জেলা-মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে তোড়জোড়
ত্রয়োদশ সাংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি একাধিক গ্রুপিংয়ে জিম্মি হয়ে পরেছেন। যাকে ঘিরে বাড়ছে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব ও ভাঙছে চেইন অব কমান্ড। তা ছাড়া বর্তমান জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা কেউ এমপি, প্রশাসক, চেয়ারম্যানের মতো বড় পদে আদিষ্ট হওয়ায় মূল পদগুলো ফাঁকা অবস্থায় রয়েছেন, যাকে ঘিরে সাংগঠনিক ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাংগঠনে।
এদিকে নানা সময় নতুন কমিটি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলে ও হঠাৎ আলোচনা নিশ্চুপ হয়ে পরেন। কিন্তু এবার নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী দায়িত্ব পাওয়াকে ঘিরে ফের তোড়জোড় আলোচনা শুরু হয়েছে কমিটিকে ঘিরে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে রিজভী সমর্থকরা ব্যাপক চাঙা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নজরে রাখতেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নজরে ছিলো নারায়ণগঞ্জের আলোচিত নেতারা। এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী অধিনে চলতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আগামী ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলন হতে যাচ্ছে। যার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনে নতুন মোড় সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
যার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা কার্যালয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ বর্তমান সাবেক নেতারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র তোড়জোড় ও তৎপরতা চলছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের বিভিন্ন স্তরের পদ পেতে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপ ও উপদলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিলর আগে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনই উজ্জীবিত হয়ে রয়েছেন। স্থায়ী ও স্থানীয় নির্বাচনে দল শক্তিশালী করতে ওয়ার্ড ও থানা কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতা বা 'সুপার ফাইভ' সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে দল অনড় থাকবে বলে জানান। নারায়ণগঞ্জের কমিটিগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি আসতে যাচ্ছে। এতে বর্তমানে অনেক নেতারা বাদ পড়বেন তাদের মূল্যায়িত হওয়ায় সম্ভবনা বাড়ছে।
যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। মেয়াদউর্ত্তীণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হবেন এমন নিশ্চিত পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে। এর ফলে তাকে মহানগর বিএনপির প্রথম সদস্য করা হবে এবং আহবায়ক পদ ছাড়তে হচ্ছেন।
এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি দুই মাসের ক্ষমতা মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান পুরো সিটি কর্পোরেশনকে চকচকে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আলোচনায় আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মনিরুল ইসলাম সজল, ফতেহ মুহাম্মদ রেজা রিপন ও আবুল কাউসার আশা। এই নামগুলোই বর্তমানে আলোচনা চলছে। এদিকে মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটিতে চলমান রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে এখন ৩০ এর ঘরে চলমান রয়েছে। একাধিক গ্রুপিংয়ে কারণে মহানগর বিএনপি দূর্বল হয়ে রয়েছে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


