Logo
Logo
×

রাজনীতি

যুবদলে বাড়ছে অস্থিরতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

যুবদলে বাড়ছে অস্থিরতা

যুবদলে বাড়ছে অস্থিরতা

Swapno



নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলে ফের শুরু হয়েছে দূরত্বের দ্বৈরথ। ‘দাবা খেলার’ মতোই একে অপরকে মাইনাস করতে নানা কার্যক্রম পক্রিয়া শুরু করেছেন। একই সাথে আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে রোষানলে ফেলে আলোচনায় উঠতে চাইছেন , আবার অনেকেই পরিচিত মুখের যুবদল নেতাকে পিছনে ফেলতে করছেন নানা ষড়যন্ত্র। যাকে ঘিরে যুবদলকে ঘিরেই পাওয়া যাচ্ছে দ্বন্দ্বের আভাসসহ অস্থিরতার দৃশ্য। যার প্রভাব পরছে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা যুবদলে। এদিকে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটিকে ভেঙে নয়া কমিটি গঠনের গুঞ্জন উঠছে।


এদিকে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বর মাসেই নয়া কমিটি আসছে জেলা ও মহানগর যুবদলের। ইতিমধ্যে নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকার তথ্য নিচ্ছেন দলীয় হাইকমান্ড। এদিকে কমিটি গঠনের সাড়ে ৩ বছরে উন্নতি আসেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। সেই পুরনো ৩ সদস্য কমিটি ও সাবেক মেয়াদউত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি পারেনি দিতে। তা ছাড়া মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি ৫১ সদস্য কমিটি দিতে পারলে ও ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন।যা গঠনে ও কমিটি বড় করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাকে ও পাত্তা দেয়নি জেলা ও মহানগর যুবদল। বর্তমানে ব্যর্থতার দায় নিয়েই জেলা ও মহানগর যুবদলে সমাপ্ত হচ্ছে অধ্যায়।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আওতায় রয়েছে সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং বন্দর উপজেলা ইউনিট। রয়েছে সাতটি ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি। এতগুলো কমিটির মধ্যে মাত্র দুটি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষনা করেছে বর্তমান মহানগর কমিটির নেতারা। বাকি ইউনিট গুলোতে দীর্ঘদিন কোনো কমিটি নেই। মহানগর যুবদলের কমিটিতে বারবার রদবদল হলেও এসব ইউনিট কমিটির পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মনের আশা আর পূরণ হয়না।


অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে বিএনপির মূল দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন। বাকি যারা দীর্ঘদিন যাবত একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের আশায় রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাদের সকলের একটাই দাবি আর তাহলো যত দ্রুত সম্ভব ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করে সংগঠনকে আরো গতিশীল করা এবং দীর্ঘদিনের কমিটি খড়া ঘুচিয়ে তৃণমূলের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়া। তৃণমূলের এই দাবি মহানগর যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পূরণ করতে সক্ষম হননি।


মনিরুল ইসলাম সজল ও শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে প্রথমে ৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হলেও পরে তা ৫১ সদস্যে পরিপূর্ণ হয়। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার ইউনিট কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও অদৃশ্য কারণে মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। মহানগর যুবদলের অন্তর্গত থানা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা কমিটির অভাবে পরিচয়বিহীন রয়ে যায়। একইভাবে জেলা যুবদলে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর থেকেই দ্বন্দ্বে অস্থির জেলা যুবদল।


যাকে ঘিরে ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা, গোপালদী পৌরসভা, আড়াইহাজার পৌরসভা, সোনারগাঁও পৌরসভাসহ এদের বিভিন্ন ওয়ার্ড-ইউনিয়নে সর্বক্ষেত্রেই দুর্বল যুবদল। এদিকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিস্কার, গ্রেফতার পরবর্তীতে বহিস্কার আর্দেশ প্রত্যাহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর মহানগর ও জেলা যুবদলেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংস্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।


দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক কমিটি’ নির্ভর রাজনীতি, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং পদ না পাওয়া কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে প্রায়শই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। আংশিক কমিটি ও ধীরগতিতে বছরের পর বছর ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ হলেও এখনো জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে চরম ধীরগতির কারণে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ কাজ করছে।


এদিকে গতিশীল করতেই জেলা ও মহানগর যুবদলে আসছে নতুন কমিটি এমন গুঞ্জনেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে সংগঠনটিতে। যাকে ঘিরে সংগঠনটিতে বাড়ছে তুমুল বিভক্তি ও একে অপরকে গায়েল করার ‘দাবা খেলা’। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতেও মহানগর যুবদলের ব্যানারে আলাদা আলাদা বিক্ষোভ মিছিল পালন করতে দেখা যায়। গত (২১ সেপ্টেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জে ও শহরে মহানগর যুবদলের ব্যানারে তিন গ্রুপের বিভক্ত আওয়ামী লীগ ঠেকাও মিছিল লক্ষ্য করা যায়। যেখানে যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে নিজেদের তুলে ধরেন। এদিকে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নানা কার্যক্রম আলাদা আলাদাভাবে লক্ষ্য করা গেছে যুবদলে।


বর্তমানে জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্তমান দুই আহ্বায়ক পদ ছাড়তে প্রস্তুতি নিয়েছেন। যাকে ঘিরে যুবদলের বাড়ছে কেন্ডিডেট চলছে অস্থিরতা। ইতিমধ্যে মহানগর যুবদলের নয়া কমিটিতে আসতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি, মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, মহানগর যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান সাগর বর্তমানে আলোচনায়। এদিকে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগ, শেখ মোহাম্মদ অপু, শহিদুল ইসলাম।


জেলা যুবদলের বর্তমান সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব, রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন্ থানা পর্যায় থেকে একাধিক প্রার্থী বর্তমান জাগ্রত রয়েছে। বিগত দিনে জেলা ও মহানগর যুবদল কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে উৎফুল্ল ছিলো। নেতাকর্মীরা তাদের থেকে দূরে দূরে থাকতো তারা রাজপথে দেখাতে পারেনি কোন ভূমিকা। তা ছাড়া এই কমিটি গঠনের পর থেকে একের পর এক অভিযোগ ছিলো জেলা ও মহানগর যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিকে এবারের নয়া কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতৃত্বের পরিচয়ে  যোগ্যতা যাচাইয়ে কমিটি গঠনের আলোচনা রয়েছে। যার ফলে তাঁর রাজনৈতিক অতীতের পাশাপাশি বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থানও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।


এদিকে বর্তমানে সাদেক ও সজলের মুখে বিদায়ের সুর রয়েছে। যা নিয়ে রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের আভাস ফুটে আসার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাবেকরাই বার বার নতুন নতুন কমিটিতে ভালো দায়িত্বে থাকলে ও সংগঠন দুর্বল হবেই। যাকে ঘিরে তৃর্ণমূলের দাবি উঠছে, এবারের নয়া কমিটিতে যেন নতুন নতুন মুখের যোগ্য নেতাদের দায়িত্বে দেওয়া হয়। তাহলেই যুবদলে সাংগঠনিক গতি বাড়বে। একই সাথে গত ৫ আগষ্টের পর যুবদলকে ঘিরে সাধারণ জনগণের যে বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে তা দূর করতে সাহায্যে করবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনের আগেই যুবদলের নয়া কমিটি গঠন হলেই চাঙা থাকবে মূল দল বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন