Logo
Logo
×

রাজনীতি

টিপুকে মাইনাস করার চিন্তা মহানগর বিএনপির

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

টিপুকে মাইনাস করার চিন্তা মহানগর বিএনপির

টিপুকে মাইনাস করার চিন্তা মহানগর বিএনপির

Swapno



সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে এড়িয়ে চলছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর প্রমাণও মিলছে। বেফাঁস মন্তব্য, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আর লাগামছাড়া আচরণের কারণে টিপুর সাথে রাজনীতি করাকে বিষফোঁড়া মনে করছেন অন্যান্য নেতারা। অনেকে বলছেন, টিপুর সাথে রাজনীতি করা মানে নিজেদের স্বচ্ছ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে শঙ্কায় ফেলা। নানা কারণে টিপুর সাথে রাজনৈতিক চলাফেরায় ঝুঁকি রয়েছে, পড়তে হয় নানা বিব্রতকর  পরিস্থিতিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, সদস্য সচিব টিপুকে নিয়ে নানাভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতেতে পড়ছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি মেয়র এড.সাখাওয়াত হোসেন খান।


নানা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর মূলত মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াতের সাথে সদস্য সচিব টিপুর ঘনিষ্টতা বাড়ে।  কোর্ট প্রাঙ্গণে ক্ষমতা বৃদ্ধি, মামলা বাণিজ্য, মহানগরের নেতৃত্ব সুদৃঢ় করা নিয়ে তাদের সখ্যতা বাড়ে। একারণে টিপুর অনেক অসৌজন্যমূলক আচরণেও তেমন গায়ে মাখতেন না শুরুতে সাখাওয়াত। উদাহরণ হিসেবে কয়েকজন বিএনপি নেতা আড্ডায় বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুল হক যখন ৫ আগস্টের পর নানা মামলায় নারায়ণগঞ্জে হাজিরা দিতে আসতেন তখন ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। কিন্তু হঠাৎ ডিম ছোঁড়ার ঘটনা এমনি এমনি বন্ধ হয়নি। এর পেছনে ছিল মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন। নারায়ণগঞ্জের এক শিল্পপতি যিনি আবার ঢাকায় থাকেন তার মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকায় এই ডিম ছোঁড়া বন্ধ করতে হয়। এমন শত শত বিষয়ে সমঝোতা ছিল তাদের মধ্যে।


কিন্তু সাখাওয়াত-টিপুর দুরুত্ব বাড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমপি পদকে ঘিরে। দুইজনই খুব করে চাচ্ছিলেন  তাকে দল মনোনয়ন করুক, এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিক। স্বচ্ছ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, অসুস্থ্যতা আর কেন্দ্রের গুডবুকে থাকার দরুন সাখাওয়াত এমপি না হলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পেয়ে যান। কিন্তু সাখাওয়াতের এই দলীয় প্রমোশন কিছুতেই হজম করতে পারছিলেন না টিপু। পদে পদে বাধা তৈরি করতে থাকেন, যাতে সাখাওয়াত প্রশাসক হিসেবে সিটিতে সফল হতে না পারেন। টিপুর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সাখাওয়াতের সাথে তার দরুত্ব বাড়ে। কখনো হকার, কখনো অটোরিক্সা, কখনো লেগুনায় চাঁদাবাজি, ফুটপাতে হকার বসানোতে  টিপুর নাম উঠে আসে। টিপুর ভাই আবু আল বেলালের শেল্টারে ফুটপাতে হকার বসে বিষয়টি টের পান সাখাওয়াত।


কিন্তু প্রশাসক হিসেবে নগরবাসীকে দেয়া কথা রাখতে হলে ফুটপাত থেকে হকার উঠাতেই হবে এই দোদৌল্যতায় পড়ে যান সাখাওয়াত। কিন্তু টিপু সব কিছুতেই নাছোড়াবান্দা। প্রশাসক সাখাওয়াত হলেও সিটি কর্পোরেশরেন সকল বিষয়ে টিপু নাক গলাতে থাকেন। নানা অনুষ্ঠানে টিপুর কারণের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে দেখা যায় সাখাওয়াতকে। তিনি হারে হারে বুঝে যান নিজের ক্লিন ইমেজ, স্বচ্ছ রাজনীতি ধরে রাখতে হলে টিপুর সাথে রাজনৈতিক দুরুত্ব বাড়াতে হবে। এরপর থেকে তিনি টিপুকে এড়িয়ে চলার কৌশল অবলম্বন করেন। টিপু হয়ে যান ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অপমাণ আর নিজেকে জাহিরের রাজনীতি করে আগে থেকেই অপছন্দের ব্যক্তিতে ছিলেন টিপু।


