প্রবীণরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
বিএনপির টানা দেড় যুগের আন্দোলনে সক্রিয় অবস্থানে কঠোর ভূমিকা পালন করেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং কেউ বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেও দলীয় কোন দায়িত্ব না পেয়ে অনেকটা নিষ্প্রাণ হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে আছেন। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় দলীয় ত্যাগীরা মূল্যায়িত হলেও কোথাও নেই নারায়ণগঞ্জের এই প্রবীণ নেতাদের নাম। তা ছাড়া দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের বিরোধীতা করে আবার কেউ দলীয় চাপে একত্রিত থেকে বর্তমানে বঞ্চিত হয়েও বিএনপির ব্যানার ছাড়েনি।
এদিকে বিএনপির বর্তমানে প্রধান বিরোধী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নানাভাবে নিজেদের দল চাঙা করতে প্রবীণদের নানা প্রস্তাব দিলেও কেউ ছাড়েনি দল। অবমূল্যায়িত হয়েও এখনো দলীয় সর্বশেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তাকিয়ে রয়েছেন। আবার অনেকেই নানাভাবে সেন্ট্রালে লবিং করছেন বহিস্কার আদেশ ফিরে পেতে আবার কেউ যোগ্যতা থাকতেও ভালো কিছু পেতে কেন্দ্রে তাকিয়ে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবীণ-নবীণদের নানাভাবে মূল্যায়িত করছেন। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে ও নানা সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কিন্তু এখনো বিএনপি থেকে তাঁকে কোন দলীয় দায়িত্ব বা সরকারের কোন স্থানে ঠাঁই দেননি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়েন আতাউর রহমান আঙ্গুর। কিন্তু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করে নিলেও রাজনীতি থেকে এখন লাপাত্তা আঙ্গুর। এদিকে বিএনপি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলমকে এখনো বিএনপি দলে ফিরিয়ে নেননি বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি নামক একটি দলে যোগ দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে তৈমুর আলম খন্দকার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরতে চাইলেও কোন সুযোগ না মেলায় ইতিমধ্যেই তৈমুর আলম খন্দকারের রাজনীতিতে ধুলের আস্তরণ পড়তে যাচ্ছে। বর্তমানে দলীয় নানা কোনঠাসায় নিষ্প্রাণ হয়ে পরেছে এই প্রবীণ নেতাদের রাজনীতি এদের চাঙা করলে বিএনপির রাজনীতিতে চেইন অব কমান্ড শক্ত অবস্থানে থাকতেন বলছে অনেকেই। তা ছাড়া ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও সাংগঠনিক ভাবে ছন্নছাড়া অবস্থায় আছে বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যক্রম চলছে ধীমেতালে। জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা তিনটি দায়িত্বে রয়েছেন।
আহবায়ক জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু সংসদ সদস্য এবং যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান। নিজ নিজ দায়িত্বে থাকার কারনে সাংগঠনিক কাজে তেমন সময় দিতেই পারছেন না তারা। থানা পর্যায়ের কার্যক্রম চলছে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই। মহানগর বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত বহু আগে থেকেই। এখন সেটি আরও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়েছে নেতাদের কোন্দলের কারনে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান আছেন নাসিক প্রশাসক পদে। যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব পদে।
সবশেষ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা গেছে এই কমিটির নেতারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছেন। এছাড়া জেলা যুবদলের তিন সদস্যের মধ্যে আছেন দুজন। মহানগর যুবদলের কার্যক্রম দুই জন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ছাত্রদলের কমিটি নেই দুই বছর ধরে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। একই ভাবে কৃষক দল, শ্রমিক দলের কার্যক্রম আছে কেবলই খাতা কলমে। আসছে না নতুন নেতৃত্ব।
সাংগঠনিক ভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে পুরো দল। এমপি আর বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ঘিরেই চলছে বিএনপির নেতাকর্মীদের আনাগোনা। যাকে ঘিরে সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে চাঙা করতে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে টিমের মাধ্যমে জরিপ করে নবীণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে দায়িত্ব দিলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি চাঙা হবে এবং নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করবে। বর্তমানে প্রবীণরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনীতির বাহিরে দলীয় আর্দশ নিয়েই বৃদ্ধামান রয়েছে।


