নারায়ণগঞ্জের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে বৈধ-অবৈধ মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলাচলই যেন শহরকে অন্যতম যানজটের শহর হিসেবে পরিচিত করেছেন। যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যাতায়াতকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে। তা ছাড়া ২নং গেইট থেকে চাষাড়া যেখানে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে গেলে সময় লাগে ৫ মিনিট সেখানে যানবাহনে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। যাকে ঘিরে প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো এবং নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে চাষাঢ়া সরকারি মহিলা কলেজ পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে চাষাঢ়ার মহিলা কলেজ প্রান্তে এই রাস্তার মুখ দখল করে রাখা স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। দুপুরেই শুরু হয় রাস্তার নির্মাণ কাজ।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ে নগবাসীর স্বার্থে এই রোড চালুর লক্ষ্যে চিঠি প্রধান করা হয়েছে। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো এবং নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতেই এই উদ্যোগ। তা ছাড়া ইতিমধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যেই ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রিকশা চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এই সড়ক ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে। তা ছাড়া রোডটি ২০ ফুট চওড়া হবে। ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। আপাতত সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে। সেই হিসেবে আগামী শনিবারের মধ্যে এ রাস্তা দিয়ে ইনশাআল্লাহ রিকশা চলতে পারবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রাস্তাটির উন্নতি করা হবে।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের বিকল্প হিসেবে ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পূর্ব পাশ দিয়ে বিকল্প সড়কের দাবি জানিয়ে আসছিল নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি। সেই লক্ষ্যে সাবেক মেয়র ২০০৭ সালে এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু অংশ আরসিসি ঢালাই দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু পরে রেলওয়ের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন পরবর্তীতে রাস্তার নির্মাণ কাজ চালু হয়।
এদিকে ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই অল্প সড়কে বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে। ঢাকায় না গিয়ে পদ্মা সেতুতে যেতে চট্টগ্রামের দিক থেকে আসা যানবাহন নারায়ণগঞ্জ শহর ব্যবহার করে। ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া ও চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটী নারায়ণগঞ্জের এই অংশটি আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশ হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে শহরে।
রাস্তা নির্মাণ নিয়ে নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শহরের মূল সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সর্বদা এই সড়কে যানজট লেগেই থাকে। যার কারণে শহরে যানবাহনের চাপ কমাতে শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে চাষাঢ়া সরকারি মহিলা কলেজ পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি চালুর উদ্যোগ নিয়ে কাজ ইতিমধ্যে চালু করে দিয়েছি। তা ছাড়া প্রথমে বালু ফেলে পরবর্তীতে বিভিন্ন্স্থানে যেখানে যেখানে কারফিটিং নেই সেখানে করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ে নগবাসীর স্বার্থে এই রোড চালুর লক্ষ্যে চিঠি প্রধান করা হয়েছে। তারপরই কাজ করা শুরু করেছি। রাস্তাটির আয়তন চাষাঢ়া প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার হবে। যা চওড়া হবে ২০ ফুট। রাস্তাটি নির্মাণে ২ নং গেইটের পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত কিছু অংশ ভাঙা হবে। এই সড়কটি চালু হলে শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিকল্প রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে ধন্যবান জানিয়ে নগরবাসী অনেকেই বলছেন, এ রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জের জমি অনেক মূল্যবান। এ জমি দখলে নিতে নানা মহল তৎপর থাকে। কিন্তু সেসব বাধা ডিঙ্গিয়ে তিনি নগরবাসীর স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন।