Logo
Logo
×

রাজনীতি

হকারনামধারীদের উস্কে দেয়ার দেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ, মুহুর্ত্বে হকারশুন্য শহরের ফুটপাত

ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অ্যাকশনে নাসিক প্রশাসক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অ্যাকশনে নাসিক প্রশাসক

নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে এবং নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে রিক্সা-অটোরিক্সায় ডিজিটাল নম্বর প্লেট বিতরণ করে শক্ত অবস্থান নেয় নাসিক। এর সুফলও পাচ্ছে নগরবাসী। এবার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নগরবাসীকে ফুটপাতমুক্ত হকার উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এটি নিয়ে নানামুখী কার্যক্রমও হাতে নেন তিনি। তবে পেছন থেকে একটি মহল কলকাঠি নাড়ালেও ঠিকই গন্তব্যের ঠিক কাছে পৌঁছে গেছেন নাসিক প্রশাসক। এবার আর কথা নয় কাজে প্রমাণ দিতে সকল জুজুর ভয় উপেক্ষা করে নিজেই মাঠে নেমেছেন প্রশাসক।   গতকাল শহরের ব্যস্ততম বিবি রোড ও শায়েস্তা খান সড়ককে হকারমুক্ত রাখতে এবার কঠোর অ্যাকশনে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ইতিমধ্যে প্রায় নিয়মিত সন্ধ্যার পর নিজে ফুটপাতে হেঁটে হকার উচ্ছেদের অভিযান চালান। তিনি হকারদের উদ্দেশ্য হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, হকারদের অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরও যদি তারা নির্ধারিত স্থানে না যায়, তাহলে নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।



সাখাওয়াতের এমন ঘোষণাকে ঘিরেই গতকাল (২৫ অক্টোবর) রাতে হকার উচ্ছেদে মাঠে নামেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত। এ সময় উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সামনেই লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করেন উস্কানিতে নামা একটি হকার নামের শ্রেণি। বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পৌছালে তাকে অবরুদ্ধ করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে হকার নামধারীরা। এমতা অবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯ টায় শায়েস্তা খান সড়কে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা কয়েকটি ভ্যান গাড়ির মালামাল জব্দ করেন। যাকে ঘিরে হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তার সকল হকারনামধারী কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে উচ্ছেদ কর্মীদের মারধর করতে থাকেন। সেই সাথে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে ধরেন। তার উপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলের সদস্য ও নেতাকর্মীরা সাখাওয়াতকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে হকারের এমন কাণ্ডতে ও দাবিয়ে রাখা যায়নি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে। তিনি তাৎক্ষণিক পুরো শায়েস্তা খান রোডকে হকারমুক্ত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু হকাররা রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই বিক্ষোভ করেন স্বল্প সময়ের জন্য। এদিকে প্রশাসক সাখাওয়াত খানের দৃঢ় অবস্থানের কথা ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্ত্বেই শহরের অন্যান্য সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত হয়ে যায়। মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে হকাররা।
এদিকে বিশেষ করে একটি মহলের অসাধুভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পায়তারা এবং কিছু স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে ওই চক্রটি।



সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের দুই পাশ দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। এর ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উচ্ছেদ অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে কিছু কুচক্রী মহল সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। এই স্থায়ী সংকটের কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় এবং অসাধুদের দৌরাত্ম্য না কমলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে, উস্কানিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে এবং শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শহরবাসী।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলাম। এসময় হকাররা আমাদের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। তারা আমার সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। সেই সাথে তারা তাদের মালামাল রাস্তায় ফেলে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিলো।



অভিযান চলাকালে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু ইউসুফ খান টিপু এবং সিটি কর্পোরেশনের ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী। এদিকে, এ ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযানে আসছিলো। তবে প্রশাসন কিংবা আমাদের কাউকে জানায়নি। উনি উচ্ছেদ অভিযানের কাজ সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে হকারদের সাথে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর আমাদের সংবাদ দিলে আমি সহ আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। সেই সাথে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।



