ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে
না.গঞ্জ অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা আব্দুল হাইয়ের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
ঢাকায় বসে না.গঞ্জ অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা আব্দুল হাইয়ের
ঢাকায় অবস্থান করে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য উস্কানি দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। ২০২৪ সালের ৪ই আগস্ট আওয়ামীলীগের হয়ে নারায়ণগঞ্জে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে বাঁধাগ্রাস্ত করতে প্রভাব বিস্তার করছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে আব্দুল হাই। ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগের পতন ঘন্টা আঁচ করতে পেরে ঢাকায় মেয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল হাই। আওয়ামীলীগের ভিডিও কনফারেন্সে নিয়মিত যুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উষ্কে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান আব্দুল হাই।
পুত্র তানভীরের মাধ্যমেই পিতা আব্দুল হাই নারায়ণগঞ্জের সকল খবরা খবর রাখেন যেহেতু নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়েই বসবাস করেন আব্দুল হাই। আর এই তথ্যের ভিত্তিতেই নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল ছক তৈরী দলীয় ভিডিও কনফারেন্স মিটিংয়ে প্রকাশ করেন আব্দুল হাই। এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ১৯জুলাই গডফাদার চাষাড়া হয়ে শামীম ওসমানকে তান্ডব চালাতে সকল সংবাদ প্রেরণ ও সহযোগীতা করেন। কেননা আব্দুল হাইয়ের ফ্লাট থেকে স্পষ্ট আন্দোলনকারীদের অবস্থান বুঝা যেত।
এছাড়া ২০জুলাই খোদ নিজেই আব্দুল হাই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শনে যেয়ে শামীম ওসমানের তান্ডবের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে সকল ক্ষয়-ক্ষাতির দায় ছাত্র জনতার উপর চাপিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ই আগস্ট শেষবারের মত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসের সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিরোধ করতে রাজপথে নেমে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের অবস্থান বুঝে রাজপথ ছাড়েন। সূত্র নিশ্চিত করেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের দুটি বলয়ের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে টানা দুবারের মত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে থাকলেও জেলা পরিষদের দায়িত্বে থেকে উন্নায়নের নামে লুটপাট চালান। এছাড়াও আব্দুল হাই রাজনৈতিক জীবনে কোন চাকরী বা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কিন্তু গড়েছেন নামে বেনামে আলিশান ফ্লাট,বাড়ি,গাড়ি। কারণ রাজনীতিই ছিল তার অন্যতম পেশা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কেননা টানা দুবার জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্ব পালনে থেকে বাড়িতে বসে বসে কমিটি বাণিজ্য করতেন। একাধিকবার আব্দুল হাইয়ের বাণিজ্যের অর্থ আদায়ের প্রমাণ গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এছাড়া কমিটি দেয়ার নামে আওয়ামীলীগের নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও প্রতারণা করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ী এবং আওয়ামীলীগের ব্যবসায়ী নেতাদের থেকে নিয়মিত মাশোয়ারা আদায় করতেন আব্দুল হাই। এমনকি আওয়ামীলীগ নেতাদের সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়ে লক্ষ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নামে প্রতিটি পদ বিক্রি করে আলাদা খসড়া কমিটি করেন। এছাড়া রূপগঞ্জ,আড়াইহাজারে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় এমপি তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা তাদের প্রেসক্রিপশন কমিটি গঠন করেছিলেন।
এদিকে সোনারগাঁয়ে টানা পাঁচ দফা কমিটি গঠিত হয় আব্দুল হাইদের বাণিজ্যের কারণে তারপরও সোনারগাঁয়ে কমিটি নিয়ে অস্থিরতা কমেনি আওয়ামীলীগের পতন পর্যন্ত। এদিকে দেশজুড়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মামলায় আওয়ামীলীগের এমপি,মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করলেও অদৃশ্য কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হত্যা এবং হত্যা চেষ্টায় একাধিক মামলায় আসামী হয়েও এখনো ঢাকায় মেয়ের বাসায় আত্মগোপনে থেকে নারায়ণগঞ্জ অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছেন।


