তিন মাসে ২৮ হত্যাকাণ্ড
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও একের পর এক খুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তার সাথে ভয়াবহভাবে যুক্ত রয়েছে মাদক বিক্রির মহোৎসব ও কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাৎ। জেলার থানাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের। গত ৩ মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২৮টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে কয়েকটি হত্যাকান্ড অত্যন্ত নৃসংশ।
ভুক্তভোগী অনেকেই হতাশ হয় যখন দেখে পুলিশের অসাধু কর্মকর্তার সাথে খোশ গল্পে মেতে থাকে চোরাইল তেল ব্যবসায়ি, চাঁদাবাজ, ভূমিদূস্য, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতারা। মোট কথা আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বিগ্ন জেলার সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, পুরো জেলায় প্রধান দুই সমস্যা হচ্ছে মাদক ও কিশোরগ্যাং।
এরমধ্যে সদর উপজেলায় কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাত আতঙ্ক ছড়িয়েছে সর্বত্র। কিশোরগ্যাংয়ের উৎপাতে প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মানুষ। গত ২০২৬ সালের ৩ মাসে একাধিক ঘটনায় ২৮টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্য সব থেকে বেশি রূপগঞ্জ ও ফতুল্লায় হত্যাকান্ডের ঘটনা বেশি। এরমধ্যে গত ৩ মাসে সদর থানায় ৩টি, সোনারগাঁয়ে ৩টি, আড়াইহাজারে ১টি ও রূপগঞ্জে ৭টি এবং বন্দরে ৪টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
১৬ জানুয়ারী চোরের ছুরিকাঘাতে আমেনা বেগম নামে এক গৃহবধূ এবং গণপিটুনিতে মেহেদী হাসান নামে এক চোর নিহত হন। ৩১ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভায় দলীয় কর্মসূচির তালিকায় নাম আগে পরে দেওয়া বাগবিতণ্ডার জেরে এক যুবদল কর্মীর ঘুষিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজহার নিহত হয়েছেন। ১১ জানুয়ারী দস্যুতা ও ডাকাতির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে রিপনকে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নাম্বার রেলগেইট এলাকায় মাদকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেলে আল আমিন (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
গত ৬ জানুয়ারী শহরের আমলাপাড়ায় পরী বিউটি পার্লার থেকে হত্যাকান্ডের শিকার কামরুন নাহার ইতির লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের রহস্য উঠে আসলে স্বামীকেই মূল হোতা হিসেবে পাওয়া যায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদীতের নাঈম (২২) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারী বন্দর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে দুলাল নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া মার্চ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশি একটি অবনতি হয়নি রমজান মাস ও ঈদকে ঘিরে এই মাসে হত্যা কান্ডের ঘটনা সারা জেলায় ৫টি এর মধ্যে ফতুল্লা থানা ৩টি, সিদ্ধিরগঞ্জে ১টি এবং রূপগঞ্জে ১টি। ৬ মার্চ ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যাড়া বাহিনীর প্রধান তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবুকে পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
১৮ মার্চ ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় গৃহবধূ সাবিনা বেগম ওরফে চম্পা (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মরাদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি নিহতের স্বামী মো. হামিদুল ইসলাম ওরফে রনি (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। গত ৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনিতে একজনকে পিটিয়ে হত্যা। মার্চ মাসের শেষ দিনে ও ৩১ মার্চ রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় মাসুম মিয়া (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়। এদিকে ইতিমধ্যে জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হলে ও মার্চ মাসে ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধীরে কঠোর পথে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনই বার্তা আসছে।
ঘটনাগুলো দাম্পত্য কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক, যৌতুক, মাদকাসক্ত, আধিপত্যবিস্তার এসব বিষয় হত্যাকাণ্ড গুলোর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে। এসকল ঘটনা বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতা তৈরী করতে হবে। কিশোর গ্যাং এর উৎপাতের বিষয়ে বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের আরাজকতা আগের তুলনায় কমেছে। আমরা কিশোর গ্যাং এর উৎপাত রোধে অভিযান চলমান রয়েছে।


