মহানগর আ.লীগের আনোয়ার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
মহানগর আ.লীগের আনোয়ার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশের বলয়ের সকল অপকর্মের মাস্টার মাইন্ড। তিনি দলীয় ভাবে স্বচ্ছ এবং স্বজন থাকলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশের বলয়ের নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রাখতেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরের একাংশের সকল অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। সেই সাথে জেলা পরিষদের বৃহৎ ফান্ডিং লুটপাট করে গিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে আনোয়ারের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান করলে বেড়িয়ে আনোয়ারের বৃহৎ ফিরিস্তির ইতিহাস।
কিন্তু নির্বাচনের মাসেক খানেক পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থেকে ফিরে ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল কাঙ্খিত ১৭টি ওয়ার্ড কমিটি প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ। কমিটি প্রকাশের পর থেকেই ১৭টি ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। আর এই ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি নিয়ে প্রথমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেসময় তিনি আনোয়ার হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ১৭টি ওয়ার্ডে পাল্টা কমিটি করার হুক্কার দেন। এছাড়া মহানগরের দক্ষিণ বলয়ের নেতারা যারা আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক পথ চলার শক্তি ছিলেন তার আনোয়ার হোসেনের বিরোধীতা করে তার বিপক্ষে সমালোচনা করতে থাকেন।
এছাড়া তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে তালা লাগিয়ে দেন। এর কিছুদিন পরই ১৭টি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কমিটি গঠনে আনোয়ার হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমান। রাইল ক্লাবে মতবিনিময় সভায় বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার সম্পর্কে বলেছেন যে কথায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশ করেছি। চন্দন শীদের জেলা পরিষদ কনফার্ম ছিল কিন্তু আনোয়ার ভাইকে সাপোর্ট করেছি। আমাকে ধমক দেওয়ার থাপ্পর দেওয়ার অধিকার তার আছে যেহেতু তার বড় ভাই। আমি ভাইয়ার মৃত্যুর (২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমানের মৃত্যু) পর আনোয়ার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম।
বলেছিলাম আপনি নির্বাচনে আপনি সেলিম ভাইয়ের পক্ষে নামতে পারবেন না। নির্বাচনের পর যদি সেলিম ভাই জিতে তাহলে যেন আপনি আমার বড় ভাইয়ের (প্রয়াত নাসিম ওসমান) এর জায়গাটি পূরণ করে দেন। তাঁকে আমি সম্মান দিয়েছিলাম। বড় ভাই হিসেবে চেয়েছিলাম। কিছুদিন আগে ইলেকশনের আগে তিনি বলেছেন ওসমান পরিবার সন্ত্রাসী পরিবার। ওনি আমাকে সন্ত্রাসী বলতে পারতেন কিন্তু তিনি পুরো ওসমান পরিবার নিয়ে কথা বলেছেন। আমার কলিজাটা ছিড়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে যেই শক্তি যাই বলুক আমি যদি চাই পাল্টা জবাব দিতে তাহলে ৫ মিনিট লাগবে। সিটি মেয়র আইভীর পর সাংসদ শামীম ওসমানও তাকে তুলোধুনো করেছেন।
এভাবে আওয়ামীলীগের প্রচীনতম দুবলয় উত্তর-দক্ষিণ বলয়ের সাথে বিরোধে জড়িয়ে রাজনীতিতে অনেকটা দৌলিয়া হওয়ার পথে চলে গিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ওয়ার্ডে নেতৃত্বে বেশকয়েকজন প্রতিষ্ঠা করা নেতা ছাড়া কেউ নেই তার পাশে অর্থাৎ রাজনৈতিক ভাবে দৌলিয়া হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। এদিকে ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগের পতনের পূর্বেই রাজনৈতিক ভাবে দৌলিয়া হয়ে রাজনীতি থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।
এরমধ্যেই আওয়ামীলীগের পতন ঘটলে আনোয়ার হোসেনের অস্তিত্ব আর নারায়ণগঞ্জে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে আবারও আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া দেওভোগ কেন্দ্রিক আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাদের তার পক্ষে আওয়ামীলীগের কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাদেরও বর্তমানে আনোয়ার হোসেনই একক ভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। কেননা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বর্তমানে মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে নিজেকে সড়িয়ে রেখেছেন। যার কারণে আত্মগোপন থেকে মহানগর আওয়ামীলীগের মাতাব্বরী করছেন আনোয়ার হোসেন।


