অভিযানে রাস্তা ছাড়ে শেষ হলে দখল নেয়
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা এখন দুই শ্রেণির দখলদারের হাতে জিম্মি। যার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের। দখলের একদিকে রয়েছে ফুটপাত, অন্যদিকে মূল সড়ক। ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল, অন্যদিকে সড়কে ইজিবাইক ও অবৈধ যান চলাচলের কারণে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। শহরের ফুটপাতে অবৈধ ভাবে হকাররা বসে। তবে এখন হকাররা ফুটপাতের সাথে মুল সড়কের অর্ধেক দখল করে নিয়েছে। সম্প্রতি গত সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শহরে অভিযান চালিয়ে সড়ক হকারদের উচ্ছেদ করলেও ফুটপাতে কোন উচ্ছেদ করে নাই। অথচ ফুটপাতে হকররা বসতে পারবে না। তাছাড়া বিকেলে ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান চালিয়ে রাস্তা দখল করা হকারদের উচ্ছেদ করে আবার যাওয়ার পরে সন্ধ্যার পরে রাস্তা দখর করে রাখে। যা নিয়ে নগরবাসী বিব্রত হয়ে রয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী মহলও তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কেননা ব্যবসায়ীরা যানজট মুক্ত রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দিলেও হকাররা রাস্তা দখল করে যানজট তৈরী করে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই হকারের বিস্তার। তার মাঝে ১৫ মাস যাবত সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সংস্কার নগরবাসির বিরক্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। আর শহরের এমন কোন সড়ক নেই যেখানে অটোরিক্সার দৌরাত্ম্য পাওয়া যাবে না। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেইট সহ গুরুত্বপূর্ন মোড়ে অন্তত ৮/১০ টি করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে ইজিবাইকগুলো। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। আর ফুটপাতগুলো পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন তা হকারদের স্থায়ী দখলে চলে গেছে। হকাররা এখন বঙ্গবন্ধু মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে।
শহরের বিবি রোড ও কালীরবাজার এলাকায় দেখা যায় ফুটপাতে একটুকু জায়গাও ফাঁকা নেই। মানুষের চলাচলের জন্য জায়গা না থাকায় নেমে যাচ্ছেন সড়কে। এতে করে সড়কে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে হকারদের দাবি, আর্থিকভাবে বিভিন্ন লোকজন ম্যানেজ করেই তারা বসছেন। বিনা পয়সায় বসছেন তাও নয়। মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতার ভাইকে দৈনিক টাকা দিয়ে থাকে তারা। এই টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের হাতেও পৌছে যায়।’ অথচ তাদের কারনে পথচারীরা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া হকারদের সাথে পথচারীদের তর্কবিতর্ক লেগেই যাচ্ছে।
মঞ্চে উঠে রাজনীতিবিদরাই সবার আগে বলে হকার মুক্ত শহর চাই। পুলিশ প্রশাসনের লোকজন বলে শহরে রাস্তা দখল করে কোন হকার বসতে পারবে না। ব্যবসায়ী সমাজ দাবী জানান শহরের যানজট মুক্ত রাখতে হবে। সচেতন মহলের প্রশ্ন হলো সকলেই চায় হকার মুক্ত তাহলে হকারদের ফায়দা নিতে চায় কারা। তাদের বিরুদ্ধেই বা কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সদ্য নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান শহরের যানজট ফুটপাত হকার দুরী করনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে তিনি ৬০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মিশন নিয়ে কাজ করার জন্য মাঠে নামছেন। তাই তার কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা তিনি যেন শহরের এই সমস্য দুর করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টাকা দিয়ে হকাররা বসতো। তাও মাঝেমধ্যে পুলিশ ও সাবেক মেয়র আইভীর জোড়া জুড়িতে অনেকেই উঠে যেত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আর হকারদের উঠতে হয়না। এখন বিএনপিপন্থি লোকজনকে টাকা দিয়ে স্থায়ীভাবে হকাররা বসে গেছে। কাপড়, জুতা, ফল, ইলেকট্রনিক্স, এমনকি খাবারের দোকানও স্থায়ীভাবে বসেছে ফুটপাতে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে পথচারীরা হেটে চলতে পারে না।
বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, ফুটপাত এবং যানজট সমস্যার মূল কারণ পরিকল্পনার অভাব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি। ফুটপাত হকারমুক্ত না করলে, এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনলে, শহরের মানুষের নাগরিক অধিকার ভীষণভাবে ক্ষুণ হচ্ছে। বার বার দাবি জানালেও অজানা কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নগর বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ যেই আশা আকাঙ্খা করেছিলো এই শহর নিয়ে। তা বাস্তবে হয়নি। উল্টো দখলদারের কবলে চলে গেছে পুরো শহর। দখলদার আর শেল্টারদাতারা নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো শহরকে। কোটি কোটি টাকা আর কর্মঘণ্টা নষ্ট হলেও কারও কোন নজর নেই। কঠোরতা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।


