Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফতুল্লা আওয়ামী লীগের কুতুবরা তৎপর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফতুল্লা আওয়ামী লীগের  কুতুবরা তৎপর

ফতুল্লা আওয়ামী লীগের কুতুবরা তৎপর

Swapno



নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের বিশেষ সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতেন ফতুল্লা কৃষকদলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। মাসিক বেতনে হাজার হাজার সন্ত্রাসী বাহিনী লালন পালন করে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ঝুট সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি,মাদক,ডিস,ইন্টারনেট,বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন ফতুল্লায় শামীম ওসমানের শেল্টার প্রাপÍ আওয়ামীলীগ নেতারা। যাদেরকে সাধারণ মানুষ ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার কুতুব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করতেন। কিন্তু ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর গাঁ ডাকা দিয়ে কখনো ঢাকায় কখনো নারায়ণগঞ্জের অনত্র স্থানে বসবাস শুরু করেন শামীম কুখ্যাত নেতারা। এরমধ্যে মীর সোহেল দেশত্যাগ করে আমেরিকায় পারি জমালেও গুঞ্জন রয়েছে সে দেশে ফিরে আবারও ঢাকায় অবস্থান করছেন।


সূত্র বলছে, ফতুল্লার কথিত যুবলীগ নেতা ছিলেন আজমত আলী। এক কথিত যুবলীগ নেতা হয়েই পুরো ফতুল্লার একাংশ এলাকার ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে ঝুট আজমত হিসেবে খেতাব পেয়েছিলেন। তার নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে অন্যতম ছিল কাঠেরপুল,কোতালেরবাঘ,রামারবাঘ,লামাপাড়া,শিয়ারচর,শস্তাপুর,শিবু মার্কেটসহ আরো অসংখ্য এলাকায় আজমত আলীর প্রভাব বিস্তার হত। এসকল আজমত আলীর ছিল বেতনভুক্ত বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। যাদের নেতৃত্বে ঝুট সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি, মাদক, ডিস,ইন্টারনেট করতেন।


কিন্তু ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর বষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করলেও এখনো ফতুল্লা এলাকায়ই আত্মগোপনে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ছিলেন গডফাদার শামীম ওসমানের বন্ধু খ্যাত কুখ্যাত সন্ত্রাসী। যার নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত সাইনবোর্ড এলাকা জুড়ে চাঁদাবাজি,ভূমিদস্যুতা জবর দখল নিয়ন্ত্রিত হত। এর বাহিরে রূপায়ন আবাসিক এলাকায় ফ্লাট  প্রতি চাঁদা এবং ক্রয় বিক্রয়েও মোটা অংকের চাঁদা নিতেন নাজিম। এছাড়াও তার অপকর্মের মধ্যে ছিল পরিবহনে চাঁদাবাজি,ঝুট সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি,মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।


৫ই আগস্টের পর পিঠ বাঁচাতে ফতুল্লার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান নাজিম। যার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে শরীফুল ছিলেন ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফতুল্লা এলাকায় বালু মহাল,হাট,মাঠ,ঘাট, সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি,মাদক,ডিস,ইন্টারনেট,বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর গাঁ ডাকা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শরীফুল। যার বিরুদ্ধে রয়েছে বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগ। ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান ছিলেন ফতুল্লার এনায়েতনগর,মুসলিমনগরসহ আশে পাশের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রক ।


যার নেতৃত্বে ঝুট সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি,মাদক,স্কুল কমিটিসহ নানাবিধ সামাজিক কমিটি নিয়ন্ত্রণ করে অপকর্ম করে বেড়াতেন। এছাড়া স্কুল কমিটি পরিচালান করতে গিয়ে স্কুলের শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের সাথে জড়িয়ে ছিলেন । বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগে এখনো এলাকা ত্যাগ করে আছেন। ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ফরিদ হোসেন লিটন ফতুল্লার রেল স্টোশন, দাপা,ইদ্রাকপুরসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে বেড়াতেন। এদিকে তার নিয়ন্ত্রিত অপকর্মের মধ্যে অন্যতম ছিল মাদক। তার আপন ভাইদের বিরুদ্ধে ছিল মাদক ব্যবসার অভিযোগ। এছাড়া ঝুট সন্ত্রাস,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবজি,মাদক,ডিস,ইন্টারনেট,বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগে গাঁ ডাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফতুল্লা কথিত যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মজিবর। এদিকে মজিবর গডফাদার শামীম ওসমানকে প্রতিনিয়ত তার বাড়িতে আমন্ত্রণ করে করে এসকল ছবি বিক্রি করে ফতুল্লার এলাকার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সেই সাথে কাঠেরপুল,কোতালেরবাঘ,রামারবাঘ,লামাপাড়া,শিয়ারচর,শস্তাপুর,শিবু মার্কেট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন।


কিন্তু প্রায়ই এই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরেক নিয়ন্ত্রক আজমত আলীর সাথে বিরোধে জড়াতেন। এছাড়া ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগ পতনের পরও অদৃশ্য ছাঁয়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে ছিলেন। কিন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ গডফাদার শামীম ওসমানের আর্শীবাদে একজন ডাকাত-ছিনতাইকারীকে যুবলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে জানে আলম বিপ্লবকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসে পরিণত করেছিল। এছাড়া বিশাল ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে কায়েমপুর,তল্লা,খাঁনপুর,আজমেরীবাগ,সবুজবাগে বিপ্লবের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি,ভূমিদসু্যূতা,চুরি,ছিনতাই,ঝুট সন্ত্রাসী ও দখলবাজীর মহোৎসব গড়ে তুলেছিলেন।


এছাড়াও শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন দুর্ধর্ষ বিপ্লব। এরমধ্যে আলোচিত ছিল হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলা যেখানে সরাসরি সামনের সারি থেকে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লব। ৫ই আগস্টের পর পিঠ বাঁচাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে একাধিক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকা অভিযোগ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিপ্লব।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন