ছে। জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো পৌছাতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ও পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন সড়ক ও ফুটপাতের সীমারেখা একাকার হয়ে যায় । বর্তমানে এর থেকে পরিত্রানই নগরবাসীর বড় স্বপ্ন যা বাস্তবায়ন হওয়া প্রায় জরুরী।


