জহির ফকির, মোবারক হোসেন, কবির, রিজভী, পিয়ার আলী, সাইফুল ইসলাম, ওসমান গনি, রমজান মিয়া
আধিপত্য বিস্তার ও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিই প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বিএনপির। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরেছে বিশাল প্রভাব, বর্তমানে বিএনপির বিরুদ্ধে বিএনপিরাই মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। এদিকে সাথে ‘দাবা’ খেলার মতোই বিএনপিতে নিজেদের প্রতিপক্ষেই ঘায়েল করতে উঠে পরে লেগেছেন। এমতা অবস্থায় বিএনপি-বিএনপি দ্বন্দ্বে ফুটে উঠছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
এদিকে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাদের হাতেই খুন ও হচ্ছে বিএনপি নেতারা। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠছে নানা প্রশ্ন। এদিকে বর্তমানে এমন কাণ্ড শুধু নারায়ণগঞ্জেই সমীবদ্ধ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন্ জেলায় আধিপত্য বিস্তার ও একক নিয়ন্ত্রণের মনোমালিন্ন নিয়েই একের পর বিএনপি নেতার হাতে খুন হচ্ছে বিএনপি। এদিকে প্রশাসনিক সূত্র মোতাবেক সারা বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। নিহতদের বেশিরভাগই বিএনপির। সব মিলিয়ে বিএনপিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাড়ছে, একই সাথে ক্ষুন্ন হচ্ছে ইমেজ।
সূত্র জানিয়েছে, আড়াইহাজারে বিএনপির ক্ষমতা ৮ মাসের মধ্যে ৫ মাসের ব্যবধানে বিএনপি পর যুবদলের পদধারী নেতা খুন হয়েছেন। যা এলাকাজুড়ে উত্তেজনার ঢেউ উঠলে ও শেষ পর্যন্ত স্তব্ধ হয়ে পরে সব কিছুই। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সোনারগাঁয়ে পূর্বশত্রুতা ও চেয়ারম্যান পদে ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ হওয়ার ঘোষণার জেরে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী মোবারক হোসেন পরিকল্পিতভাবে তার বাহিনীদের দিয়ে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এখানে কবির, রিজভী, পিয়ার আলী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেকটি পক্ষ এই হত্যার নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের যোগসাজস রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এই হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন। তারা অবিলম্বে খুনের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার ২িিদন অতিবাহিত হলে ও হচ্ছে না থানায় কোন অভিযোগ কিংবা মামলা। এর আগে গত ৫ মাস আগে চলতি বছরের (২১ মে) আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকার একটি জমির মাটি কেটে বিক্রির দ্বন্দ্বের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি (৪০) কে হত্যার অভিযোগ উঠে দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে।
কিন্তু বর্তমানে এ ঘটনার কোন সুষ্ঠ বিচার পায়নি পরিবার। একই সাথে চলতি মাসের গত (১৮ অক্টোবর) আধিপত্য বিস্তার এবং ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার দ্বন্দ্বে যুবদলের আরেক পক্ষ ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি রিপন মিয়াকে হত্যা করেন। কিন্তু এখনো মূল টার্গেটের আসামীরা পাচ্ছে না বিচার। এর আগে ২০২৫ সালের (৭ ফেব্রুয়ারী) বাসা থেকে ডেকে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসাইনের সঙ্গে বিএনপির আরেক গ্রুপ আধিপত্য দ্বন্দ্বে গুলি করে হত্যা করেন।
তা ছাড়া গত বছরের ২০২৫ সালের (২২ জুন) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য হান্নান সরকার এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী ও বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল কুদ্দুস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বর্তমানে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ফুটে উঠছে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার চিত্র। ইতিমধ্যে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এমন নানা ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছাড়াও আধিপত্য বিস্তারের নিজেদের মাধ্যেই হাতাহাতি-সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটছে। চব্বিশের ৫ই আগষ্টের পর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন্ থানা ও ইউনিয়নে নানা তুচ্ছ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়। আইনজীবী সমিতির নির্বাচন, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। তবে ঘটনার জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। আদালতপাড়ার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুই বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ পদ স্থগিত করা হয়।
একই দিন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন। পদত্যাগপত্রে তিনি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার অভিযোগ তোলেন। সামছুন নূর বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৫ সালের মার্চে কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কেন্দ্রীয়ভাবে তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উপদলীয় কর্মকাণ্ডের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


