Logo
Logo
×

রাজনীতি

এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ সংগঠন আ.লীগের নেতারা

শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে ঘুরে নাশকতার পাঁয়তারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে ঘুরে নাশকতার পাঁয়তারা

শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে ঘুরে নাশকতার পাঁয়তারা

Swapno



পরিকল্পিত ভাবে আবারও দেশকে অশান্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ। গত ২৪’এর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের প্রায় তিনশতাধীক নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে এক শতাধীক দেশের বাহিরে পালিয়ে গেলেও, দুই শতাধীক নেতাকর্মী দেশের মধ্যে আত্মগোপনে রয়েছে। কিন্তু গত দুই বছর দেশের মধ্যে আত্মগোপনে থেকে এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেতে শুরু করেছে সেই নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।


বর্তমানে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ভাবে অর্থ দিয়ে নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতা এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে নাশকতার পাঁয়তারা করছে। অনেকে আবার নিজ বাড়িতে বসে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীকে।  


সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য কমিটির মধ্যে প্রায় ৬০ জন নেতাই নিজ বাড়িতে বসে নাশকতার ছক আঁকছে। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগকে আবার সংগঠিত করতে নানা ভাবে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে এই সকল নেতারা। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন, যিনি গডফাদার শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ১৬বছর গলাচিপা এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী সহ সকল অপকর্ম হতো এই রবিউলের মাধ্যমে।


এছাড়াও জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৯ জুলাই শামীম ওসমানের সাথে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করেছিলেন এই রবিউল। কিন্তু তার বন্ধু শামীম ওসমানে পালিয়ে গেলে রবিউলও আত্মগোপনে চলে যায়। পরে  ২০২৫ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় রবিউলকে গ্রেফতার করলেও জেল থেকে এসে আবারও শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার পরিকল্পনা করছে এই রবিউল। তাদের মধ্যে আরেকজন হলো মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান খসরু, যিনি শামীম ওসমানের কাছে লোক ও বন্ধু হিসেবে পরিচিতি। এছাড়াও তিনি জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি পদেও রয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে তার ও তার ভাই শহিদুল্লার নিয়ন্ত্রণে চলত উৎসব পরিবহন।


এই উৎসব পরিবহন শামীম ওসমান মাসুদুর রহমান খসরুকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করত। বর্তমানে সেই মাসুদুর রহমান খসরু দেওভোগের নিজ বাড়িতে থেকে কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তাদের মধ্যে আরেক জন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড.হান্নান আহমেদ দুলাল, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহার বন্ধু ও শামীম ওসমানেরও বন্ধু। দুই বছর পালিয়ে থেকে বর্তমানে তিনি নন্দীপাড়ায় তার বাড়িতে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। আরেকজন হলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।


বিগত আওয়ামীলীগ আমলে দুই নম্বর গেইট আওয়ামীলীগ অফিসে বসে বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নানা  রকমের অকথ্যভাষায় কথা বলতেন এই আহসান হাবিব। এছাড়াও জুলাই আগস্টের আন্দোলনে দুই নম্বর গেইট ও সিটি পার্কের সামনে রাতের আধারে ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালিছেন আহসান সহ তার বাহিনী। কিন্তু বর্তমানে দেওভোগ মসজিদগলি তার নিজ বাড়িতে বসে আবার আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা ও শহরের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে আহসান হাবিব। তাদের মধ্যে আরেকজন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, দেওভোগ পাক্কা রোড ও দুই নম্বর গেইট এলাকাটি ছিলো তার নিয়ণন্ত্রে।


গত ২৪ এর আন্দোলনে আরাফাতের নেতৃত্বে হামলা চালিছিলেন তার বাহিনী। এছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে আসলে তার সাথে ছিলেন এই আরাফাত। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে থেকে তার কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও নাশকতা করাচ্ছে। তাদের মধ্যে আরেকজন সাখাওয়াত ইসলাম সুমন, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে হোসিয়ারী পলিতে প্রভাব বিস্তার করতেন এই সুমন। এটারও তিনি জিএম আরাফাত এর বন্ধু ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে তিনি আরাফাতের সাথে ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালিয়েছেন। বতর্মানে তিনি মাসদাইর তার বাড়িতে থেকে আরাফাতের নেতৃত্বে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে।


তাদের আরেক সহযোগি সাব্বির আহেম্মদ সাগর। যিনি দুই নম্বর গেইট সকল দোকান থেকে আওয়ামীলীগ আমলে চাঁদা তুলতেন। বতর্মানে তিনি তার দেওভোগ বাড়িতে থেকে নাশকতা পরিকল্পনা করছেন আরাফাতের নেতৃত্বে। আরেকজন মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য ও কৃষক লীগের আহবায়ক কবির হোসেন ওরফে মোহরি কবির, যাকে দেওভোগ এলাকায় মোহরি কবির নামে চিনেন অনেকে। সেই মোহরি কবির নাজমুল আলম সজলের নেতৃত্বে জুলাই আন্দোলনে দেওভোগ আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কে হামলা চালায়। এছাড়াও ১৯ জুলাই শামীম ওসমানের বহরে থেকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে হামলা চালায়। বতর্মানে তিনি দেওভোগ কৃষ্ণচূড়ায় তার বাড়িতে থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে।


এছাড়াও প্রতিদিন সে তার পলাতক বন্ধু নাজমুল আলম সজল ও আওয়ামীলীগ নেতাদের তথ্য দিচ্ছে। তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন, নাসিক ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য এস.এম পারভেজ। যিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে গোয়ালপাড়া ও নন্দীপাড়ায় কিশোরগাং নিয়ন্ত্রণ করতে। এছাড়াও খোকন সাহার কাছের লোক ছিলেন এই পারভেজ। বতর্মানে তিনি চাষাড়া খাজা সুপার মার্কেটে নিচে তার ফটো কপি দোকানের ব্যবস্থা পরিচালনা করছে এবং গোয়ালপাড়া এলাকায় বসে খোকন সাহার নেতৃত্বে নাশকতার পরিকল্পনা করছে।


তাদের মধ্যে আরেকজন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেন রনি। বতর্মমানে নারায়ণগঞ্জে থেকে সোনারগাঁ, বন্দর, গোগনগর সহ বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে ভোরে মিছিল করেছেন। এছাড়াও তাদের আধাঁরে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার পোষ্টার লাগান রনি তার বাহিনী। গত জলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার উপর ব্যাপক হামলা চালায় এই রনি। নিতাইগঞ্জের মাছুয়াবাজার এলাকার তার বাড়িতে থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে নাশকতা পরিকল্পনা করেন রনি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন