নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রবীণ নেতা জামাল উদ্দিন কালুর স্ত্রী। মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী ও মহানগর বিএনপির সদস্য রাশিদা জামালকে পোগ্রামে জনসম্মূখে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ বলে কটূক্তি করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান। এই ঘটনায় ক্ষোভ ঝাঁড়লেন রাশিদা জামালের পুত্র মহানগর যুবদলের ১ নম্বর সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ। তিনি ক্ষোভ করে জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত সাবেক মেয়র আইভীর আস্থাভাজন বিভা এখন সাখাওয়াত ভাই ও টিপু ভাইয়ের উসকানিতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাইছেন। তা ছাড়া বিএনপির অনেকেই তাকে কোলে বসাচ্ছেন।
শুধু তাই নয় এই ‘দোসরকে’ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বানানোর লবিংও করছেন অনেকেই। আওয়ামী লীগের দোসরকে কেন এই পদে আতিষ্ট করা হবে এমন প্রশ্ন তুলে রিয়াদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ঘোষণা দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপির সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে। কর্মসূচি শেষ হতেই মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে সরাসরি বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন যুবদল নেতা রিয়াদ। এর আগে ২ নং গেইটে ‘দোয়েল’ সিটি প্লাজার নিচে মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বের সমাবেশে রাশিদা জামাল ও বিভা হাসানকে তর্ক-বিতর্কে জড়াতে লক্ষ্য করা যায়।
রাফি উদ্দিন রিয়াদ অভিযোগ তুলেছেন , “সাখাওয়াত ভাই ও টিপু ভাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আওয়ামী দোসরদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও বাস্তবে বিভা হাসানের মতো চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট ও সাবেক মেয়র আইভীর দোসরকে সাথে নিয়ে চলছেন। বিভা হাসান নিজেই আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে আমার মাÑমহানগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতিকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে কটূক্তি করেছেন। অথচ আমার বাবার শরীরে এখনো বিগত শাসনের ১৬টি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো ভায়া বা মাধ্যম ছাড়াই তাদের পরিবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভা হাসান ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেবে।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুবদল বলেন , রিয়াদের মাকে বিভা হাসান আওয়ামী লীগের দালাল বলায় রিয়াদ তার প্রতিবাদ করেছে। নারায়ণগঞ্জে কে মূল দোসর তা সবাই ভালো করেই জানে। রিয়াদের বাবা জামাল উদ্দিন কালুর পরিবার নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অন্যতম নির্যাতিত ও ত্যাগী পরিবার।
এদিকে জানা গেছে, প্রথম প্যানেল মেয়র বিভা হাসান নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত ও আস্থাভাজন ছিলেন । সিটি কর্পোরেশন কিংবা রাজনৈতিক সকল কার্যক্রমে মেয়রের সাথেই থাকতেন এই বিভা হাসান। মেয়রও তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভা হাসানকে পাশে রাখতেন। এমনকি বিভা হাসান প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও মেয়রের হাত ছিল বলেও আলোচনা উঠেছিলো।
তা ছাড়া বিভা হাসানের স্বামী হাসান আহমেদ বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বর্তমান কমিটি সদস্য এবং তাঁর স্বামীর বড় ভাই আব্দুল মজিদ কমিশনার মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা। শ্বশুরালয়ের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়তা থাকলেও বিভা হাসানের কোন সক্রিয়তা কিংবা সমপৃক্ততা নেই। এমনকি বিএনপির কোন অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি। জেলা, মহানগর বিএনপির কিংবা কোন অঙ্গসংগঠনের কোন পদেও ও ছিলো না বিভা হাসান। বর্তমানে হঠাৎ সিটি কর্পোরেশনে নতুন সংযোগ ব্যবহারের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে ও যুক্ত হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই বিভা হাসান।