Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলা বিএনপির পুনর্গঠন ঘিরে দুইপক্ষে দ্বিমত

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

জেলা বিএনপির পুনর্গঠন ঘিরে দুইপক্ষে দ্বিমত

জেলা বিএনপির পুনর্গঠন ঘিরে দুইপক্ষে দ্বিমত

Swapno



নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সাংগঠনিক গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড জেলা বিএনপি পুর্নগঠনের উদ্যোগ নিলে ও সেটা নিয়ে ইতিমধ্যে সংগঠনে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে জন্মে উঠা দুই পক্ষ দ্বিমত পোষন করছেন। এক পক্ষ চাইছেন পুরো জেলা বিএনপি ভেঙে নতুন করে কমিটি গঠন একই সাথে আরেক পক্ষ চাইছেন বর্তমানে ৩৩ সদস্য কমিটি রেখেই আহ্বায়ক-সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ যে পদগুলোতে পরিবর্তন জরুরী সেগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত।


যা নিয়ে ইতিমধ্যে জেলার রাজনীতিতে এক বিরল প্রভাব পরতে যাচ্ছেন। একই সাথে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির থাকায় বর্তমানে দুই পক্ষ আলোচনা থাকলে ও দ্রুত আরো দুটি পক্ষ জেলা বিএনপি নিয়ে অবস্থান করতে পারেন বলছেন অনেকেই।


সূত্র জানিয়েছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এরা বর্তমানে জনস্বার্থের কাজে বেশি সময় দিতে হবে সেই দিক বিবেচনায় হাইকমান্ডের উদ্যোগে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সাংগঠনিক গতি ফিরাতে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিলে ও তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ফুটে উঠায় বর্তমানে কোন দিকে যাবে জেলা বিএনপির রাজনীতি সেই আলোচনা উঠছে।


তা ছাড়া সাংগঠনিত গতিকে পাদান্ন দিয়েই বর্তমানে জেলা বিএনপির ক্ষেত্রে জরুরী উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে আলোচনা উঠেছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড দ্রুতই জেলা বিএনপি পুনর্গঠন করবে।


ইতিমধ্যে পুনর্গঠন বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ আহম্মেদ টুটুল জানিয়েছেন, জেলা কমিটি পুনর্গঠনের আলোচনা কেন্দ্রে উঠেছে। বর্তমানে কেউ চাচ্ছে যে পদগুলোকে ঘিরেই কমিটি পুনর্গঠনের আলোচনা সামনে এসেছে সেগুলো যোগ্য নেতা দিয়ে পূরণ করে বর্তমান কমিটিই বহাল রাখতে। আবার অনেকে চাচ্ছে কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের জন্য কিন্তু এখন কি করবে এটা কেন্দ্র ভালো বলতে পারবে।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড কাজ করছে। দ্রুত নতুন জেলা কমিটি আসছে।


নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান ৩৩ সদস্য কমিটি গঠনে কোন প্রকারের সাংগঠনিক দিক বিবেচনা করা হয়নি। সামনের সারির সাইনিং পাওয়ারের নেতারা নিজেদের লোক দিয়ে কমিটি ভরে রেখেছিলেন। কিন্তু নতুন আলোচনায় থাকা জেরা বিএনপির কমিটিতে যেন প্রবীন-নবীন-তৃণমূলদের দিয়েই গঠন করা হলে সংগঠনটি চাঙা হবে। তা ছাড়া তারেক রহমানের সেই বক্তব্যে মিছিলের শেষ লাইনের ব্যাক্তি ও মূল্যায়িত হবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। একের পর এক আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে দেওয়ার প্রবনতা সংগঠনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তা ছাড়া জেলার রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।


বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থতা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সংগঠনের নিচের স্তরগুলো সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।


তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে আসবে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। তা ছাড়া জেলা বিএনপিতে বর্তমানে সবাই নেতা হয়ে জাহির করছেন যাকে ঘিরে সংগঠনে দেখা মিলছে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা। সেই সকল দিক লক্ষ্য করে তৃনমূলকে মূল্যায়িত করে নতুন কমিটির মাধ্যমে বিএনপিতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দাবি তৃণমূলের নেতাদের।


এরই মধ্যে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর খালি মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ কাউকে মানছেন না।


অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রভাব আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার খবর পাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন একরকম কিন্তু অধস্তন নেতাকর্মীরা করছেন আরেক রকম। এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। বর্তমানে এই সংগঠনে গতি ফেরাতে দ্রুত পুনর্গঠনের আলোচনা উঠেছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন