ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অনড় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক
বিশৃঙ্খলার পায়তারায় হর্কাস শ্রমিকদল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিশৃঙ্খলার পায়তারায় হর্কাস শ্রমিকদল
নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিয়ে যত আলোচনা, তার কেন্দ্রে একটিই শব্দ হকার। ফুটপাত দখল, দুই-তিন লেয়ারে বসা দোকান, অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত দখলে চলে আসা সব মিলিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো কার্যত সরু হয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। ফলাফল প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা নগরবাসী। এমতা অবস্থায় নগরবাসীকে স্বস্তি¡ দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান হকারমুক্ত ফুটপাত রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে দ্রুত উচ্ছেদ কর্মীদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছাড়া ফুটপাতে কোন প্রকারের হকার থাকলে ও কোন চৌকি বা ভ্যান থাকবে না বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন প্রশাসক। তার এমন নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে হর্কাস শ্রমিক দলের চাঁদাবাজ গ্রুপ। যাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ফুটপাতসহ বিদ্যুৎ চুরি করে লাইট দিয়ে চাঁদাবাজির একটি চক্র। একই সাথে সরকারি রাস্তা-ফুটপাত বিক্রি করে দোকান বসতে দেওয়ার নজির ও রয়েছে নগরীতে। বিভিন্ন সংগঠনের নামে নিয়মিত চলছে লক্ষ লক্ষ টাকা ফুটপাত চাঁদাবাজি। যাকে ঘিরে নাজেহাল নগরবাসী। এদিকে নবনিযুক্ত প্রশাসক হকার্সদের নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিলে গতকাল দুপুরে হর্কাসদের সঙ্গে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে মব সৃষ্টি পায়তারা করেছিলেন মহানগর হকার্স শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বেলাল খান বিল্লাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. মূসা মিয়া। যাকে ঘিরে তারা হর্কাসদের নিয়ে মিছিল যোগে সিটি কর্পোরেশন বরাবর যান এবং সর্বশেষ সেখানে গিয়ে প্রশাসককে না পেয়ে ফের ফিরে আসেন। এদিকে হর্কাসরা জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশন কোন অভিযান দিলে আমরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে আন্দোলন করবো। এই রমজান মাসে এবং কিছুদিন পরবর্তীতে ঈদ আমরা এমতা অবস্থায় কোন সমস্যা হোক চাই না। কোন প্রকারের অভিযান হলে আমাদের মহানগর হকার্স শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বেলাল খান বিল্লাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. মূসা ভাই সেই অভিযান পাত্তা না দিয়ে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নির্দেশনা দিয়েছেন। যদি হর্কাস নিয়ে কোন কথা থাকে আমরা ঈদের পর বসে সেই বিষয়ে আলোচনা করবো এমনটাই জানিয়েছেন বেলাল ও মূসা ভাই। সেই হিসেবেই আমরা কাজ করবো। আমরা কোন অভিযান এখন মানবো না।
তা ছাড়া পথচারীরা জানিয়েছেন, ফুটপাত ও রাস্তা হকারদের কাছে জিম্মি থাকার কারণেই প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের। দখলের একদিকে রয়েছে ফুটপাত, অন্যদিকে মূল সড়ক। ফুটপাত ও সড়ক জুড়ে হকারদের দখল যাকে ঘিরে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খলা থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হচ্ছে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকসহ সাধারণ জনগণ।
সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ এই হকার্সদের নিয়ে কথা বললেই মহানগর হকার্স শ্রমিক দলের সভাপতি ফুঁসে উঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া ও জানা গেছে, হকার্স শ্রমিক দলের নিয়ন্ত্রণে এবং তাদের নির্দেশনায় গত ৫ আগষ্টের পর থেকে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়ক ও দখলে নিয়েছে একদল হকার্স। এদিকে স্থানীয় সচেতনমহলের মতে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত থেকে যদি হকারদের সরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে শহরকে অচল করে দেওয়ার মতো যে সমস্যা অর্থাৎ যানজটও প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। যদিও অনেকেই হকারদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তর্ক দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে পড়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাদের অনেকেই মানবতার চেয়েও আর্থিক লব্দিকে পুজি করে এধরণের অবস্থান নিয়ে থাকেন। তা ছাড়া বর্তমানে হকার্সদের বিরুদ্ধে পড়ছে না কোন অভিযান। যাকে ঘিরে দিনে দিনে তাদের বেপরোয়াতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইন অবৈধভাবে দিয়ে ৫০/৬০ টাকা করে উঠাচ্ছে একদল প্রভাবশালী। একই সাথে হার্কস শ্রমিক দলের নামে চাঁদাবাজি এমনকি দোকানের পজিশন বিক্রিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে শহরের হকার্সসহ হকার্স নেতাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দাপটে আগামী রমজানে আরো বেশ কয়েকটি দোকান বাড়িয়ে ফুটপাত দখলের পায়তারা করছে একটি গ্রুপ এই সকল দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত চায় নগরবাসী। তা ছাড়া রাজনীতিবিদ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার প্রায় সবাই একবাক্যে বলেন, হকার বসা-ই যানজটের প্রধান কারণ। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিছু সময়ের জন্য রাস্তা ফাঁকা হয়, স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের চিত্র। প্রশ্ন ওঠে—যখন সমস্যার উৎস সবাই জানেন, তখন স্থায়ী সমাধান আসছে না কেন?
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই হকারের বিস্তার। তার মাঝে ১৫ মাস যাবত সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সংস্কার নগরবাসির বিরক্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। আর শহরের এমন কোন সড়ক নেই যেখানে অটোরিক্সার দৌরাত্ম্য পাওয়া যাবে না। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেইট সহ গুরুত্বপূর্ন মোড়ে অন্তত ৮/১০ টি করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে ইজিবাইকগুলো। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। আর ফুটপাতগুলো পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন তা হকারদের স্থায়ী দখলে চলে গেছে। হকাররা এখন বঙ্গবন্ধু মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে।
ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সদ্য নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান শহরের যানজট ফুটপাত হকার দুরী করনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে তিনি ৬০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মিশন নিয়ে কাজ করার জন্য মাঠে নামছেন। তাই তার কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা তিনি যেন শহরের এই সমস্যা দূর করেন। সেই হিসেবে ইতিমধ্যে নতুন প্রশাসক কাজ শুরু করলে ও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হর্কাস শ্রমিক দল। বর্তমানে বিভিন্নভাবে নগরীতে হর্কাস উচ্ছেদে মব সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলার পায়তারা করছে এরা।


