তফসিলের পরই মাঠে নামবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
তফসিলের পরই মাঠে নামবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা
একমাস পিছিয়ে আগামী নভেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই হিসেব-নিকেশ অনুযায়ী আগামী (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল। সেই হিসেবেই তফসিলের পর থেকেই জোড়ালোভাবে মাঠে নামার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মধ্যে ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী রাজনৈতিক উত্তাপ ও টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিভিন্ন সময় নানা ইস্যূকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে অনেকটাই স্বগরম হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। এদিকে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক রেষারেষি লক্ষ্য করা গেছে।
তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে শুরু করেছেন। তারা সুযোগটাকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিপরীতে বিএনপির বিতর্কই সঙ্গী হিসেবে রূপ নিয়েছে। এদিকে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতায় আতিষ্ঠ হওয়া বিএনপিকে এবার জুলাইয়ে খোঁচা দিচ্ছেন জামায়াত-এনসিপি নেতারা। বিভিন্ন বক্তব্যে বা সরাসারি বিএনপির অপকর্ম প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। যা ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বেশি করে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারী দল ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ফুটে উঠছে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ।
ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে নেই। তারা স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে নিজেদের প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা ইতিমধ্যে শুরু করেছে। এনসিপি ও দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করবে কিন্তু বিএনপির কোন আওয়াজ নেই। তা ছাড়া বিএনপিতে এবার স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী ঘোষণা চ্যালেঞ্জে রূপ নিবে।
এদিকে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। আলোচনা উঠছে তারা ও এবার একক প্রার্থীই ঘোষণা দিতে চাইছেন। তা ছাড়া ক্ষমতাসীন দল বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিপাকে দিন পার করছেন। কাকে ফেলে কাকে মনোনয়ন দিবেন তা নিয়ে কেন্দ্রে চলছে তোড়জোড়। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন হিসেবে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের পদগুলো দখল রাখলে ও সেই দখলে হাত দিতে প্রতি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটিতে রয়েছেন বিএনপির ৫ থেকে ৬ জন প্রত্যাশী। যাকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে শুরু হয়েছে ‘দাবা খেলা’।
যাকে ঘিরে বাড়ছে বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী ঘোষণা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সবসময় একটি আলোচিত নাম। এ সিটির নির্বাচনকে ঘিরে বিগত সময়ে নানা আলোচিত ঘটনা পেয়েছে দেশ। তবে, এবার এই নির্বাচনের হিসেব-নিকেশ বদলে দিবে কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত সীমানা। সব মিলিয়ে উত্তেজিত রাজনৈতিক ময়দান।
এদিকে গত ১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান। তা ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারা ঘোষণা না করলে ও গুঞ্জন রয়েছে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীকেই প্রার্থী করা হতে পারে।
যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে এবার কোন্দল ও বিদ্রোহ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তা ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে তিনবার বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে যে নাটকীয়তা হয়েছে তা এবার চায় না বিএনপি। বর্তমানে তৃণমূলে একক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা চাইলে ও বিএনপির কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার পাত্র হিসেবে পরিণত করছে। যাকে ঘিরে জামায়াত-এনসিপি সেই সুবিধা লুফে নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে উভয় পক্ষই তফসিল ঘোষণার পরই মাঠে নামার পত্যয় ব্যক্ত করছেন।