এদিকে জানা গেছে, চলতি বছরের (২৫ ফেব্রুয়ারী) সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেয়েই বসবাসযোগ্য সুন্দর নগরী উপহার দিতে ৬০ দিনের এক বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন। যেখানে সব থেকে বেশি পাদান্ন দেওয়া হয়েছিল যানজট ও হকারমুক্ত ফুটপাত। চেয়ারে বসার পর থেকেই শহরের এই দুই দুর্ভোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে একাধিকবার ফুটপাতে অভিযান চালালে ও দলের কিছু কুচক্রীমহল চাঁদার লোভে তা বাস্তবায়নে পিছু টান দিলে ও তা না দেখেই বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছেন সাখাওয়াত। ইতিমধ্যে অটো মিশুকের ডিজিটাল প্লেটের মাধ্যমে শহর প্রায় যানজটমুক্ত রূপে ফিরেছেন। যা নিয়ে নগরবাসীর বাহ বাহ পাচ্ছেন তিনি। তা ছাড়া প্রায় কোটি টাকা খরচে ২নং রেলগেইট থেকে চাষাড়া মহিলা কলেজ পর্যন্ত হকারদের পুর্নবাসনের করার জন্য সড়ক তৈরি করলে ও সেখানে যেতে নারাজ হকাররা। যাকে ঘিরে হকারমুক্ত ফুটপাত গড়তে ইতিমধ্যে একশ্যানে তিনি। ইতিমধ্যে নিয়মিত হকারদের উচ্ছেদে মাঠে সাখাওয়াত। তা ছাড়া শহরে যানজটমুক্ত রাখতেও নিয়মিত মাঠে নেমে সকলের কার্যক্রম পরিদর্শনে বৃদ্ধপরিকর প্রশাসক। বর্তমানে হকারমুক্ত নগর গড়ার চ্যালেঞ্জে সাখাওয়াত। যাকে ঘিরে নিজ দলের কথিতদের লড়াই করেও নগরবাসীর পক্ষে নিজের অবস্থান রেখেছেন তিনি।



এর আগে গত (১৩ এপ্রিল) শহরের সকল সড়কের ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। যদিও আগে থেকে ঘোষণা থাকায় সেদিন কোন হকার বসেনি। এর পর প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত শহরের ফুটপাত ছিল পুরো ফাঁকা। তবে হকাররা ফুটপাতে ফেরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় দেন দরবার করতে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা ছিলো খুবই কঠোর। সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা প্রতিনিয়ত হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। ফুটপাতে হকার পেলেই তাদের মালামাল জব্দ করা হতো। সেই সাথে হকাররাও ফুটপাতে বসতে পারতো না। এমতা অবস্থায় ঈদুল আযহাকে ঘিরে ফের হকাররা বসতে শুরু বসতে আবারো রাস্তাঘাট সব নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। একই সাথে গত ৪ মে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কয়েকজন উচ্ছেদ কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে হকরার। এদিকে বর্তমানে ফের ফুটপাত দখলে রেখেছেন হাকররা। এদিকে বিগত দিনে মেয়র আইভী হকার উঠালে পিছন থেকে বসার ইন্দন দিতেন শামীম ওসমান। তাহলে এবার সেই ‘শামীম ওসমান’ কে। এদিকে কিছুদিন পূর্বে  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা বঙ্গবন্ধু সড়কে উচ্ছেদ অভিযান বের হন। আর এই উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে হকাররা উচ্ছেদ কর্মীদের উপড় চড়াও হন। সেই সাথে কয়েকজন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুত্বর আহত করেন। পাশাপাশি জব্দকৃত মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যান। গত (২০ এপ্রিল) ফুটপাতে না বসার জন্য আহ্বানকারী ভলান্টিয়ারদের উপর হামলা করেছেন হকাররা। সেই ঘটনায় মামলা হয়েছে শুনলে ও শেষ পর্যন্ত কোন কর্ণপাত লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে হকারদের ফুটপাত দখলে নাজেহাল নগরবাসী। যা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতেই ইতিমধ্যে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর একশ্যানে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন