Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ভয়াবহ রূপে বলি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ভয়াবহ রূপে বলি
Swapno



নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপির অন্তর্কোন্দলের প্রভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা খুন হচ্ছেন। এসকল হত্যাকান্ডের মূলেই ছিল আধিপত্য বিস্তার,এলাকা নিয়ন্ত্রণ,বলয়ভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব এবং জনপ্রতিনিধিত্ব হওয়া দ্বন্দ্ব। তবে এসকল অন্তর্কোন্দলের সূত্রপাত ৫ই আগস্টের পর থেকেই ঘটেছিল। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পর মনোনয়ন কেন্দ্রীক কোন্দলের অবসানের মধ্য দিয়ে বিএনপির দলীয় এমপি নির্বাচিত হলে বিএনপির অন্তর্কোন্দলের নিরসনের প্রত্যাশা থাকলেও দলীয় এমপি এবং কেন্দ্র থেকে হুশিয়ার করেও এসকল কোন্দলের নিরসন হচ্ছে না। যার কারণে অন্তর্কোন্দল থেকে একের পর এক হত্যাকান্ডও ঘটছে।


সূত্র বলছে, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ নিকটবর্তী এলাকায় ফার্মেসি ব্যবসা করতেন। ২১অক্টোবর ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন জহির। পথে ১৫-২০ জনের একটি দল পথ আটকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এসময় জহিরের ভাগনে ইসমাইল হোসেন ও বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে জহিরের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও মোবারক তাঁর লোকজন নিয়ে কয়েকবার জহিরের ওপর হামলা করেছিলেন।


বুধবার রাতে মোবারক ও তাঁর লোকজন আড়াইহাজার থেকে এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গত ২১মে দুপ্তরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি তাঁর পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার কাউন্দার চক এলাকায় তাঁর মাটি কাটার জায়গা দেখতে যান। সেখান থেকে আসার সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জন লোক অস্ত্রের মুখে তাঁদের পথ রোধ করে। দুর্বৃত্তরা ওসমান গণিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলাদা করে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুজনকেও মারধর করা হয়। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বিএনপি নেতাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


এই ঘটনায় ওসমান গণির ভাতিজা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জানিয়েছিলেন চকের জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে তাঁর চাচা ওসমান গণির সঙ্গে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান আলীর এক লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া পাশের গ্রামের নাঈমসহ কয়েকজন চাঁদা দাবি করেছিলেন। এই বিরোধের জেরে তাঁর চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি রিপনকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রিপন মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার রিফাত কাজীর বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে রিপনের নাম রাখা হয়নি।


এসব বিষয় নিয়ে গতকাল রাত ১১টার দিকে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর রিফাত কাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল রামদা, ছুরি, লোহা ও স্টিলের পাইপ নিয়ে রিপন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং লালপুর এলাকায় রড, সিমেন্ট, বালুর ব্যবসায়ী মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের বড়ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, 'রাতে ফিরে ভোরের দিকে মামুন বাসায় ঘুমাচ্ছিল৷ তাকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা তাকে ডেকে নিয়ে গেছে সেটা এখনো জানতে পারিনি।'মামুনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আজাদ নামে এক ছেলে ঘুমায়। গুলির শব্দ শুনে সে বেরিয়ে আসলে মামুনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।'স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সাথে মামুনের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল বলেও জানান আমজাদ। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ওই দ্বন্দ্ব কাজ করতে পারে জানান।


২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে কাঞ্চন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদের সঙ্গে একই পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম স্বপনের মোবাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে রাত ১০টার দিকে বায়েজিদ ও জাহাঙ্গীরসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমিনুল ইসলাম স্বপনকে পৌরসভার সামনে খুঁজতে এসে স্বপনকে না পেয়ে কাঞ্চন পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল মিয়াকে একা পেয়ে তাকে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। ২০২৪  সালের ৫ই আগস্টে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের পাকুন্দা এলাকায় ৫ আগস্ট রাতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। জাহিদুল ইসলামের মামা নুর মোহাম্মদ জানান, জাহিদুল ইসলাম তার মা পুষ্প আক্তারকে নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার সোনাবো এলাকায় তার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। জাহিদুল রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতি করতেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ডজন খানেকেরও বেশি রাজনৈতিক মামলায় জেল খেটেছেন।


সোনাবো এলাকার বাড়ির জমি নিয়ে একই এলাকার জাকির হোসেন, নাজমুল হোসেন, রাসেল, আবু বক্করদের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় একাধিকবার প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা জাহিদুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাব এলাকা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে সোনারগাঁও উপজেলার পাকুন্দা এলাকায় নিয়ে জাকির হোসেন, নাজমুল হোসেন, রাসেল, আবু বক্করসহ আসামিরা প্রথমে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিটসহ নির্যাতন চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এর পর পাকুন্দা কড়ইতলা পুকুরের কচুরিপানার নিচে গুমের উদ্দেশে লুকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে সেখান থেকে জাহিদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই জাহিদুলের মরদেহ দাফন করা হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন