রাত নয়টার পরেও দোকান খোলা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ছয়টায় দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে রাত আটটা পর্যন্ত ব্যবসার করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা। সন্ধ্যা ছয়টার পরিবর্তে রাত আটটা পর্যন্ত ব্যবসা করতে চাইলে ও রাজধানীর লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জে রাত নয়টার পরেও মার্কেট জমজমাট খোলা ও বিলবোর্ড জ্বালিয়ে ব্যবসা চলমান রেখেছে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিউজ ও নোটিশের মাধ্যমে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে দোকানিদের সতর্ক করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো মার্কেট-দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সবাই এই তীব্র গরমেও বিদ্যুৎ পাবে। যাকে ঘিরে নির্দেশনা থাকলে ও নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৭০ টা মার্কেট রয়েছে কেউ এই নির্দেশনা মানতে রাজি নয়।
গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) শহরের চাষাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ঘড়ির কাটায় রাত নয়টা পার হলেও নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা অধিকাংশ দোকান ও শো-রুম বন্ধ হয়নি। হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দোকান ও মার্কেট বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও সিরাজউদ্দৌলা সড়কেও দেখা গেছে একই চিত্র। পাশাপাশি ফুটপাতে সকল ভাসমান দোকান মানেনি ডিপিডিসির দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা। যাকে ঘিরে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে চাষাড়া এক শো-রুমের ম্যানেজার যুগের চিন্তাকে বলেন, মূলত বিকালের পর থেকে আমাদের বিক্রি শুরু হলেও সন্ধ্যার পর থেকে বিক্রিটা জমজমাট থাকে। এছাড়া অধিকাংশ অফিস বন্ধ হয় আটটা বাজে তখন দেখা যায় কয়েকটি কাস্টমার আসে ক্রয়ের জন্য। এখন যদি আমরা দোকান আটটার মধ্যে বন্ধ করে ফেলি তাহলে কিভাবে। তবে হ্যা আমরা দোকানের লাইট মাত্র ২টি জ্বলিয়ে রেখেছি। আর সব গুলো বন্ধ করে দিয়েছি।
চাষাড়া এক দোকানদার হাবিবুল্লাহ বলেন, এখন কাষ্টমার যদি দোকানের ভিতর কেনাকাটা করতে থাকে সেই অবস্থাতে তো আর দোকান বন্ধ করা যায় না। ১০ মিনিট বা আধা ঘন্টা লেট হতেই পারে। আর এখর যে গরম চলছে সেই অবস্থাতে তো কাষ্টমার দিনের বেলায় দেখাই যায় না, বেশিরভাগই সবাই এখন সন্ধার পর আসে। এখন আমাদেরও তো লাভ আছে, বন্ধ করে দিলে আমরা চলবো কিভাবে।
কসমেটিকস দোকানের মালিক বলেন, একটু পরই দোকান বন্ধ করে দিবো। সন্ধ্যা ৬ টার কথা বলা হয় রাত আটটায় ও দোকান বন্ধ করা সম্ভব নয়। আর ৮ টায় সময় দোকান বন্ধ করলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। কারন সন্ধ্যার পর থেকেই কাস্টমার আসতে শুরু করে। মাত্র ৩ ঘন্টায় কি বিক্রি করবো বলেন। আবার সকালে যে একটু তাড়াতাড়ি দোকান খুলবো। তারও উপায় নেই। তখন কাস্টমার আসে না।
এ বিষয়ে জানতে ডিপিডিসি অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনকলটি রিসিভ করেননি।


