Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ফ্রেস ব্র্যান্ডের বিষাক্ত চিনিতে বাজার সয়লাব

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Swapno

দেশে ‘সালফার ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ’ নিম্নমানের চিনি প্রস্তুতের দায়ে মেঘনা সুগার রিফাইনারির কর্ণধার ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত। সোমবার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথী এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান নিরাপদ খাদ্য আদালতের এমন আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


খাদ্য পরিদর্শক কামরুল যাচাই বাছাইয়ে পাওয়া তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিটি ‘জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে নিম্নমানের পণ্য’ বিক্রি করছে। এ কোম্পানির চিনিতে ‘চিনির মাত্রা কম ও সালফারের উপস্থিতি’ পাওয়া গেছে।


মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেঘনা সুগার মিলের উৎপাদিত চিনির একটি নমুনায় ন্যূনতম অনুমোদিত ৯৯.৭০ শতাংশের বিপরীতে ৭৭.৩৫ শতাংশ ‘সুক্রোজ’ পাওয়া গেছে। একই চিনির নমুনায় সালফার ডাই-অক্সাইড পরীক্ষায় ০.০৮ পিপিএম পাওয়া যায়। বিএসটিআই মানদণ্ড অনুযায়ী, চিনিতে সালফার ডাই-অক্সাইডের কোনো উপস্থিতি থাকার কথা নয়।
খাদ্য পরিদর্শক কামরুল বলেন, সালফার ডাই-অক্সাইড হলো একটি প্রিজারভেটিভ এবং এটি কৃত্রিমভাবে চিনি সাদা করতে ব্যবহৃত হয়। আর চিনিতে কমমাত্রার সুক্রোজ থাকার অর্থ এতে চিনির বদলে ‘কৃত্রিম মিষ্টি করার উপাদান’ ব্যবহার করা হয়েছে।


এ বিষয়ে মেঘনা সুগারের বক্তব্য জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় মেঘনা গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তবে যোগাযোগ করেও তার আর সাড়া পাওয়া যায়নি।


নিরাপদ খাদ্য আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ ডিসেম্বর ঠিক করেছে।
ফ্রেশ চিনির বিরুদ্ধে মামলায় কী রয়েছে?


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্বপ্ন এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের মধ্য বাসাবো শাখায় পরিদর্শনের সময় ‘ফ্রেশ রিফাইন সুগার’ ভেজাল ও অনিরাপদ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষায় চিনিটি মানসম্মত না পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩ ও ২৬ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে নালিশি মামলা করা হয়, যা একই আইনের ৫৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


গত ১০ নভেম্বর মধ্য বাসাবো এলাকা থেকে ফ্রেশ চিনির নমুনা সংগ্রহ করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। পরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াছ জাহেদী স্বাক্ষরিত সনদে জানানো হয়, ‘ফ্রেশ রিফাইন সুগার’ মানসম্পন্ন নয়।


নমুনা সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের কপি, ক্যাশ মেমোসহ অন্যান্য তথ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সরবরাহ করেন। পণ্যের লেভেলে উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীর নাম–ঠিকানাও উল্লেখ ছিল। নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কার্যক্রম শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে কামরুল হাসান অভিযোগপত্র দাখিল করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন