Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকু

জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যাচ্ছি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যাচ্ছি

জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যাচ্ছি

Swapno



নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য ও নাসিক ১২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, আওয়ামী লীগকে উপেক্ষা করে জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে ভোট প্রয়োগের মাধ্যেমে ৪ বার নির্বাচিত করেছেন। সেই জনগণের স্বার্থেই সাবেক মেয়র-এমপি এদের কাছে আমার যেতে হয়েছিল। কোন ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। যুগের চিন্তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সাল থেকে টানা ৪ বার ওয়ার্ডবাসীর ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছি। এই ১৩ বছরে অনেক দুর্যোগপূর্ণ সময় পার করতে হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও অনেক বছর পালিয়ে থাকতে হয়েছে শুধু জীবন বাঁচানোর জন্য। বাংলাদেশেই থাকতে পারিনি, প্রায় সময় থাইল্যান্ড গিয়ে থাকতে হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি জসিম আমার ঘনিষ্ঠ বড় ভাই উনার সাথেও আমি ব্যাংককে দেড় বছর ছিলাম। তা ছাড়া আমার বড় কিসমত হাসেমের শেখ মুজিবর হত্যা মামলার আসামী ছিলেন ওই সময় আমরা অনেক নির্যাতিত হয়েছি। আমাদের কারণে আমাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।  আমার ভগ্নিপতিকে ও হত্যা করা হয়েছিল। এটা ও নারায়ণগঞ্জবাসী জানে।
তিনি বলেন, মামলার খড়গ শুধু আমরাই নয় আমার স্ত্রী ও মামলার শিকার হয়েছেন। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জে এখন অনেক বড় বড় নেতা আছে ওকে টি এফ আই সেলে নেওয়া হয়েছে, আমাকে সেই সেলে নেওয়া হয়েছিল। আমি সেই নির্যাতন সহ্য করে এখনো আছি।


শওকত হাসেম শকু বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুনের বোমা হামলায় ২৬ জন আসামীর মধ্যে আমি ছিলাম ২৫ নাম্বার আসামি। সেই ২৫ জনকে বাদ দিয়ে আমাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেখানে লেখা ছিল আমি শেখ মুজিবর হত্যা মামলার আসামীর ছোট ভাই। সব মামলাতেই লিখা হতো আমি শেখ মুজিবর হত্যা মামলার আসামী কিসমত হাসেমের ছোট ভাই।


তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে ক্যাঙ্গারু পাড়ভেজ নিখোঁজ হয়। সেই নিখোঁজের মামলা ও আমাকে আসামী করা হল। সে সময় সংসদে তৎকালীন এমপি প্রশ্ন রেখেছিলেন প্রকাশ্যে শেখ মুজিবুর হত্যা মামলার আসামির ভাইয়েরা নারায়ণগঞ্জে ঘুরে বেড়ায়। তখনই আমার নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে হয়েছিল। আমার অনেক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।


শওকত হাসেম শকু বলেন, গত ২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চারজন মন্ত্রী সরাসরি আমার ১২ নং ওয়ার্ডে এসে আমার বিরুদ্ধাচারণ করে গেছে। তারা ওয়ার্ডবাসীকে হুঙ্কার দিয়ে বলে গিয়েছিল আমি শেখ মুজিবর হত্যা মামলার আসামীর ছোট ভাই আমাকে কেন তারা নির্বাচিত করবে। সেই মন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রহমান, মির্জা আজম। শুধু হুঙ্কার দিয়েই ক্ষ্যান্ত ছিলেন না তারা বিভিন্ন কায়দায় আমার লোকজনকে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছ। আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের জামানতই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেই ঝুঁকি নিয়েও জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করেছিল। জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে ৪ বার নির্বাচিত করেছেন তাদের স্বার্থে আমি সবকিছু করেছি।


তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমাদের অনেকের সাথে কাজ করতে হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক যে নৌকার মেয়র ছিলেন এরই মাঝে আমরা বিএনপি ঘড়নার ১২ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ছিলাম। আমার তো অধিনস্ত মেয়রের কাছে যেতেই হবে কাজের জন্য তা ছাড়া ১২ নং ওয়ার্ডবাসীর স্বার্থে বিভিন্ন সময় এমপির কাছে যেতে হয়েছে। কারণ এই ওয়ার্ড বাসি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন কাজের জন্য ভালো সুবিধা পাওয়ার জন্যই।


শকু বলেন, কিছুদিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জে কিছু গরিব মানুষ আছে যারা ইলিশ মাছ খেতে পারে না। যাকে ঘিরে আমি নিজ উদ্যোগে দুইশত পরিবারের মাঝে ইলিশ মাছ বিতরণ করেছি। তা ছাড়া গত দুই বছর যাবৎ আমি কাউন্সিলরের দায়িত্বে নেই তারপরেও জনগণের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে আমি সকল প্রকারের কাজ করে যাচ্ছি। এটা করতে কে কি বলল কে কি করল সেটা আমার বিবেচনায় নেই। আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় হলো আমি আমার ওয়ার্ডবাসী কে কতটুকু ভালো রাখতে পেরেছি।


তিনি বলেন, এমনভাবেই ওয়ার্ডবাসীর জন্য আমি সর্বদা আমার এই কাজ চালিয়ে যাবো। তা ছাড়া আমাকে নিয়ে এখন বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া না যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, আমি মনে করি যদি আমি জনপ্রতিনিধি না হতাম তাহলে এমন প্রশ্ন মানা যেত। যেহেতু আমি একজন জনপ্রতিনিধি ছিলাম সেই ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থে সব জায়গায় আমার যাওয়ার প্রয়োজন ছিল শুধু কাজের জন্য কোন ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়।


সর্বশেষ শওকত হাসেম শকু বলেন, বর্তমানে ১২ নং ওয়ার্ডের কিছু কিছু রাস্তা ভাঙ্গা রয়েছে। সেগুলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসকের সাথে আমি আলোচনা করে ১৭ কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে ৯ টি রাস্তা রয়েছে, যেখানে উত্তর চাষাড়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজ এর বাহিরে সলিমুল্লাহ রোড, ডন চেম্পার নিউ খানপুর রোড, মিশনপাড়া, বাগে জান্নাত এই এলাকার রাস্তাগুলো উন্নয়নে কাজ শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। তা ছাড়া বর্তমানে আমি কাউন্সিলর না হয়ে ও সর্বদা অফিসে বসে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন