ফুটপাতের হকারদের কোটি টাকা কার পকেটে ?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফুটপাতের হকারদের কোটি টাকা কার পকেটে ?
# হকারদের থেকে চাঁদা নেওয়া গ্রুপটাকে খুঁজে বের করতে হবে : এমপি কালাম
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করা হচ্ছে। বিএনপির নামধারী একটি মহল বিভিন্ন পয়েন্টে জায়গা ভাগ করে এসব চাঁদার টাকা উঠাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এ চাঁদার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে উচ্ছেদ হবে না মর্মে জানিয়ে হকারদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। ফুটপাত দখল, দুই-তিন লেয়ারে বসা দোকান, অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত দখলে চলে আসা সব মিলিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো কার্যত সরু হয়ে গেছে। এদিকে শহরবাসীকে স্বস্তি¡ দিতে ও শহরে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। ইতিমধ্যে হকারদের সঙ্গে বৈঠক করে ঈদের আগমুহুত্ব পর্যন্ত ফুটপাতে বসার অনুমতি দিলে ও রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ফুটপাতে কোন চৌকি, ভ্যান গাড়ি বসানো যাব না বলে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া পলি বিছিয়ে ৩ ফুটের মধ্যে বসার নির্দেশনা দেওয়া হলে ও কোন মতেই মানতে রাজি নয় হকাররা। তারা সিপি কর্পোরেশনের বৈঠকে ও হট্টগোল করে এসেছেন বর্তমানে ও প্রশাসকের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজ নিজ ইচ্ছমতোই বসানো হয়েছে হকার।
এদিকে মিশনপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব পর্যন্ত লাইটসহ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করা কে সেই বিএনপি নেতা। তা ছাড়া প্রশাসকের হুঙ্কারে ও হর্কাস শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বিল্লাল কিভাবে নিজ ইচ্ছামতোই বিশৃঙ্খলভাবে ফুটপাত/রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদা তুলতে পারে তা নিয়ে ও নানা প্রশ্ন উঠছে। একই সাথে কালীরবাজার রোডে হর্কাস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মূসা মিয়া কিভাবে এখনো দোকানের উপরে দোকান বসিয়ে যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। তা ছাড়া সিরাদৌল্লাহ রোড পুরোই ছোট শারজাহানসহ অনেকেই বিগত দিনের মতোই সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন সবই। তা ছাড়া ইতিমধ্যে চাষাড়া, বালুর মাঠসহ শহরের সর্বক্ষেত্রে কোটি কোটি হকার চাঁদাবাজি হচ্ছে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন কে তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
এদিকে হকার সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকের আইনশৃঙ্খলা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “২০০১ সালে হকারদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা আমরা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। সেই জায়গায় যারা বরাদ্দ পেয়েছিল তারা আসলেই এখনো আছে কিনা, না থাকলে তাদেরকে কেন আমরা রাখবো, এই বিষয়ে সমাধানে আসতে হবে। শুধু হকার সমস্যা না, এখানে চাঁদাবাজিও চলছে। হকাররা যারা বসে, তারা এই চাঁদাটা দিয়েই বসে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে কেউ না কেউ আছে তারা সাপোর্ট আর নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই গ্রুপটাকে খুঁজে বের করতে হবে।” বর্তমানে দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা সিদ্ধান্তের পরে ও রমজান মাসে কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না হকার তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। তা ছাড়া ফুটপাতে হকারদের কোটি টাকা কোন বিএনপি নেতার পকেটে তা নিয়ে উঠছে তোলপাড়। এদিকে বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা বিগত দিনে চাঁদা দিয়েই এসব দোকান পরিচালিত হতো। চাঁদার টাকার পরিমাণে ভিন্নতা ছিল। যারা শরবত বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। যারা ডিম বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ১০০-২০০ টাকা। চটপটি দোকানিকে ২০০ টাকা, যারা বড় করে জামা-কাপড়, জুতা, ইলেক্ট্রনিক্স দোকান, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফলের দোকান তাদের দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। হকারদের দাবি, এ চাঁদা যায় বেশ কয়েকজন হকার নেতা ও রাজনৈতিক নেতার পকেটে। এছাড়াও ফুটপাথ ঘেঁষে ভ্যানগাড়ি নিয়েও ভাসমান দোকান বসিয়ে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করে যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। হকারদের একাধিক সূত্র জানান, চাষাঢ়া হতে কালীরবাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ৮টি পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া আছে। এসব পয়েন্ট হতে বিভিন্নস্তরের বিএনপি নেতাদের নামে টাকা উঠে। কালীরবাজার পুরাতন কোর্ট সড়কের হকারদের নিয়ন্ত্রন করে দুই। কালীরবাজার ওষুধের দোকানের সামনের দোকান নিয়ন্ত্রন করেন তিনজন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব হতে দুই নং গেট ও ১নং গেট পর্যন্ত সড়ক ৪ জন ও ডিআইটিতে সড়কের ফুটপাত নিয়ন্ত্রন করেন ৪ জন। হকারদের সূত্রে জানা গেছে, জীবন বীমা করপোরেশনের সামনে থেকে সাধু পৌলের গির্জা হয়ে সাবেক গ্রীন্ডলেজ (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক মোড় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলকারী হকার ছিল অন্তত পাঁচ শতাধিক। এসব হকারদের কাছ থেকে আকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তা ছাড়া কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে হকার সমস্যা তা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
তা ছাড়া অবৈধ এই হকার্সদের নিয়ে কথা বললেই মহানগর হকার্স শ্রমিক দলের সভাপতি ফুঁসে উঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া ও জানা গেছে, হকার্স শ্রমিক দলের নিয়ন্ত্রণে এবং তাদের নির্দেশনায় গত ৫ আগষ্টের পর থেকে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়ক ও দখলে নিয়েছে একদল হকার্স। এদিকে স্থানীয় সচেতনমহলের মতে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত থেকে যদি হকারদের সরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে শহরকে অচল করে দেওয়ার মতো যে সমস্যা অর্থাৎ যানজটও প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। যদিও অনেকেই হকারদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তর্ক দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে পড়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাদের অনেকেই মানবতার চেয়েও আর্থিক লব্দিকে পুজি করে এধরণের অবস্থান নিয়ে থাকেন। তা ছাড়া বর্তমানে হকার্সদের বিরুদ্ধে পড়ছে না কোন অভিযান। যাকে ঘিরে দিনে দিনে তাদের বেপরোয়াতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।


