Logo
Logo
×

রাজনীতি

না.গঞ্জে বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

না.গঞ্জে বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা

না.গঞ্জে বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা

Swapno



# বিএনপির চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করার হুঙ্কার এনসিপির
# তেলাপোকা-ছারপোকার মতো এনসিপিকে পিষতে চান বিএনপি


নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ও মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জুলাই পদযাত্রা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ, নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে দুই দলের মধ্যে এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।


বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন। তা ছাড়া এনসিপি নেতাকর্মীদের তেলাপোকার মতো পিষে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। যা নিয়ে এনসিপি পাল্টা বক্তব্যে দিচ্ছেন এবং বিএনপি নেতাদের সকল অপকর্ম তুলে দেওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছেন দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্বগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। যাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির সংঘাতের আশঙ্কা লক্ষ্য করতে পাচ্ছেন স্থানীয়রা।


নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কঠোর ও রাজনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি তারেক রহমানকে রাজনীতি ছেড়ে 'গ্যাংবাজি' ও সন্ত্রাসের পথ পরিহার করার আহ্বান জানান এবং জিয়া পরিবারের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন। তার এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ মিছিল চলছে। একের পর এক স্লোগান চলছে এনসিপির বিরুদ্ধে।


গত (১ আগষ্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন বলেন, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে আমি মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। সে যদি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে পা দেয়ার দুঃসাহস দেখায়। তাদের আমরা প্রতিহত করবো।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর ইতিহাসে এমন তিন প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়ক আছে এমন কোন ইতিহাস কী আছে? নেই। সেই তারেক রহমানকে নিয়ে সামান্য তেলাপোকা ও ছাড়পোকারা যদি কিছু বলে আমাদের উচিত তাদের পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলা।


তিনি আরো বলেন, আরএফএলের সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে সে চাকরি করতো। আমার কাছে সেই ছবি আছে। সে লজিং মাস্টার ছিল। আাসিফ থেকে শুরু করে নাহিদ, হাসনাতরা পাঁচ আগষ্টের আগ পর্যন্ত কই ছিল? তারা আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নিচে ছিল। ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচ থেকে বের হয়ে আজ তারা বড় নেতা। ১৭ বছরের আমাদের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা চিন্তা করলে তোদের তো হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার কথা। তোরা বড় বড় কথা বলিস। তেলাপোকা-ছাড়পোকাদের আজেবাজে বক্তব্যে সফল প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কিছুই হবে না।


এদিকে বর্তমানে রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার-সোনারগাঁও-শহর এলাকায় নিয়মিত এনসিপির বিরুদ্ধে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল, শোডাউন চলছে। যাকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিএনপিকে উল্লেখ করে লিখিছেন, চাঁদাবাজি, ঝুঁট সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতার প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, অপকর্মের সমালোচনা করায় বিভিন্ন মহল অযথা আপত্তি তুলছে।


আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ড এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কারা চাঁদাবাজি করেছে, তা সবাই জানে। তিনি দাবি করেন, ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টসে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কৃত রিয়াদ চৌধুরী এখনও বিএনপির নেতা হিসেবে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এক মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী শিশু গুলিবিদ্ধ হলেও এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। তবে ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বললেই আপত্তি তোলা হয়। তার দাবি, ঝুঁট সন্ত্রাসের মামলায় কারাভোগ করা ছাত্রদল নেতারাও এনসিপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন।


স্ট্যাটাসে আব্দুল্লাহ আল আমিন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং গণআন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ বলেছিলেন। এমন একজনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বললেও বিএনপির নেতাদের আপত্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার পর তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল।


তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে একজন এমপির ছেলে বহিষ্কার হয়েছেন, যুবদলের এক সাধারণ সম্পাদক শোকজ হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় লজ্জা না পেলেও কেউ বিষয়গুলো তুলে ধরলেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন। আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট ছাড়া কারও সঙ্গে আমাদের শত্রুতা নেই। তবে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ঝুঁট দখল ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আমরা কথা বলবই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা কারও পরোয়া করি না।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক শওকত আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জের বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


শওকত আলী লেখেন, “সারাদেশ বাদ দেন, নারায়ণগঞ্জের বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের ৫ আগস্টের পরের হিসাবটা শুধু কেউ নেন পারলে। কে কয় টাকা কামাইছে, বাড়ি-গাড়ি কিনছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষ, ফুটপাতের অটোরিকশাচালক, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিলে জানা যাবে কোন দলের নেতারা চাঁদা দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়ানোর জন্য তদবির করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেন।


পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এমনকি জুলাই শহীদদের পরিবারও মামলা বাণিজ্য থেকে রেহাই পায়নি। বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ দখল এবং অর্থ লেনদেন নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। তাহলেই বুঝবেন জুলাই কারা বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে আর কাদের ওপর দোষ চাপিয়েছে।


এদিকে বিএনপি নেতাদের হুঙ্কারে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবাইর সরদার জানান, সময় হলে দেখা কে কাকে পিসতে পারে, আমরা আইন হাতে তুলে নেবোনা। এমন একটা সময় গেছে তাদেরকে পিপড়ার মতো পিসেছে। তাদের এমন হেডাম ছিলো বিগত ১৭ বছর সেই হেডাম দেখাতে পারেনাই। আমরা ভদ্রতা দেখাচ্ছি মার্জিত দেখাচ্ছি এই জন্য তারা এই ধরণের কাজ করতেছে। আগামী দিনে তারা যদি এইভাবে অন্যায় অত্যাচার করে তাহলে আমরা আর বসে থাকবো না।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির  সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম জানান, এই বক্তব্যটা যিনি দিয়েছেন তিনি মানসিকভাবে স্টাবল না। যেই ছাত্র জনতার জন্য তারা ১৭ বছরের ত্যাগ -তিতীক্ষা সফল করতে পেরেছে সেই ছাত্র জনতাকে এই ধরণের  কুরুচিপূর্ণ  মন্তব্য করেছে অবাস্তব কথাবার্তা বলে তারা তাদের দাম্ভিকতা দেখাতে চায় তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত লোক হুশ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এই ধরণের কথা বলে। যাদের হুশ জ্ঞান হারিয়ে কথাবার্তা বলে তাদের কথা কেউ ধরে না ছাত্র জনতা ধরবে কি করে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন