মালয়েশিয়া বসে দেশের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রিয়াদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
মালয়েশিয়া বসে দেশের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রিয়াদ
নারায়ণগঞ্জে গত দেড় দশকে বিভিন্ন কায়দায় অপকর্মের নানা পন্থায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন। ছাত্র নয় তবু ও অয়ন ওসমানের ছায়ায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। গত জুলাই ও আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এসব নেতাদের হাতে দেখা গেছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।
গত ৫ আগস্টের পর তারা আবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালয়েশিয়াতে পালিয়েছেন তিনি। এদিকে বিগত দিনে ওসমানদের ছায়ায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সেঁজে তোলারাম কলেজকে জিম্মি করার পাশাপাশি বিসিকের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, মাসদাইরের মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা সব স্থানেই ছিলেন এই কুখ্যাত রিয়াদ। এদিকে নানা কুকর্মে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জের অপকর্মের সেক্টর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন এই রিয়াদ।
বিদেশে বসেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসির পতন হওয়ার পর ফতুল্লার বৃহত্তর শিল্পনগরী বিসিকের বিভিন্ন ফ্যাক্টরী থেকে ঝুট ও ওয়েষ্টিজ মালে রিয়াদের প্রধান বাড়ির একাধিক তাদের আত্মীয়দের মাধ্যমে বিসিক বুঝিয়ে দেন। এমনকি অয়ন ওসমান ও রিয়াদের ভাগ যথাযথ মাসে পৌঁছানোর জন্য একজন বিশস্ত লোক সেট করেছেন এই রিয়াদ। যার মাধ্যমেই রিয়াদ বিদেশে বসেই বিসিক ও মাসদাইরের অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তা ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রিয়াদের প্রধান বাড়ির একপক্ষকে বিএনপি নেতা বানিয়ে প্রধান বাড়ির কুখ্যাত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার সেই দয়ায় আওয়ামী লীগ করেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদে আসিন। সবই রিয়াদের চমৎকার। বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিদেশ থেকেই দেশে নাশকতার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন আওয়ামী লীগ। এমতা অবস্থায় মাসদাইরের প্রধান বাড়ির বিএনপির এক পক্ষের শেল্টারে প্রধান বাড়ির আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নানা আলোচনা সভা করছেন। নাশকতার পায়তারায় মগ্ন রয়েছেন। সকল প্রেসক্রিপশন বিদেশে বসেই দিয়ে বেড়াচ্ছেন সন্ত্রাসী রিয়াদ।
খুন, জেনারেটর ব্যবসা, কলেজ জিম্মি করে ব্যবসা, ইন্টারনেট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিশাল মোবাইল চোর সিন্ডিকেট, মাদক সিন্ডিকেট, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার সেক্টর নিয়ন্ত্রণ সবই এই রিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। যার ফলে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। নিজ মাসদাইরে মালিক হয়েছেন কয়েকটি বাড়ির।
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গেলে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে দুই সাংবাদিককে মারধর করেন তারা। তাদের মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিক তার মোবাইল ফেরত পান। এর আগে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজে ফরম পূরণ করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও তার লোকজনের মারধরের শিকার হন আতা-ই-রাব্বি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্নাতকের দুই শিক্ষার্থী।
তারা দু’জন যথাক্রমে ওই কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একইভাবে ফরম ফিলাপের জন্য গেলে নিজ বিভাগের সামনে মারধরের শিকার হন স্নাতক তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র। সাংবাদিকতার সাথে জড়িত এই শিক্ষার্থীকে তোলারাম কলেজের ভেতরে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল বেধরক মারধর করেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ।
কলেজের ওই কক্ষটিকে রিয়াদ নিজের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীকে সেখানে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কলেজের সামনের সড়কে শাহজাহান আলী নামে আরেক ছাত্রকে বেধরক পেটায় তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই হামলায়ও নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ।
সাধারণ ছাত্র, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের পিটিয়েই কেবল আলোচিত নন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউপির একটি ভোটকেন্দ্র দখলে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। ভোটকেন্দ্রের সামনে বিশৃঙ্খলা করা রিয়াদ ও তার দলবলকে লাঠিপেটাও করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।
পরে তাদের কাছ থেকে ককটেল, ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটাও উদ্ধার করে র্যাব। এই ঘটনায় কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্রে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান যান। তখন রিয়াদ র্যাব সদস্যদের দেখিয়ে শামীম ওসমানের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের কুত্তার (কুকুর) মতো পিটিয়েছে।’ তা ছাড়া হাবিবুর রহমান রিয়াদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান ওরফে অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও ছাত্রলীগের নামে অপকর্ম বন্ধ ছিলো না এই রিয়াদের। বর্তমানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন এই রিয়াদ। বর্তমানে পলাতক জীবনে মাসদাইরে পরিবারে বিএনপির একাংশের ছায়ায় বিদেশে চিন্তামুক্ত বিলাসবহুল জীবন পাড় করছেন এই সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান রিয়াদ।


