Logo
Logo
×

রাজনীতি

সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় ট্যাগে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় ট্যাগে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি

সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় ট্যাগে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি

Swapno



জেলা ও মহানগর বিএনপির টানা হেঁচড়া ও অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে খন্ড-বিখন্ড সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতি। পুরো জেলার মধ্যে এটাই একটি থানা যেখানকার নেতাদের জেলা ও মহানগর বিএনপি দুই সংগঠনের নেতাদের ম্যানেজ করেই রাজনীতি করতে হয়। যাকে ঘিরে দুই সংগঠনের চাপে কমিটিবিহীন থানা হিসেবে আখ্যা পেয়েছে এই সিদ্ধিরগঞ্জ। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি থাকলে ও তা শক্তিশালী নয়। এদিকে গত ৮ মাস যাবৎ থানা বিএনপির কমিটি যেমন স্থগিত তেমনই নেই অঙ্গসংগঠনের কোন কমিটি।


যাকে ঘিরে সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতি বর্তমানে ক্ষমতার পালাবদল, স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান জয়লাভ করার পর স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির আধিপত্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এদিকে স্থানীয় এমপির ক্ষমতায় পদ ছাড়া দলীয় ট্যাগ লাগিয়ে আধিপত্য প্রভাবের রাজনীতি চলছে। তা ছাড়া মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব, মহানগর কৃষকদলের সদস্য সচিব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এখানকার স্থানীয় নেতা হিসেবে ও এমপির ক্ষমতায় তারা নিজেদের ব্যবসা-বানিজ্যে স্ট্যাবল রেখেছেন। এমনইভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পদ না পেয়ে ও এমপির কোঠায় নিজেরা চলে যাচ্ছেন।


তা ছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতিকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার কোন আলোচনায় নেই জেলা ও মহানগর বিএনপি কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। যা নিয়ে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকে ও অবহেলিত সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতি। তা ছাড়া থানা বিএনপির কমিটি ৮ মাস যাবৎ স্থগিত হলে ও বিষয়টি জানেন না সাধারণ সম্পাদক।


সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে থেকে সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় থাকায় চলতি বছরের (২২ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও জেলা বিএনপির ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে চিঠিতে জানানো হয়। গত ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং নাসিক ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫১সদস্যবিশিষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।


পরে সম্মেলনের মাধ্যমে মাজেদুল ইসলাম সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক হোন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগে ইকবালকে বহিষ্কার করা হলে আবুল হোসেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরমধ্যে ইকবাল হোসেন বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে আসলেও স্বপদে ফিরতে পারেননি। এরমধ্যেই নির্বাচনকালীন সময়ে ২০২৬ সালের (২২জানুয়ারি) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তী ৮ মাস হলেও এই কমিটি আর পুর্নগঠন করা হয়নি। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের একাধিক প্রার্থী থাকলে ও কমিটিকে ঘিরে নেই কোন উদ্যোগ।


একই সাথে থানা শ্রমিক দল, থানা ছাত্রদলে কমিটি না থাকায় দৈন্যদশায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এমপিসহ বিভিন্ন আর্শীবাদে গত ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে মোটা তাজা হয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে সকলেই বর্তমানে পদ ছাড়া বিএনপি দাবি করলে ও বড় কোন অপকর্মে জড়ালে তাদের দায় কি দল নিবে কিনা এমন প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে দলীয় ট্যাগে আধিপত্য প্রভাবের রাজনীতি চলছে সিদ্ধিরগঞ্জে।


মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল নেতা শেখ অপু অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধিরগঞ্জেই একটি থানা যেখানে জেলা বিএনপির আওতাধীন মূল দল ও অঙ্গসংগঠন সবই মহানগরের আওতাধীন। যাকে ঘিরে এখানকার রাজনীতি অনেকটাই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে রাজনীতিতে সিদ্ধিরগঞ্জকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপির কোন বৈঠক কিংবা উদ্যোগ নেই। তারা সাংগঠনিক কোন আলোচনা নিয়ে আমাদের সাথে বসে না। বর্তমানে এক কথায় আমরা অবহেলিত।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিক কল করলে ও তিনি রিসিভ করেননি।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব কিছুই বলতে রাজি হয়নি।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম বলেন, গত ৮ মাস হয়ে গেলো আমরা কেন্দ্রে চিঠি জমা দিয়েছি। সেখান থেকে কোন উত্তর এখনো আসেনি। কিন্তু আলোচনা শুনছি এটা নিয়ে একটি পদক্ষেপ আসবে।


তিনি বলেন, আমরা শুনছি সমীনা কেন্দ্রিক জটিলতায় নাকি আমাদের এই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি জেলা থেকে বেড় করে মহানগরভুক্ত করা হতে পারে।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের পূর্বে নানা জঠিলতায় বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন থেকে বিএনপির একাধিক নেতাদের বহিস্কার করা হয়েছিলো। এদিকে আমাদের কমিটি স্থগিত করা হয়েছিলো কিনা সে বিষয়ে আমি অবগত নয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন