Logo
Logo
×

জনদুর্ভোগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা-হকারে দাপটে জিম্মি প্রশাসন

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

ব্যাটারিচালিত রিকশা-হকারে দাপটে জিম্মি প্রশাসন

ব্যাটারিচালিত রিকশা-হকারে দাপটে জিম্মি প্রশাসন

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতের হকার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের দাপটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সিটি করপোরেশন, প্রশাসন। কারণ নারায়ণগঞ্জ শহরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে বসেন হকারা এবং রাস্তাঘাট দখল করে বসেন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা। এতে করে পুরো শহরেই নাকাল হয় ফুটপাতের হকার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের কাছে। যার কারণে একাধিকবার এর প্রতিকার নিরসন নিয়ে ফুটপাতের হকার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের নিয়ে নগর ভবন এবং প্রশাসনের মধ্যে নানা পরিকল্পনা উত্থাপিত হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সূত্র বলছে, ফুটপাতে হকার বসা কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ শাসন আমলে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। কিন্তু এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এর ইন্দনে ছিল ফুটপাতে হকার বসানোর পিছনে কারিগর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার এবং শীর্ষ নেতাদের শেল্টারে চাঁদাবাজদের কারণে এখনো বিএনপি সরকার নেতৃত্ব দিলে একই কায়দায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার এবং শীর্ষ নেতাদের শেল্টারে চাঁদাবাজ চক্র হকার বসিয়ে পুরো শহরকে জিম্মি করে তুলেছেন। রায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করা হচ্ছে। বিএনপির নামধারী একটি মহল বিভিন্ন পয়েন্টে জায়গা ভাগ করে এসব চাঁদার টাকা উঠাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এ চাঁদার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে উচ্ছেদ হবে না মর্মে জানিয়ে হকারদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। ফুটপাত দখল, দুই-তিন লেয়ারে বসা দোকান, অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত দখলে চলে আসা সব মিলিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো কার্যত সরু হয়ে গেছে। এদিকে শহরবাসীকে স্বস্তি¡ দিতে ও শহরে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। ইতিমধ্যে হকারদের সঙ্গে বৈঠক করে ঈদের আগমুহুত্ব পর্যন্ত ফুটপাতে বসার অনুমতি দিলে ও রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ফুটপাতে কোন চৌকি, ভ্যান গাড়ি বসানো যাব না বলে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


তা ছাড়া পলি বিছিয়ে ৩ ফুটের মধ্যে বসার নির্দেশনা দেওয়া হলে ও কোন মতেই মানতে রাজি নয় হকাররা। তারা সিপি কর্পোরেশনের বৈঠকে ও হট্টগোল করে এসেছেন বর্তমানে ও প্রশাসকের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজ নিজ ইচ্ছমতোই বসানো হয়েছে হকার। এদিকে মিশনপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব পর্যন্ত লাইটসহ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করা কে সেই বিএনপি নেতা। তা ছাড়া প্রশাসকের হুঙ্কারে ও হর্কাস শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বিল্লাল কিভাবে নিজ ইচ্ছামতোই বিশৃঙ্খলভাবে ফুটপাত/রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদা তুলতে পারে তা নিয়ে ও নানা প্রশ্ন উঠছে। একই সাথে কালীরবাজার রোডে হর্কাস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মূসা মিয়া কিভাবে এখনো দোকানের উপরে দোকান বসিয়ে যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। তা ছাড়া সিরাদৌল্লাহ রোড পুরোই ছোট শারজাহানসহ অনেকেই বিগত দিনের মতোই সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন সবই। তা ছাড়া ইতিমধ্যে চাষাড়া, বালুর মাঠসহ শহরের সর্বক্ষেত্রে কোটি কোটি হকার চাঁদাবাজি হচ্ছে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন কে তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। আর এই চাঁদাবাজদের কারণেই হকাররা এই শহরকে নাকাল করতে সুযোগ পাচ্ছে। অপরদিকে,  ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সিটি করপোরেশন চেম্বার অব কমার্স একাধিকবার নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শহরে চলাচলের নিয়ম নীতি দেয়া হলেও কখনো মানেননি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা এর নেপথ্যে এক প্রকার চাঁদাবাজ চক্র। ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে নামে বেনামে আওয়ামীলীগ শাসন আমলে প্লেট কার্ড বাণিজ্য একটি চাঁদাবাজ চক্র করে আসলেও বিএনপির শাসন আমলেও একটি অসাধু চক্র নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভুয়া প্লেট তৈরী করে বাণিজ্য করছে। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আমলের সেই পুরাতন লাইন্সেস নবায়ন করে ১৭ হাজার ৩৪২টি রিকশার লাইন্সেস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু পায়ে চালিত সেই রিকশা এখন কম থাকায় তা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মিশুক ও অটোরিকশায়।


তাও আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিন অঞ্চল সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে। ১৭ হাজার ৩শ ৪২টি লাইন্সেস এর মধ্যে শহর অঞ্চলে প্রায় ৭ হাজার গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে হলুদ রং এর। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহর অঞ্চলে বর্তমানে ৭ হাজারের জায়গায় ৪০হাজার গাড়ি চলাচল করছে জাল নাম্বার প্লেটের মাধ্যমে। এই সকল জাল নাম্বার প্লেটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজটে  ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কিন্তু দিন রাত পরিশ্রম করেও কোনভাবে সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না প্রশাসন। এর কারণ মিশুক ও অটো রিকশায় চলছে একই নাম্বারে একাধিক প্লেট। এসকল চাঁদাবাজ অসাধু চক্র বর্তমান সরকার দলের বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক এবং চালকদের বেপরোয়া এবং শহরকে নাকাল করে তুলতে সহযোগীতায় রয়েছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন