Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগর বিএনপিতে নতুন গতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

মহানগর বিএনপিতে নতুন গতি

মহানগর বিএনপিতে নতুন গতি

Swapno



মহানগরের রাজনীতিতে গতি ফেরাতে যে কোন সময় বিলুপ্ত হতে পারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি। তাছাড়া ঢাকা সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হবে তারপর আবার নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। এমনটাই কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে বলে বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের হয়তো অনেকেই নতুন কমিটি থাকবে না বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে গত ৪ বছর যাবৎ মহানগর বিএনপির দায়িত্ব অযোগ্যদের হাতে থাকায় হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি।


থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড সব কমিটিতেই নেই যোগ্যতার ছোঁয়া। তা ছাড়া বর্তমান কমিটির ভিড়ে ভিড়তে পারেনি রাজপথের ত্যাগী ও যোগ্যরা। এমতা অবস্থায় নয়া কমিটি গঠনের গুঞ্জন তুলেছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। একই সাথে এবারের কমিটিতে যোগ্যতা যাচাইয়ে পদে আতিষ্ঠ করা হবে বলে ও জানা গেছে। এমতা অবস্থায় আগামী নয়া কমিটিতে ত্যাগীদের তালিকায় উঠে এসেছে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল আলম সজল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সদস্য ও নাসিক ১২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। এদের হাতেই মহানগর বিএনপির নয়া কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা উঠছে।


এদিকে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় বিএনপি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে নজর দিবে। যে সকল কমিটি অনেকদিন হয়ে গেছে কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে প্রাথমিকভাবে সে সকল কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার চিন্তা করছে। সেই সাথে বর্তমানে এসকল কমিটিতে যারা আছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। যার কারণে তাদের অনেক ব্যস্ততা বেড়েছে।


সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের নজর দেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে পদে থাকা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত র্কর্মকান্ডে জড়িয়ে গেছেন। এসকল বিষয়কে কেন্দ্র করে আগের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হবে। রাজধানী ঢাকা সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।


দলীয় সূত্র বলছে, গত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এই কমিটি ঘোষণার পর সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরের সকল ওয়ার্ড, সাতটি ইউনিয়ন, বন্দর উপজেলা, বন্দর থানা ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির কমিটির ঘোষণা দেন।


যদিও এসকল কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের নিয়ে অনেকে আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। নেতাদের নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তারপরেও তারা মহানগরের অধীনে থাকা সকল কমিটি ঘোষণা করেছেন। যা এর আগে সম্ভব হয়ে উঠেনি। এ সকল কমিটি ঘোষণার পর মহানগর বিএনপির সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্মেলন করতে পারেননি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আর ইউসুফ খান টিপু। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত আর সম্মেলন করতে পারেননি।


বর্তমান এই কমিটির আহবায়ক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে আতিষ্ঠ হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর খালি মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রভাব আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।


বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে উঠছেন। নিজেরাই নিজেদের কর্মী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। অনেক সময় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনাকেও তারা উপেক্ষা করেছেন। এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি।


আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। তা ছাড়া আদালতপাড়ার তুচ্ছ ঘটনাকে মহানগর বিএনপিতে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ ও উঠেছে। একই সাথে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান ও নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঞ্জুমানের পদ স্থগিত করার অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া বর্তমানে আদালতপাড়ার ইস্যূর প্রভাব মহানগর বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন