Logo
Logo
×

রাজনীতি

তফসিলের আগেই কঠোর অ্যাকশনে যাচ্ছে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

তফসিলের আগেই কঠোর অ্যাকশনে যাচ্ছে বিএনপি
Swapno

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে যাচ্ছেন দলীয় হাইকমান্ড। যাকে ঘিরে দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ও জানা গেছেন। তবে এবারের শুদ্ধি অভিযানের ‘লাইন অব অ্যাকশন’ আরও কঠোর। এদিকে দেশজুড়ে চিহ্নিত ৩ হাজার ৫৮৬ জন চাঁদাবাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৬৫ জনের নাম রয়েছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে। একইভাবে ২ হাজার ২৫৮ জন ‘আলোচিত সন্ত্রাসী’র মধ্যেও সর্বোচ্চ ৪০৮ জনই এই অঞ্চলের তালিকায়। যাকে ঘিরে বর্তমানে চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্মের দিক থেকে এগিয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জ। তা ছাড়া দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, অপরাধের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। সামনে আরও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও নজরদারিতে রয়েছে।



সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়সহ কেন্দ্রেীয় হাইকমান্ডে নারায়ণগঞ্জের একাধিক বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে ডজনে ডজনে অভিযোগ জমা পরেছে। যেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি, জেলা বিএনপি, জেলা ও মহানগর যুবদল, জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, জেলা ও মহানগর কৃষদলের শীর্ষ একাধিক নেতাদের বিরুদ্ধে। যেখানে বাদ পরেনি এমপি/প্রশাসকরা। এর বাহিরে ও ওয়ার্ড-ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার পক্ষে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের ফোন দিয়ে হুমকিসহ নানা অভিযোগ রযেছে। তা ছাড়া টেন্ডারের নামে পার্সেন্টস খাওয়া, জোর পূর্বক দখল-দারিত্ব, সব কিছুই নিয়ন্ত্রণে রেখে চাঁদাবাজি, মাদকের ডিলারদের শেল্টার এমন নানা অভিযোগ ইতিমধ্যে জমা পরেছে। এদিকে চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর রাজধানীর লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জে পালাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা-বানিজ্যেসহ সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের পাহাড়া দিচ্ছেন বিএনপি নেতারাই। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের সকল ফেলে যাওয়া কুকর্মে জড়িয়েছে বিএনপি।


যাকে ঘিরে বর্তমানে বিতর্কে বিতর্কিত বিএনপি। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নিজেদের বিতর্ক গুছিয়ে ফেলতে ইতিমধ্যে পদ-পদবী না দেখেই দলের নেতাদের ক্লিন রাখতে পরতে যাচ্ছে ‘শুদ্ধি অভিযান’। ইতিমধ্যে বিতর্কদের তালিকা তৈরি শুরু হচ্ছে। যাকে কেন্দ্র করে বিএনপি বিতর্কিত নেতারা বর্তমানে সতর্কে রয়েছে। তা ছাড়া ক্ষমতার সঙ্গে পদ-পদবির দাপট দেখিয়ে অনিয়ম-অপরাধে জড়ালে কোনো ছাড় নয়, এমন কঠোর বার্তা দিতে চাইছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলের এমপি, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হলেও অভিযোগের প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রয়োজন হলে করা হবে মামলা, নিশ্চিত করা হবে আইনি শাস্তিও। এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চাঁদাবাজিতে বহিস্কারের তালিকা দীর্ঘ হলে ও আসছে না নিয়ন্ত্রন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার দলীয় শৃঙ্খলাসহ সরকার ও দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় নড়েচড়ে বসেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী।


উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রশংসায় ভাসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে নভেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোরতা ও দেখাবে প্রশাসনসহ বর্তমান সরকার।
এদিকে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগের চিন্তাকে জানায়, চাঁদা, দখলবাজিসহ সব ধরনের ‘বাজিকর’দের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তিনি কোন পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। বরং তার অপরাধের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, সংঘর্ষ, অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একের পর এক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আবার কিছু গেলে ফের পদ বহাল করছেন।



এদিকে বহিষ্কারের তালিকা দীর্ঘ হলেও নারায়ণগঞ্জে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে নানা অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগ সামনে আসছে। সর্বশেষ চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সালকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তা ছাড়া দুইজন চিহ্নিত চাঁদাবাজের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করার কথা ও উঠেছে। গত (২২ সেপ্টেম্বর) কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছিলেন পুলিশ। এরপর মে মাসে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা দলীয় সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়। জুনে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের চার নেতাকর্মী মো. মামুন, মো. কাউছার, শ্রী নিতাই ও মো. দেলোয়ার হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়।


দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিএনপির এক নেতাকে মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। একই মাসে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল পরবর্তীতে বহাল। রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কোহিনূর আলমও বহিষ্কারের তালিকায় যুক্ত হন। বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জুনের শেষ দিকে জেলা বিএনপি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। আগস্টে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ইকবালকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কৃষক দল।


দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়। সেপ্টেম্বরে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শুক্কুর আলীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে গত ৫ আগষ্টের পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শ্রমিক দল নেতা আসলাম ও তোফা, যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীব এরা সকলেই বহিস্কারের পাশাপাশি গ্রেফতারের আওতায় ও এসেছিলেন। এদিকে অপকর্ম করে দল থেকে বহিস্কার হলে ও তা সাময়িক সময়ের জন্য হওয়ায় বহিস্কারকেই বেছে নিয়েছেন অনেকেই।



এদিকে নেতাদের ভাষ্য, পদে থাকার কারণে অনেক কিছুই করতে পারছে না। আবার অনেকে পদে-চেয়ারে বসে কেউ জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছেন, আবার কেউ চেয়ারে বসে কলমের খোচায় চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। কেউ টেন্ডারের মাধ্যমে প্রহশন নিচ্ছেন, কেউ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত বসিয়ে নগরবাসীকে অস্বস্তি¡ দিয়ে চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে সকল দিকেই রাজনীতি। বর্তমানে হাইকমান্ডের জোড়ালো অ্যাকশনের গুঞ্জনে স্থবিরতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন