বিএনপিতে পরিবর্তনের আভাস
পদ পেতে কাড়াকাড়ি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
পদ পেতে কাড়াকাড়ি
বিএনপিতে সাংগঠনিক গতি ফেরাতে দীর্ঘ ৪ বছর পর এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের দিকে হাত বাড়িয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। একের পর এক বিতর্কের মাধ্যমে পত্র-পত্রিকার হেডিংয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দুর্বলতা ও বিতর্ক কর্মকাণ্ড ফুটে উঠতে লক্ষ্য করা যায়। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপি নেতাদের পাত্তা না দিয়ে তার সাথে ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছেন অঙ্গসংগঠনের নেতারা। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে।
যাকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী করতে দলীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর। একই সাথে জেলা বিএনপির সাইনিং পাওয়ারের ৩ নেতাই সরকারি দপ্তরে নিযুক্ত হওয়ায় জেলা বিএনপির কমিটিও আসছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জে দলটির ১১ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১০টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সেই হিসেবে পুর্নগঠনের উদ্যোগে সক্রিয়তা বেড়েছে দলটির নেতাকর্মীদের।
একই সাথে পদ পেতে একে অপরের উপরে ঝেঁকে বসেছেন। এদিকে দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ বাস্তবতায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যেই শিগগির যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল সবই ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রূপে গঠনের আভাস ইতিমধ্যে চাউর খাচ্ছে।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি আগামী অক্টোবরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলের আগেই এমন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। মহানগর বিএনপি কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের তৎপরতায় রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্খিত ভোট দলীয় প্রার্থীকে দিতে ব্যর্থতায় নতুন কমিটিতে আসছে পুরাতন নেতারাই জানা গেছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে।
যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। মেয়াদউর্ত্তীণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হবেন এমন নিশ্চিত পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে। এর ফলে তাকে মহানগর বিএনপির প্রথম সদস্য করা হবে এবং আহবায়ক পদ ছাড়তে হচ্ছেন। তা ছাড়া দুটি কমিটিই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পরেছে। যাকে ঘিরে দ্রুত কমিটি গঠনের পক্রিয়া শুরু করেছে দলটি।
তা ছাড়া গত ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ একই দিনে জেলা যুবদলের দায়িত্ব হিসেবে আহ্বায়ক হন সাদেকুর রহমান সাদেক ও মশিউর রহমান রনি। কমিটি পাওয়া পর একত্রিতভাবে মহানগর যুবদল ৫১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলে ও পারেনি জেলা যুবদল। তা ছাড়া দুটি কমিটিই ইউনিট কমিটির দিকে অনেকটাই দুর্বল। একই দিনে ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয় যেখানে আহ্বায়ক করা হয় সাখাওয়াত হোসেন রানা ও সদস্য সচিব করা হয় মমিনুর রহমান বাবুকে। অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন ও সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সাল্লু।
কিন্তু দুটি কমিটিই একের পর এক বিতর্কে জর্জড়িত অবস্থায় রয়েছে। অপকর্মে সকল অঙ্গসংগঠনের কমিটি শীর্ষ তালিকায় এই দুই সংগঠন। এদিকে ২০২২ সালে জেলা ও মহানগর শ্রমিক দলের কমিটি গঠন হয় মহানগরের দায়িত্ব পান এস এম আসলাম ও ফারুক হোসেন ও জেলার দায়িত্ব পান মন্টু মেম্বার ও মুজিবর রহমান। সাংগঠনিক নয়, এরা দুটি কমিটিই চাঁদাবাজির প্রতিযোগীতায় এগিয়ে। তা ছাড়া ২ বছর যাবৎ নেই মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি। সব মিলিয়ে দুর্বলতায় শীর্ষে রয়েছে না.গঞ্জে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কমিটি। এদিকে কোন কমিটিরই নেই কোন মেয়াদ। এ ছাড়া এ সকল সংগঠন পরিচালনায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং নেতৃত্বেরও দুর্বলতা রয়েছে।
যার কারণে শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কৃষকদলের কমিটির পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। এদিকে অঙ্গসংগঠনগুলো নেতৃত্বের পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হচ্ছে সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং সংগঠনে গুরু দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জর্জরিত হয়ে সংগঠনকে বিতর্কিত করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থেকে পদ আঁকড়ে ধরে রেখেও ইউনিট কমিটি গঠনের একাধিবার উদ্যোগ নিয়েও কমিটি গঠন করতে পারেননি। তা ছাড়া ২০২৪ সালে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ভাঙলে নতুন কমিটি আর ফুটে আসেনি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অপকর্মের কারণে বরাবরই বিতর্কিত হতে হচ্ছে বিএনপিকে। তা ছাড়া হাইকমান্ডের নজরদারি না থাকায় সমস্যার সমাধান বেড়িয়ে আসছে না। বর্তমানে নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে কাড়াকাড়ি বাড়ছে দলটিতে।


