এলোমেলো না.গঞ্জ মহানগর বিএনপির গতি ফিরবে কবে?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
এলোমেলো না.গঞ্জ মহানগর বিএনপির গতি ফিরবে কবে?
নির্বাচনের পরপরই এলোমেলো হয়ে পরেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। গত ২০২২ সালে কমিটি গঠনের দিনই ৪১ সদস্য ভেঙে ২৬ সদস্যতে পরিণত হলেই সংগঠনটির দৈন্যদশা প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে সমালোচনায় পরতে নিলেই মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন কমিটির সাংগঠনিক হাল ধরেন। একই সাথে পিছন থেকে সার্পোট দিয়েছিলেন মহানগর যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল। এর বাহিরে কমিটিতে ভেঙে থাকা বাকি ২৪ জনই ছিলেন ওয়ানম্যান ‘শো’ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরবর্তীতে মহানগর বিএনপির ব্যানারে জোরালো নেতৃত্বে দিয়ে টানা দুই বছর আন্দোলনে গত ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালায়। একই সাথে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় হয় বিএনপি। এদিকে দীর্ঘদিনের কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে পরে। মেয়াদউত্তীর্ণ এই কমিটিকে দ্রুত বিতর্কমুক্ত ও সাংগঠনিক গতিশালী করতে মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে নয়া কমিটি গঠনের আলোচনায় কেন্দ্র। এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় বর্তমানে ফের নেতৃত্বশূন্যতায় বেহাল দশায় পরে।
তা ছাড়া গত ৫ আগষ্টের পর একের পর এক বিতর্কসহ নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে না পারায় যাকে ঘিরে নয়া কমিটি থেকে বাদ পরতে যাচ্ছে টিপু। এদিকে মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নয়া কমিটির আলোচনা শুরু হয়েছে। যেখানে নতুন কমিটিতে মূল দায়িত্ব পেতে পারে বলে গুঞ্জন উঠছে যুবদলের সাবেক ও বিএনপির বঞ্চিত নেতারা। যাকে ঘিরে নয়া কমিটিতে আলোচনায় মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর খন্দকার খোরশেদ, এদের হাতেই মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির দুটি পৃথক কমিটি জমা পরেছে যেখানে যাচাই বাছাই করে যোগ্য ও পরীক্ষিত কান্ডারী খুঁজছে দল। এদিকে সাবেক কমিটির অনেকেই নতুন কমিটি থেকে বাদ দিয়ে বঞ্চিত নবীন-প্রবীনদের সমন্বয়ে আসতে যাচ্ছে নয়া কমিটি।
“নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। কিন্তু বর্তমানে কমিটিকে ঘিরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব। এর বাহিরেও নয়া কমিটিতে আসতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। সূত্র আরো জানিয়েছে , দীর্ঘ চার বছর যাবৎ কমিটি পেয়ে ও মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী না করার যে চক্রান্ত চলেছিলো। সেই চক্রান্ত নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমেই দূর হবে, এবার আর ছোট মহানগর বিএনপি নয় মহানগর বিএনপি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ও শক্তিশালী।
তা ছাড়া দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মহানগর বিএনপি নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে এমন প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি বহুদিন ধরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিবিহীন অবস্থায় ছিল। আহ্বায়ক কমিটি কিংবা আংশিক দায়িত্বে দল পরিচালিত হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছিল ঢিলেঢালা ভাব। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল, বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সংগঠনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে দুইটি শক্তিশালী প্যানেলের কমিটি জমা পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে দ্রুত কমিটি গঠনের পক্রিয়া চালু করবে দল সেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগরে নতুন মুখ আসছে।
যাকে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরেন মহানগর বিএনপির কমিটি। তা ছাড়া গত ৪ বছরে এই কমিটি থেকে একজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ সাখাওয়াত-টিপু-রেজা রিপন অন্য দিকে আলাদা ব্যানারে আশার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে মহানগর বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে এতত্রিত হয়ে পরেন মহানগর বিএনপি। যাকে ঘিরে নির্বাচন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধতা দেখিয়ে ফের সিটি নির্বাচনকে ঘিরে জড়িয়েছেন দ্বন্দ্বে।
যাকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সরূপ দুই নেতৃত্বে দুটি কমিটি কেন্দ্রে জমা পরেছে। তা ছাড়া আরো দু‘টি পরতে পারে বলে আভাস রয়েছে। কিন্তু এবারের কমিটি গঠনে বিড়ম্বনা দেখা দিলে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা। বর্তমানে বিতর্কিত কমিটি ভেঙে বিতর্কিতদের বাদ নিয়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠনের আলোচনা উঠছে। এলোমেলো মহানগর বিএনপিকে গতিশীল করতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম পক্রিয়াধীন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সূত্র।


