নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোট ছিল ফ্যাক্টর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোট ছিল ফ্যাক্টর
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন এবং একটি আসনে জামায়াত ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ১১দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী। এরমধ্যে প্রতিটি আসনেই ৫০ থেকে ৬০শতাংশ ভোট পড়েছে। আর এই ৫০-৬০ শতাংশের ভোটের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের জোটের প্রার্থীদের তুমুল লড়াই ছিল ভোটের সর্বশেষ ফলাফলে গিয়ে ব্যবধান বিভেচনা করে জয় পরাজয় নিশ্চিত হয়েছিল।
কারণ ভোটাররা দলীয় প্রতীক এবং প্রার্থীদের বিভেচনা করে ভোট দেননি দেশের বর্তমান প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামের বিগত সময়ের কর্মকান্ডের আমলনামাকে প্রধান্য দিয়ে ভোট প্রয়োগ করেছেন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এবং জয়ের ব্যাপারে আশবাদ থাকলেও তাদেরকে সাধারণ ভোটাররা কোন ক্রমেই গ্রহণ করেননি।
বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামের জোটের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) রূপগঞ্জ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট।
এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আড়াইহাজার আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) এই আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম (মান্নান) ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট।
এখানে ভোটের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ-৪ (নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) এ আসনে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরিক দলের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। এদিকে আল আমিন ১১দলীয় জোটের থেকে এনসিপির প্রার্থী হয়েও বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীসহ হেভীওয়েট তিনজন প্রার্থী শাহ আলম,মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেন আল আমিন।
কারণ আল আমিনকে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীসহ হেভীওয়েট তিনজন প্রার্থী শাহ আলম,মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেই বিভেচনা করেনি। কিন্তু ভোটের ফলাফলে উক্ত আসনে এমপি থাকা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলীর মত প্রার্থীদের পিছনে ফেলে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) এ আসনে বিএনপির আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ১৯৬ ভোট। ভোটের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন বিএনপির প্রার্থী মোস্তফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সড়ে গিয়েছিলেন।
তারপরও তিনি ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন নির্বাচনী ফলাফলে তার মার্কা থেকে যাওয়ায়। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন আতাউর রহমান খাঁন আঙ্গুর তিনি নিজেকে ভোটের মাঠে উপস্থাপন করে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাড়িয়ে জয়ের বার্তা প্রচার করে ভোটের মাঠে টিকে ছিলেন।
কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদের ১ লাখ ২৪ হাজার ২শত ৯১ ভোটের কাছে ১৮হাজার ৭শত ৪৪ ভোটের লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং রেজাউল করিম। তাদের প্রত্যাশা বিএনপির মনোনয়নে তার সাংসদ হয়েছিলেন সেসময়ের ভোট ব্যাংক এবং কৃতকর্মের জন্য জনগণ তাদের ভোটে মূল্যায়ন করবেন।
সেই আলোকে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দুজনই জনগণের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরাজয়ের বিভিন্ন আলোচনা ভোটের আলোচ্য বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করলেও শেষতক নির্বাচনীই ছিলেন না রেজাউল করিম ভোটের মাঠে তার অবস্থান তলানীতে থাকায় ভোট বর্জন করে ফেলেন।
এদিকে নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন টিকে থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ভোটের মাঠে আলোচনায় থাকলেও ভোটের ফলাফলে দেখা মিলেছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নূন্যতম ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী ছিলেন মনির হোসেন কাশেমী তার বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,শাহ আলম,মোহাম্মদ আলী নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোভাব প্রকাশ করলেও ভোটের ফলাফলে দেখা মিলেছে এসকল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ বিজয়ী হওয়া ১১দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির প্রার্থী আল আমিনের ভোটের ফলাফলে নূন্যতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হতে পারেননি। উল্টো তাদের ভোটের ভাগাভাগির কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর ভোটের ফলাফলে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে। যার কারণে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির প্রার্থী আল আমিনের নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম তার বিপরীতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। কিন্তু নির্বাচনী ভোটের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের ভোটের ফলাফল ছিল লজ্জাজনক। এদিকে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুন প্রায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রেই আবুল কালামের সাথে ভোটের ফলাফলে লড়াই করেছেন জয়ের পথেও ছিলেন। শেষতক আবুল কালাম জয়ী হন। এতে করেই বুঝা যায় এবার নির্বাচনের ফলাফলে ভোটের ফলাফলে মার্কা এবং ব্যক্তি ফ্যাক্টর হয়নি। ফ্যাক্টর ছিলেন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোট ছিল ফ্যাক্টর।


