Logo
Logo
×

রাজনীতি

রক্ষাকবচে অধরা সেলিম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

রক্ষাকবচে অধরা সেলিম ওসমান

রক্ষাকবচে অধরা সেলিম ওসমান

Swapno



প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের এসব মামলায় সরাসরি নাম থাকলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন। বিভিন্ন সময় জাতীয় পার্টির এই নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও সম্প্রতি এ দাবি জোরালো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে সে ‘পলাতক’ হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দাবি, তিনি দেশে খুলনায় আছেন।


এমনকি নারায়ণগঞ্জে নিয়মিত এসে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলায় সরাসরি নাম থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করছে না। যার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী কোনো শক্তি। কেউ কেউ এটাও দাবি করেছেন। সেলিম ওসমানের আশ্রয়দাতা একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। ওই নেতা নারায়ণগঞ্জের একটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীও। বিএনপির ওই নেতার সহযোগিতায় সেলিম ওসমান প্রায়ই নারায়ণগঞ্জে আসেন, এমনকি অফিসও করছেন। যার জন্য তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।


তা ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের আগে নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত ওসমান পরিবারের সদস্য সাবেক এমপি সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমান এই দুর্ধর্ষদের নাম শুনলে একদা নারায়ণগঞ্জ শহরে ‘কাঁপন’ ধরত। এই পরিবারের অন্যতম সদস্য যিনি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ব্যাপক চাঁদাবাজিসহ ক্যাডার বাহিনী দ্বারা লুটপাটে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতেন জাতীয় পার্টির নেতা ও সংগঠনটির মনোনীত সাবেক সাংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এদিকে সেলিম ওসমানের যে সকল ক্যাডার বাহিনী ছিল তারাই শামীম ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।


তা ছাড়া সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেলিম ওসমান। তার লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে পরিচিতি সদর-বন্দরের ৭টি চেয়ারম্যান ও বন্দরের ৭টি ওয়ার্ড কাউন্সিলের এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা চালিয়ে ছিল। যাকে ঘিরে গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে রোষানলে পরে এখন ওসমান রাজ্যের নীরবতা। দুই ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সব লাপাত্তা। তাদের বাপ-দাদার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও স্মৃতিময় ঐতিহাসিক বাড়িগুলো এখন সুনসান, জীর্ণ।ইতোমধ্যে দেশের বাহিরের বিভিন্ন স্থানে শামীম ওসমানের ভিডিও, হুঙ্কার এবং ছবি দেখা গেলে ও তা ছাড়া আজমেরী ওসমানের ছবি/ভিডিও কল বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেলেও সেলিম ওসমান পুরোই লাপাত্তা রয়েছেন।


সূত্র জানিয়েছে, এই দুর্ধর্ষ সেলিম ওসমান খুলনা এবং ঢাকায় অবস্থানরত রয়েছে। এদিকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের ৭২টি ব্যবসায়ী সংগঠন শুধু জিম্মি করে রাখেনি এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন টেন্ডারবাজি, আইনজীবী সমিতি, সদর-বন্দরের সকল স্কুল-কলেজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এই দুর্ধর্ষ সেলিম ওসমান। তার নির্যাতনের খড়গ পোহাতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের।


এদিকে ২০১৪ সালে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এমপি একে.এম নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের কোঠায় সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্যের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে সেলিম ওসমানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে এক দিকে সদ্য গত হওয়া সাংসদের ছোট ভাই হিসেবে ভক্তদের সহানুভূতি ও অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থনে সে যাত্রা পার হয়েছিলেন তিনি।


এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বড় থেকে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ সেই ২০১০ সাল থেকে এককভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ ওসমান পরিবারের সেলিম ওসমানের দখলে ছিল। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স দখলে ছিল সেলিম ওসমান তথা ওসমান পরিবারের আজ্ঞাবহ কর্মচারী খালেদ হায়দার খান কাজলের দখলে।  এছাড়া  নারায়ণগঞ্জ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ছিল সেলিম ওসমান-শামীম ওসমানের আরেক মাসেল ম্যান লিটন সাহার দখলে, নারায়ণগঞ্জ হোসেয়ারি সমিতি সেলিম ওসমানের কল্যাণে দখলে ছিল নাজমুল আলম সজলের।


মূলত এসব সংগঠনে নির্বাচন তো দূরের কথা সিলেকশনই ছিল মূল কথা। ২০১০ থেকে যারাই এসব বড় বড় ব্যবসায়িক সংগঠনে স্থান পেয়েছে তারা সবাই ছিল সেলিম ওসমান অনুগত। তা ছাড়া এই সেলিম ওসমান এককভাবে সকল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং সেখান থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন। এর পাশাপাশি শামীম ওসমানসহ ভাতিজা আজমেরী ওসমান। সেলিম ওসমানের নামে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ব্যবসায়ীদের খড়্গ লাগিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন। তার নির্যাতনে নারায়ণগঞ্জ ছেড়েছে বহু ব্যবসায়ী। তা ছাড়া বন্দরের সেলিম ওসমান কয়েকটি স্কুল স্থাপন করে সেগুলো নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া এই সেলিম ওসমানের নিয়ন্ত্রণেই ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি যা বর্তমান ওসমান মুক্ত রয়েছে। তা ছাড়া এই সেলিম ওসমানের দ্বারা নারায়ণগঞ্জের ৭২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যবসায়ীরা নির্যাতিত শুধু তাই নয় নারায়ণগঞ্জের বহু সরকারি দপ্তর, স্কুলকলেজের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ সকলেই তার দ্বারা নির্যাতনের শিকার। এদিকে গত ৫ আগস্টের পূর্বের সময় পর্যন্ত অসুস্থ থেকে ও তার লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা ছাত্র-জনতার উপরে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ও সেই শত শত মামলার আসামি হয়ে ও দেশে অবস্থান করে গ্রেফতার এড়িয়ে রয়েছেন সেলিম ওসমান।


বর্তমানে সমালোচনা উঠছে কোনো ক্ষমতার জোরে এখনো সেলিম ওসমানকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেই সালোচনা ধারাবাহিকভাবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক-সদস্য সচিব উঠালে ও সর্বশেষ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো জরুরি পদক্ষেপ আসেনি। এদিকে গত বছরের (১৫ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানকে খুঁজতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফতুল্লার উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড কারখানায় ফতুল্লা মডেল থানার একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এখন আর কোন অভিযান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নারায়ণগঞ্জবাসীর জনমনে ক্ষুদ্ধতা বিরাজ করছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন