মহানগর বিএনপির বিষফোঁড়া টিপু
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। একের পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মহানগর বিএনপির বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছেন টিপু। গোটা বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন করার মিশনে যেন নেমেছেন এই বিএনপি নেতা। আওয়ামী সরকার পতনের শেষ সময়ের কিছু সময় আগে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ পান টিপু। এতেই তিনি হাতির পাঁচ পা দেখে ফেলেন এই বিএনপি নেতা। অথচ টিপুর সাথেই আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্টতা ছিল অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপির মধ্যে যেকয়জন ওসমান ঘনিষ্ঠ ছিল তার মধ্যে টিপু ছিলেন অন্যতম।
যার ফলে পুরো আওয়ামী লীগের সময়ে অন্যান্য বিএনপি নেতারা যখন শত শত মামলা নিয়ে আদালতপাড়ায় ঘুরছিলেন, তখন টিপুর বিরুদ্ধে মামলা হয় মাত্র একটি, শেষ সময়ে একবারই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। অথচ এই টিপু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় অবস্থা দুর্দিনে দুই দফা দল পরিবর্তন করে বিএনএফ এ যোগ দেন। ওই সময় বিএনপিকেও গালাগাল করেন। ওসমান পরিবারের সাথে বিএনপি নেতা টিপুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জবাসী সকলের জানা ছিল।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর ইউটার্ন নেন টিপু। ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতা নেই এটা প্রমাণ করতে করতে ৫ আগস্টের পর শামীম ওসমানদের পুরো বাড়ি হীরা মহল, সেলিম ওসমানের বাড়িতে টিপুর নেতৃত্বে ভাঙচুর-হামলা চালানো হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় ৫ আগস্টের পর ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠতা আবারও প্রমাণ হয় বায়তুল আমান ভবন ভাঙার বিষয়টি নিয়ে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে মিল রেখে শামীম ওসমানের উপর বোমা হামলা, শেখ হাসিনা উপর আক্রমণের সাথে মিল রেখে শামীম ওসমানের উপর আক্রমণের ঘটনা এটি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ট্রেন্ড হিসেবে পরিচিত। ৫ আগস্টের পর যখন ধানমন্ডি ৩২নং বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর চালানো হল, শামীম ওসমান না থাকলেও টিপুর নেতৃত্বে ওই ঘটনার পর আওয়ামীলীগের ঐতিহ্য জন্মবাড়ি দাবি করা ‘বায়তুল আমানে’ হামলা ভাঙচুর করে বাড়ি ভেঙে দেয়া হয়।
অথচ এই বাড়িতে যারা বসবাস করতো শামীম ওসমানের চাচার পরিবার তাদের সাথে কখনোই শামীম ওসমান, সেলিম ওসমানের ভালো সম্পর্ক ছিলনা। বিএনপির একটি বুদ্ধিজীবী অংশ মনে করে, শামীম ওসমানের নির্দেশেই টিপু ‘বায়তুল আমান’ ভবন ভেঙেছিলেন। যাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভবিষ্যতে শামীম ওসমান দেখাতে পারে, ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার পর নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমান ভাঙা হয়েছিলো। শামীম ওসমানের রাজনীতি শেখ পরিবারের রাজনীতির সমপর্যায়ের। অথচ বায়তুল আমান ভাঙার পর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাস্তবিক অর্থে একটি নিরীহ বিধবা পরিবারের সদস্যরা। এতে মূলত টিপুর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে শামীম ওসমান।
তবে একটি জায়গায় ধরা খান টিপু। সেটি হচ্ছে যখন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এড. আবুল কালাম বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পান। স্থানীয়, সর্বজনগ্রহণযোগ্য এবং এলাকায় প্রভাবের দরুণ এড. কালামের কাছে পাত্তা পাননি টিপু। বিএনপি নেতা আবুল কালাম এবং তার ছেলে আবুল কাউছার আশার শক্ত স্থানীয় রাজনীতি, পারিবারির ঐতিহ্য এবং মানুষের গ্রহণযোগ্যতার দরুণ এই একটি জায়গায় এখনো সুবিধা করতে পারেননি টিপু। অন্যান্য বিএনপি নেতারাও টিপু অশালীন অঙ্গভঙ্গি আর অশ্রাব্য ভাষার দরুণ তাকে এড়িয়ে চলেন। কথায় কথায় বানানো লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর ভিত্তিহীন আবোল তাবোল বক্তব্য দিয়ে নানা জনকে হেয় করার কুখ্যাতি রয়েছে টিপুর। তবে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে টিপু বিএনপির বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছেন।
এই মার্কেটের সামনে আওয়ামী শাসনমালেও ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হতো না। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান ফুটপাতে হকার বসতে না দেয়ার কথা বলার পর এটি অব্যাহত থাকে। গত ৬ মাসে বেশ কয়েকবার এই মার্কেটের সামনে হকার বসানোর জন্য হাসান ইমামকে চাপ দেন টিপু। তাতে রাজি না হওয়ায় গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলকে উপলক্ষ্য করে ঝোপ বুঝে ট্যাগ দিয়ে হাসান ইমামকে দোকান থেকে টেনে বের করে মারধর করেন টিপু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে আওয়ামী লীগে অর্থায়নের নাটক সাজান।


