যুবদলে বাড়ছে অস্থিরতা
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলে ফের শুরু হয়েছে দূরত্বের দ্বৈরথ। ‘দাবা খেলার’ মতোই একে অপরকে মাইনাস করতে নানা কার্যক্রম পক্রিয়া শুরু করেছেন। একই সাথে আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে রোষানলে ফেলে আলোচনায় উঠতে চাইছেন , আবার অনেকেই পরিচিত মুখের যুবদল নেতাকে পিছনে ফেলতে করছেন নানা ষড়যন্ত্র। যাকে ঘিরে যুবদলকে ঘিরেই পাওয়া যাচ্ছে দ্বন্দ্বের আভাসসহ অস্থিরতার দৃশ্য। যার প্রভাব পরছে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা যুবদলে। এদিকে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটিকে ভেঙে নয়া কমিটি গঠনের গুঞ্জন উঠছে।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বর মাসেই নয়া কমিটি আসছে জেলা ও মহানগর যুবদলের। ইতিমধ্যে নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকার তথ্য নিচ্ছেন দলীয় হাইকমান্ড। এদিকে কমিটি গঠনের সাড়ে ৩ বছরে উন্নতি আসেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। সেই পুরনো ৩ সদস্য কমিটি ও সাবেক মেয়াদউত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি পারেনি দিতে। তা ছাড়া মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি ৫১ সদস্য কমিটি দিতে পারলে ও ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন।যা গঠনে ও কমিটি বড় করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাকে ও পাত্তা দেয়নি জেলা ও মহানগর যুবদল। বর্তমানে ব্যর্থতার দায় নিয়েই জেলা ও মহানগর যুবদলে সমাপ্ত হচ্ছে অধ্যায়।
অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে বিএনপির মূল দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন। বাকি যারা দীর্ঘদিন যাবত একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের আশায় রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাদের সকলের একটাই দাবি আর তাহলো যত দ্রুত সম্ভব ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করে সংগঠনকে আরো গতিশীল করা এবং দীর্ঘদিনের কমিটি খড়া ঘুচিয়ে তৃণমূলের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়া। তৃণমূলের এই দাবি মহানগর যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পূরণ করতে সক্ষম হননি।
মনিরুল ইসলাম সজল ও শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে প্রথমে ৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হলেও পরে তা ৫১ সদস্যে পরিপূর্ণ হয়। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার ইউনিট কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও অদৃশ্য কারণে মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। মহানগর যুবদলের অন্তর্গত থানা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা কমিটির অভাবে পরিচয়বিহীন রয়ে যায়। একইভাবে জেলা যুবদলে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর থেকেই দ্বন্দ্বে অস্থির জেলা যুবদল।
যাকে ঘিরে ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা, গোপালদী পৌরসভা, আড়াইহাজার পৌরসভা, সোনারগাঁও পৌরসভাসহ এদের বিভিন্ন ওয়ার্ড-ইউনিয়নে সর্বক্ষেত্রেই দুর্বল যুবদল। এদিকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিস্কার, গ্রেফতার পরবর্তীতে বহিস্কার আর্দেশ প্রত্যাহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর মহানগর ও জেলা যুবদলেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংস্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।
দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক কমিটি’ নির্ভর রাজনীতি, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং পদ না পাওয়া কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে প্রায়শই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। আংশিক কমিটি ও ধীরগতিতে বছরের পর বছর ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ হলেও এখনো জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে চরম ধীরগতির কারণে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ কাজ করছে।


