রাজনৈতিক ম্যানেজে প্রকাশ্যে সেই সুফিয়ান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
রাজনৈতিক ম্যানেজে প্রকাশ্যে সেই সুফিয়ান
বৈষম্যবিরোধী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী নিষিদ্ধ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিটি কর্পোশেনের সেই ঠিকাদার একে.এম আবু সুফিয়ান বর্তমান রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় সদর থানার আশপাশেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বৈষম্যবিরোধী হত্যাসহ একাধিক মামলার ভার মাথায় নিয়েও কার শেল্টারে টানবাজারের তার সেই পুরনো পদ্মা প্লাজার আস্থানায় তিনি তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের টানবাজার এলাকায় পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানকে। কালো শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় তাকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। এ সময় পাশ থেকে কে বা কারা একটি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা পরে ভাইরাল হয়।
নাসিকের (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন) কোন নির্দেশনা ছাড়া কিংবা নাসিককে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নাসিকের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন কাজের নাক গলাতো বলেও সুফিয়ানের নামে একাধিকবার অভিযোগ আসে। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর মেয়র পদের নির্বাচনে সাবেক মেয়রের পক্ষ হয়ে কাজ করার সময় প্রথম আলোচনায় এই একে.এম আবু সুফিয়ান। সে সময় সাবেক মেয়রের ভক্ত ও কর্মীদের কাজে লাগিয়ে তাদেরকে নিজের কর্মী হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বন্দরের গন্ডি পেরিয়ে শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জ অর্থাৎ পুরো সিটি এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকসহ সম্পর্ক করে বিভিন্ন কায়দায় ঠিকাদারি বিক্রি করেই বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার মালিক। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে এলিট শ্রেণির লোক হিসেবে পরিচিতি দেন তিনি।
এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় ওঠে আসে তার নাম। আলিসান বাড়ি, আলিসান গাড়ির মালিক বনে যান সুফিয়ান। একই সময়ের মধ্যে সুফিয়ান শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্যে সাবেক মেয়রপন্থীদের নেতা বা প্রভাবশালী সমর্থক আছে তাদেরকে ব্যবহার করে তাদের ব্যবহার করে তাদের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ আদায় করে নেন এবং চোখের পলকে অর্থ-বিত্তর বিশাল পাহাড় গড়ে তুলেন। সর্বশেষ গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা সহ একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপণে ছিলেন।
গত ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শফিকুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আবু সুফিয়ানকে আসামি করা হয়। তা ছাড়া ও একাধিক মামলার আসামী হয়ে ও প্রকাশ্যে এই কুখ্যাত আবু সুফিয়ান। বর্তমানে এই কুখ্যাত আবু সুফিয়ানকে শেল্টার দিচ্ছে কারা। একাধিক মামলার মাথায় নিয়েও কোন সাহসে তিনি এলাকায় ঘুরে কেড়াচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে নানা প্রশ্ন।


