রেন্ট-এ-কারের মাসিক চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগির অডিও ভাইরাল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
রেন্ট-এ-কারের মাসিক চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগির অডিও ভাইরাল
চিটাগাংরোড রেন্ট-এ কার মালিক সমিতির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কমিটি বাণিজ্য এবং মাসিক চাঁদাবাজির অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। গত ২৭ মার্চ চিটাগাংরোড রেন্ট-এ কার মালিক সমিতির কমিটি গঠন করেন যেখানে অনুমোদন দিতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি। এদিকে কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে টিটু চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমকে। কিন্তু টিটু চৌধুরী পুলিশের সোর্স এবং আওয়ামীলীগের সময়ও আওয়ামীলীগ নেতাদের নেতৃত্বে কমিটিতে বহাল ছিলেন। এছাড়া পুরো কমিটি অধিকাংশরাই আওয়ামীলীগ সময়ে কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন।
কিন্তু টিটু চৌধুরী বর্তমান কমিটি অনুমোদনের পূর্বে মালিক সমিতি বা গুটি কয়েক মালিকদের নিয়ে একটি হোটেলে মিটিংয়ে বসেন আর এই মিটিংয়ের প্রায় ৪৫ মিনিটের কথোপকথন ফাঁস হয়। যেখানে মনিরুল ইসলাম রবির ছেলের মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম রবির তদবীরে বর্তমান কমিটি ভাগিয়ে নিবেন বলে আলোচনা করেন। সেই সাথে কমিটি ভাগাতে এককালীন ৩লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে টিটু মিটিংয়ে বলেন। এছাড়া মাসিক ১ লাখ ৫০ হাজার দাবি করলেও পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম রবি ১ লাখ ২০ হাজার নির্ধারণ করে দেন।
এদিকে মাসিক টাকার উপর স্ট্যান্ড থেকে প্রতি গাড়ি প্রতি ২ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা উঠাবেন বলে বরাবর তিনি মিটিংয়ে উল্লেখ করেছিলেন। অপরদিকে মনিরুল ইসলাম রবি কমিটি অনুমোদন দিলেও তার বক্তব্য নেয়া হলে তিনি বলেন কমিটি তিনি দেননি কমিটি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব। এদিকে মনিরুল ইসলাম রবি দাবি করেন তাকে প্রধান উপদেষ্টা করা হবে এই মর্মে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। অথচ কমিটিতে তিনি কোন পদে নেই। সেই সাথে কমিটিতে উপদেষ্টা পদে থাকা অনেকেই জানেন না তাদের কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
রবি ভাই এমপি সাহেবের মেইন হাত আমাদের গুরু সবকিছু রবি ভাই বলছে টিটু প্রতিমাসে ১ লাখ ৫০ হাজার না ১ লাখ ২০হাজার করে দিয়ে দিও। টিটু আরও বলেন, স্ট্যান্ডে গাড়ি আছে ১৮০গাড়ি হেরা বলে ২৫০ গাড়ি খাতায় দেখলাম। আমি যে চালান খাটায়লাম আমার চালান উঠামু কবে? জবাবে বিপরীতে প্রান্ত থেকে অপর একজন বলেন ভাতিজা সজীবের পর্যন্ত টাকা যায় সজীবেত ২০-৩০হাজার টাকা খাইত না। টিটু বলেন,ভাই আমি বলি মোটা একটা টাকা যে যাইব এই পর্যন্তই শেষ যদি যায়ও আমি কিছুটা বুঝতে পারছি। হয়ত ৫০হাজার যাইব বাদ বাকি সাইডে সিডায়বো হেরাই খাইব আমরা বুঝি বুঝি বলে কিছু না।
ভাত একটা টিপ দিলে বুঝা যায়। আমার কথা হইল আমার কথা হইছে আপনারা বইলা যদি কিছু কমায়তে পারেন তাহলে আমি হাত দিব। আচ্ছা টাকাটার গেরান্টার রবি ভাই এমপি সাহেবের পোলারে দেয় কিনা আমরা দেখমু না। হেয় টাকা নিব পরে এমপি সাহেবের পোলার কাছে এই টাকা না গেলে এমপি সাবের পোলায় আবার পোলাপাইন পাঠায়বো জায় জামেলা হইব আমরা এভাবে দিমু টাকা। অপর প্রান্ত থেকে আরেকজন বলেন,সজীব কাকায় টাকা চাইয়া থাকে হেগরতে নেক। আমাগো লইয়া যাইতে হইব টাকা আমাগো হাতে দিমু সামনে থাকমু সিল-ছাপ্পর মাইরা আনমু।
কথা আছে টাকাটা আসলে এমপি সাহেবের পোলার হাতে যায় কিনা বিপদে পড়লে আমাদের হেল্প করব কিনা পরে টাকা তুইলা দিমু হেগ চাঁদাবাজির মামলা খামু আমরা? টাকা যদি ১লাখ ৫০হাজার হেগ দিমু ৫০হাজার এমপির পোলার হাতে গিয়া আমরা বুঝায় দিয়ামু। আমরা টাকাটা দিলে একটা ডকুমেন্টস থাকব। টাকাটা আমরাই দিতাছি কোন বিপদ আপদ হইলে আমরাই বলমু ফোন দিমু ভাই আমাদের হেল্প করেন।
রবি ভাই কি মুখ দিয়া বলছে ১লাখ হেন বাকি ২০ হাজার হেরা খাইব। ১লাখ টাকা যদি এমপির পোলারে দিতে হয় আমি দিয়া দিমু হেগ হাতে দিমু কে? আমার স্ট্যান্ডের টাকা আমি উঠায়া মাসে মাসে দিমু আমার আন্ডারে থাকল আমি টাকাটা দিমু টাকাটা হেরা দিল না তখন এমপি সাহেবের পোলার হুলিয়াডা খাইলে আমরা খামু। হয় ডাইরেক্ট কাম করমু নাইলে আমরা নাই,শর্তে রাজি আছে কিনা জিগায় লন।