প্রত্যেক নেতারই একটা কথা টিপু সাথে থাকলে ভালো লোক কাছে ভিড়ে না। টিপুর গালাগালিতে সাধারণ নেতাকর্মীও ত্যক্তবিরক্ত। বাধ্য হয়েই  টিপুর কাছ থেকে সরে যান তারা। সিদ্ধান্ত নেন টিপুকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ঘরনার লোকজন একত্রিত হয়ে রাজনীতি করার। টেস্ট কেইস হিসেবে তারা নানা প্রোগ্রাম আয়োজন করতে থাকেন। এতে ভালো সাড়াও পান। ভালো, স্বচ্ছ আর ত্যাগী নেতাকর্মীরা একত্রিত হতে শুরু করেন। সবাই একমত হন, তারা টিপুকে নিয়ে যদি চলেন ভালো রাজনীতির মাঠে কখনো সফল হতে পারবেননা। তাই পুরনো, পরীক্ষিত, মার্জিত, রুচিশীল এবং ত্যাগী নেতারা একত্রিত হয়েই আগামীর রাজনীতি সাজানোনর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন।


 সম্প্রতি মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। একই সাথে দলটির স্থানীয় প্রবীণ নেতারাও একই সুরে কথা বলেন। এমনকি বিএনপি নেতা জাকির খানও সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা জাকির খানের সভাপতিত্বে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। কিন্তু এই সভায় মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।


এই সভায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি চাই। আমরা এই নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়াতেই আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মহোদয় আমাদের সঙ্গে থাকবেন বলে আমরা আশা করি।


“আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা দিয়েছেন। কারও প্রতি কটূক্তি না করে আমাদের দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে হবে। এই সভায় মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খানও সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। সকলকে নিয়ে দেশের জন্য বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য সকল নেতাকর্মীকে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান করেন।


জাকির খানের ডাকে সারা দিয়ে এই আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা এম ্এ মজিদ, মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির যগ্ম আহবায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহবায়ক মো. মনির হোসেন খান, আতাউর রহমান মুকুল, এড.সরকার হুমায়ুন কবির, মো. নুরু উদ্দিন  অন্যান্য প্রবীণ তরুণ মিলিয়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা জাকির খান। তার ডাকে প্রবীন নবীণ সকল নেতাকর্মীরা সাড়া দিলেও এড. আবু আল ইউসূফ খান টিপুকে দেখা যায়নি।


বিএনপি নেতাকর্মীদের থেকে জানতে চাইলে কয়েকজনে বলেন তাকে এই সভায় দাওয়াত করা হয় নাই। তাছাড়া দাওয়াত করা হলেও তিনি হয়তো আসতেন না। কেননা সম্প্রতি কিছু দিন আগে এক অনলাইনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা টিপু বলেন জাকির খান বিএনপির কেউ না। তার মন্তব্যের পড়ে বিএনপি নেতাকর্মী সহ জাকির খান অনুসারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার জবাবের প্রেক্ষিতে জাকির খানের ডাকে সারা দিয়ে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এক ছাতার নিচে এসে এক টেবিলে বসে সকলে ঐক্য বদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে।


কিন্তু এই ঐক্যবদ্ধ সভায় মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা টিপুকে মাইনাস রাখা হয়েছে। এছাড়া মহানগর বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক ছাত্র নেতা জাকির খান বলেন, যারা বিগত আমলে ও বর্তমানে মহানগর বিএনপির কমিটিতে আছেন। বিগত আমলে আমাদের যারা মাঠে ঘাটে ছিল তাদের বিলুপ্ত করে দিয়ে এটা ইউনিয়ন কমিটি হয়ে গেছে। এটা থেকে বেরিয়ে মহানগর কমিটি প্রতিটি মহল্লার মানুষদের নিয়ে গঠন করতে হবে। বিগত সময়ে যারা ছাত্রদল-যুবদল করতো তাদের সবাইকে নিয়ে কমিটি করতে হবে। আপনাদের সকলকে একসাথে এখানে পেয়ে আমার মন আনন্দে ভরে গেছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন