Logo
Logo
×

রাজনীতি

দ্বন্দ্বের বেড়াজালে রাজনীতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

দ্বন্দ্বের বেড়াজালে রাজনীতি

দ্বন্দ্বের বেড়াজালে রাজনীতি

Swapno


গ্রুপিং, কমিটি বাণিজ্যে, ভাগবাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তারসহ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সকল দিক মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের উভয় পক্ষের রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব তুঙ্গে রয়েছে। যাকে ঘিরে নিয়মিত বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা ছাড়া কমিটি বাণিজ্যেকে ঘিরে হচ্ছে না ইউনিট কমিটি। তা ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ দেখলেও সাম্প্রতি উশৃঙ্খল বক্তব্যে ও বিভিন্ন্ ইস্যূ নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি ঐক্য ভেঙে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়ানোকে ঘিরেই দ্বন্দ্বের বেড়াজালে আবদ্ধ না.গঞ্জের রাজনীতি।


বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে নানা তর্ক থাকলে ও বর্তমানে বেশ ভালোভাবেই ফাটল ধরেছে। আর সেই ফাটল থেকে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি নেতারা পরস্পরের সাথে বিরোধীমুখী অবস্থানে রয়েছেন। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন ইসি জানিয়েছেন সেপ্টেম্বরে তফসিল পরবর্তীতে কয়েক দাফে নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে এ বছরের শেষ দিকেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।


যাকে ঘিরে বর্তমানে রাজনীতিতে নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটাই বাড়ছে। কিন্তু বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ হিসেবে বিভিন্ন সভা সমাবেশে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাখছেন। সেই সাথে তাদের এই বক্তব্যে দিন দিন উত্তেজনা বাড়তে শুরু করছে। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে হয়তো সরাসরি একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসবেন।


রাজনৈতিক তৃণমূল নেতারা বলছে, বর্তমানে রাজনীতিতে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে নানা ইস্যূতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ও সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। যাকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই উত্তপ্ত। এমতা অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিলে সেই রাজনৈতিক ইস্যুকে বড় আকার ধারণ করে রাজনীতিতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার প্রভাব পরতে পারে। এমন নানা বিবেচনায় বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এমনই দিক বেঁছে নিয়ে বর্তমানে নির্বাচনের দিক থেকে পেছনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ইসি। যাকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটাই তলানিতে গিয়েছে।


সূত্র বলছে, বর্তমানে সকল জোট ছেড়ে বিএনপি-এনসিপি-জামায়াত-খেলাফত মজলিস আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের একক প্রার্থী ঘোষণা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত-খেলাফত মজলিস একক প্রার্থী ঘোষণা করলেও এনসিপি-বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী রেখেছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হতে বিএনপি জামায়াত-এনসিপি মাঠে নেমে নিজেদের মত প্রস্তুতি নিচ্ছে।


এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রস্তুতির আভাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আমেজ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছে খেলাফত মজলিসে তারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়া এবি.এম সিরাজুল মামুনকে সিটি নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এদিকে  গত ১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান।


তা ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারা ঘোষণা না করলে ও গুঞ্জন রয়েছে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীকেই প্রার্থী করা হতে পারে। যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।


যাকে ঘিরে এবার কোন্দল ও বিদ্রোহ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তা ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী  না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা। একইভাবে নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সকল স্থানেই নির্বাচনী হওয়া পরার পথে।


এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা।


যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে। তা ছাড়া বর্তমানে সারাদেশ তথা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিশাল ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাকে ঘিরে বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি গড়ার পরিকল্পনায় নামছে সরকার। তা ছাড়া জামায়াত-এনসিপিতে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব থাকলে ও বিএনপি সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। যার দেখা মিলছে ফতুল্লা-রূপগঞ্জের ঝুটে ও মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোগ্রামের সংঘর্ষের বিশৃঙ্খলায়। একই সাথে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির হুঙ্কারকে উপেক্ষা করেই এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী নারায়ণগঞ্জের আসছে আজ। এদিকে বর্তমানে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে আলোচনা উঠছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দ্বন্দ্বের অবসান আসবে কবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন