Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

স্বেচ্ছাসেবকদল আহ্বায়ক রানার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তার ৩

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্বেচ্ছাসেবকদল আহ্বায়ক রানার  বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তার ৩

স্বেচ্ছাসেবকদল আহ্বায়ক রানার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা, গ্রেপ্তার ৩

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা ওরফে ‘ভাগিনা রানা’। আওয়ামীলীগ পতনের পর ৫ আগষ্টের পর থেকেই শহরজুড়ে বিভিন্ন সময় একের পর এক সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেকে বেপরোয়া হিসেবে কুখ্যাতি ছড়ান। এদিকে রানার সকল অপকর্মের অন্যতম পুঁজি হচ্ছেন ক্রস ফায়ারে নিহত তার মামা মমিনুল্লাহ ডেভিডের নাম।


কারণ তৎকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রভাবশালী বিএনপির যুবদলের নেতা ছিলেন ডেভিড। কিন্তু আওয়ামীলীগ পতনের পর বিএনপির উত্থান ঘটলে সেই ডেভিডের ভাগিনা ওরফে ‘ভাগিনা রানা’ শহরজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে চাঁদাবাজি,জমি দখল,বাস স্ট্যান্ড দখল,মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এমনকি মানুষকে ঘুম কেরে অপহরণের মত ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।


এদিকে ৫ আগষ্টের পর নারায়ণগঞ্জের বাস টার্মিনাল দখল করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে শহরকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিলেন। এছাড়া চাষাড়ায় অবৈধ ভাবে ভাড়া নেয়ার নামে জমি দখল করে জামায়াত নেতাকে মারধর করে দেশব্যাপী বিএনপির সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু তকমায় সমালোচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি শুভ নামে এক ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ঘুম করেছেন এমন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে।


মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে সন্ধ্যায় শাকিল তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন আসামি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এপাচি মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর থেকে শুভ নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


শুভর মা মাকসুদা বেগম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছে এবং আসামিরা তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। এদিকে মামলায় আসামী করা হয়েছে, মো. শাকিল (২৫), সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৪০), ওয়াসিম (১৯), আব্দুর রাজ্জাক (৫০), দিপু (২৩), লাল শুভ (২২), জাহিদ (৪০) ও বিলকিছ (৩২)সহ আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। তাদের সবার বাড়ি ফতুল্লার ইসদাইর বস্তি এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও মহসিন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের সন্ত্রাসীদের আতুড়ঘর এবং শহরে শহরবাসীর আতঙ্ক শাখাওয়াত ইসলাম রানাকেই দুষছেন ভোক্তভোগী পরিবার। কিন্তু বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় প্রকাশ্যে রানার নাম উচ্চারিত করছে না ভুক্তভোগীর পরিবার। এছাড়া ভাগিনা রানাই এই ইসদাইর-চানমারী বস্তির মাদক ব্যবসায়ীতের অন্যতম শেল্টারদাতা শুভ অপহরণের সাথে এবং মামলায় উল্লেখিত সকলেই মাদক ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত। পরিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই রানা ইন্দনেই শুভকে অপহরণ মারধর শেষে ঘুম করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, আওয়ামীলীগ পতনের পর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল দখল এবং একটি বাস কোম্পানী বন্ধন বাসের জোরপূর্বক চেয়ারম্যান হতে ভাগিনা রানার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক বৃহৎ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে শহরে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ভাগিনা রানা শহরে মূর্তিমান এক আতঙ্ক হয়ে উঠেন। সেই সাথে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সেক্টর দখল নিতে গিয়ে ভাগিনা রানা বিএনপির সমর্থকদের কথায়  কথায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে রাখতেন।


অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ার সন্নিকটেই একটি জমি ভাড়া নিয়ে মালিকানা দাবি করে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিতে থাকা জামায়াত নেতা সাঈদকে দিনের আলোতে লোকালয়ে প্রকাশ্যে তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এদিকে বছরজুড়েই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে শহরবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা ওরফে ভাগিনা রানা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন