Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নেই নজরদারি, বেড়েছে দ্বন্দ্ব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নেই নজরদারি, বেড়েছে দ্বন্দ্ব

বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নেই নজরদারি, বেড়েছে দ্বন্দ্ব

Swapno



সাংগঠনিক নজরদারি না থাকায় বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বিএনপির অঙ্গসংগঠনের। একের পর এক বিতর্কের মাধ্যমে পত্র-পত্রিকার হেডিংয়ে অঙ্গসংগঠনের বিতর্ক কর্মকাণ্ড ফুটে উঠছে। যা ছাড়া বর্তমানে বিএনপি নেতাদের পাত্তা না দিয়ে তার সাথে ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছেন অঙ্গসংগঠনের নেতারা। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। এদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী করতে দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দলটির ১১ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১০টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।


দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ বাস্তবতায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যেই শিগগির যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল সবই ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে।


সকলেই রয়েছেন অভ্যন্তরীন কোন্দলে। এদিকে বর্তমানে নেতাদের দুরুত্বের দৈরথ এতোটাই তীব্র হয়ে যে বর্তমানে নিজেদের মধ্যেই জড়িয়ে পরছেন দ্বন্দ্বে। এদিকে জেলা ও মহানগর যুবদলে আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে রোষানলে ফেলে আলোচনায় উঠতে চাইছেন, আবার অনেকেই পরিচিত মুখের নেতাকে পিছনে ফেলতে চালছে নানা ষড়যন্ত্র। কিন্তু সব দিক মিলেই দ্বন্দ্ব ফিরছে। যা নিয়ন্ত্রণে বিশৃঙ্খল মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নয়া কমিটি গঠন দরকার। যাকে ঘিরে যুবদলকে ঘিরেই পাওয়া যাচ্ছে দ্বন্দ্বের আভাসসহ অস্থিরতার দৃশ্য। যার প্রভাব পরছে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা যুবদলে।


কমিটি গঠনের গত ৩ বছরে উন্নতি আসেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। সেই পুরনো ৩ সদস্য কমিটি ও সাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি পারেনি দিতে। তা ছাড়া মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি ৫১ সদস্য কমিটি দিতে পারলে ও ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন। যা গঠনে ও কমিটি বড় করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাকে ও পাত্তা দেয়নি জেলা ও মহানগর যুবদল। এদিকে মহানগর যুবদল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে কোনঠাসায় রাখতে কেন্দ্রীয় যুবদলে তোড়জোড় করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি  প্রেরণ করা হয়।


অথচ গত ১৭ বছর যুবদল নেতা জোসেফ কী ধরণের ভূমিকা রেখেছে তা বিএনপি তো বটে, সাধারণ মানুষও স্বীকার করবে। জোসেফ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি। অথচ হুট করে গতকাল পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির পদবিধারী নেতা পরিচয় দিচ্ছেন মর্মে অভিযোগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে কেউ নেই। একই সাথে জেলা বিএনপির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে সমালোচনায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব।


এদিকে আহ্বায়ক সেই সুযোগে সদস্য সচিবকে কোনঠাসা কতরতে ব্যর্থ। তা ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দুইজনকে বিতর্কিত করে নিজেই কেন্দ্রীয় যুবদলের চোখে ভালো হয়ে আহ্বায়কের পদ চাইছেন। সব মিলিয়ে কোনঠাসায় যুবদল। একই সাথে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জেলা স্ব্ছোসেবক দলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে গভীর দ্বন্দ্বে এক হয় না ৩ জনের কেউ।


তা ছাড়া চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ নিত্যদিনের কাণ্ড। তা ছাড়া জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি না থাকায় সকলেই নেতা সেঁজে লুটে পুটে খাচ্ছে সব। পরছেন একের পর এক বিতর্কে। তা ছাড়া জেলা ও মহানগর শ্রমিকদলে দ্বন্দ্ব দাপে দাপে চাঁদাবাজির ডজনে ডজনে অভিযোগ। ইতিমধ্যে মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ও হয়েছিলেন। এমনভাবে একের পর এক বিতর্কে রয়েছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো। এদিকে গত গত ৫ আগষ্টের পর সুবিধা নিয়ে বর্তমানে কোনঠাসায় পরেছে মূল দলের নেতারা।


দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ একই দিনে জেলা যুবদলের দায়িত্ব হিসেবে আহ্বায়ক হন সাদেকুর রহমান সাদেক ও মশিউর রহমান রনি। কমিটি পাওয়া পর একত্রিতভাবে মহানগর যুবদল ৫১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলে ও পারেনি জেলা যুবদল। তা ছাড়া দুটি কমিটিই ইউনিট কমিটির দিকে অনেকটাই দুর্বল। একই দিনে ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয় যেখানে আহ্বায়ক করা হয় সাখাওয়াত হোসেন রানা ও সদস্য সচিব করা হয় মমিনুর রহমান বাবুকে।


অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন ও সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সাল্লু। কিন্তু দুটি কমিটিই একের পর এক বিতর্কে জর্জড়িত অবস্থায় রয়েছে। অপকর্মে সকল অঙ্গসংগঠনের কমিটি শীর্ষ তালিকায় এই দুই সংগঠন। এদিকে ২০২২ সালে জেলা ও মহানগর শ্রমিক দলের কমিটি গঠন হয় মহানগরের দায়িত্ব পান এস এম আসলাম ও ফারুক হোসেন ও জেলার দায়িত্ব পান মন্টু মেম্বার ও মুজিবর রহমান। সাংগঠনিক নয়, এরা দুটি কমিটিই চাঁদাবাজির প্রতিযোগীতায় এগিয়ে। তা ছাড়া ২ বছর যাবৎ নেই মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি। সব মিলিয়ে দুর্বলতায় শীর্ষে রয়েছে না.গঞ্জে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কমিটি। এদিকে কোন কমিটিরই নেই কোন মেয়াদ।


এ ছাড়া এ সকল সংগঠন পরিচালনায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং নেতৃত্বেরও দুর্বলতা রয়েছে। যার কারণে শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কৃষকদলের কমিটির পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। এদিকে অঙ্গসংগঠনগুলো নেতৃত্বের পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হচ্ছে সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং সংগঠনে গুরু দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জর্জরিত হয়ে সংগঠনকে বিতর্কিত করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থেকে পদ আঁকড়ে ধরে রেখেও ইউনিট কমিটি গঠনের একাধিবার উদ্যোগ নিয়েও কমিটি গঠন করতে পারেননি।


তা ছাড়া ২০২৪ সালে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ভাঙলে নতুন কমিটি আর ফুটে আসেনি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অপকর্মের কারণে বরাবরই বিতর্কিত হতে হচ্ছে বিএনপিকে। তা ছাড়া হাইকমান্ডের নজরদারি না থাকায় সমস্যার সমাধান বেড়িয়ে আসছে না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন