নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর আশ্রায়ণ প্রকল্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছিল ১৫৬টি ভূমিহীন ও অতিদরিদ্র পরিবারের। সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া ছোট্ট একটি ঘর নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল তাদের। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই স্বপ্ন আজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ঘর থাকলেও নেই পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা, নেই কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা কিংবা মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারই চরম অর্থকষ্টে দিন পার করছে। পুরুষদের অনেকেই অনিয়মিত কাজ করেন, আবার কেউ কেউ বেকার হয়ে পড়েছেন। নারীরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিশুদের শিক্ষার পরিবেশও নেই বললেই চলে। চিকিৎসাসেবার অভাবে ছোটখাটো অসুস্থতাও বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ায় বাসিন্দাদের জন্য।
প্রকল্পের বাসিন্দা রাহিমা বেগম বলেন, “ঘর পাইছি ঠিকই, কিন্তু ঘরে তো আর পেট চলে না। কাজকাম নাই, আয়-রোজগার নাই। অনেক সময় না খাইয়া থাকতে হয়। আমাদের দিকে কেউ তাকায় না।”
আরেক বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। সরকার ঘর দিছে, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখানে নিরাপত্তা নাই, কাজ নাই। রাতে পরিবার নিয়ে ভয় লাগে। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়াও চিন্তায় আছি।”
স্থানীয় কয়েকজন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি চালুর সময় বাসিন্দাদের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে নানা কষ্ট সহ্য করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে গেলেও বর্তমানে অনেক পরিবারই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই এবার তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকদের কাছে।
বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হোক। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের এই মানবেতর জীবনযাপনের কষ্ট উপলব্ধি করে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেন।