Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনের আগে নয়া সমীকরণ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

নির্বাচনের আগে নয়া সমীকরণ

নির্বাচনের আগে নয়া সমীকরণ

Swapno



তফসিল হয়নি, ভোটের দিনক্ষণও চূড়ান্ত নয়। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে  ইউনিয়ন পরিষদ , উপজেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। এদিকে নির্বাচন ঘিরে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নতুন সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকলে ও এরই মধ্যে বিএনপি-এনসিপি-জামায়াতে বাড়ছে দ্বন্দ্ব।


এদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পূর্বেই গণসংযোগ, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন একাধিক নেতা। চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেয়র পদে বিএনপির একাধিক নেতার সক্রিয়তায় দলটির ভেতরে মনোনয়ন ঘিরে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও ভোটের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমতা অবস্থায় একে অপরকে কোনঠাসা করতে নয়া মেরুকরণের রাজনীতিতে হিসাব-নিকাশ তুঙ্গে রয়েছে,  বর্তমানে বাড়ছে দ্বন্দ্ব।


এদিকে জানা গেছে,  চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন জয়ী হওয়ায় জেলার রাজনীতিতে দলটির একটি সরাসরি নির্বাচনী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সেই ফলের পর স্থানীয় ভোটে সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় ব্যক্তি পরিচিতি, পারিবারিক প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে দলগুলোর পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আগেভাগে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন।


সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনের দিন-তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও মেয়র পদে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমান সিটি করপোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি এখনো সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।


কারামুক্তির পর তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে নীরব থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা থামেনি। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা নেই। অন্যদিকে বিএনপি ও এনসিপির স্থানীয় সম্পর্কেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদে দুটি দল ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ফতুল্লার বক্তাবলীতে নদী থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এনসিপির এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দলের দূরত্বকে সামনে এনেছে। এই ঘটনাকে স্থানীয় রাজনীতির বড় কোনো স্থায়ী সমীকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনই নেই।


তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী ও সমর্থনের হিসাব যখন ব্যক্তি ও সংগঠনভিত্তিক হয়ে উঠবে, তখন বিএনপি-এনসিপির মাঠপর্যায়ের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য থাকায় সদর এলাকার স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতাও বাড়ছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রকাশ্যে শুরু করেছে। ২ অক্টোবর গোগনগরে দলটির এক জনসভায় স্থানীয় নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দলটি ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।


বিএনপির ক্ষেত্রেও স্থানীয় নির্বাচনকে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানো এবং একক প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপিও গত মাসে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে শুধু দলীয় শক্তির হিসাবই নয়, প্রার্থী বাছাইও বড় বিষয় হয়ে উঠছে। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও স্থানীয় ভোটে একই দলের একাধিক আগ্রহী প্রার্থী তৈরি হলে অভ্যন্তরীণ সমীকরণ জটিল হতে পারে।


আবার বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনও জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হতে পারে।সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে এখনো ভোটের মাঠ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তফসিল নেই, প্রার্থিতাও চূড়ান্ত নয়। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, দলীয় কর্মসূচি এবং নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে নির্বাচনী প্রস্তুতির আভাস স্পষ্ট হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে যে রাজনৈতিক চিত্র তৈরি হয়েছিল, স্থানীয় ভোটে সেটিই হুবহু থাকবে নাকি ব্যক্তি, সংগঠন ও স্থানীয় সমীকরণে নতুন হিসাব তৈরি হবে, সেটিই এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয়। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপিতে ও বাড়ছে নানা নাটকীয়তা।


ইতিমধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী  না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা। একইভাবে নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সকল স্থানেই নির্বাচনী হওয়া পরার পথে।


এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যাকে ঘিরে চ্যালেঞ্জে বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন