Logo
Logo
×

রাজনীতি

তিন থানায় বিভক্ত জেলা বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

তিন থানায় বিভক্ত  জেলা বিএনপি

তিন থানায় বিভক্ত জেলা বিএনপি

Swapno



অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় বিভক্ত হয়ে পরেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে ঐক্যবদ্ধতা না থাকায় দুর্বল নেতৃত্বে একের পর এক ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে পরেছে সংগঠনটি যা ৩৩ সদস্য উন্নতি কমিটিও পারেনি নিরসন করতে। বর্তমানে জেলা বিএনপি বিভক্ত হয়ে ৩ থানায় এলোমেলো হয়ে পরেছে। তিন থানায় ৩ নেতা নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা বিএনপি, হচ্ছে না একত্রিত। ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জে মূল দায়িত্বে থাকা ৩ নেতা বিভক্ত হয়ে জেলা বিএনপিকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বাষির্কী জেলা ব্যানারে পালন করা হয়নি।


তা ছাড়া গত (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যে ও নাশকতা ঠেকাতে জেলা বিএনপি ব্যানার কিংবা ঐক্যবদ্ধ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি কিছুই চোখে আসেনি। তা ছাড়া দলীয় কোন পোগ্রাম হলে একত্রিত নয় শুধু জেলা বিএনপির ব্যানারে দেখা যায় না কিছুই। আহ্বায়ক জেলা পরিষদ নিয়ে ব্যস্ত, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের এমপি হিসেবে তিনি তার এলাকা নিয়ে ব্যস্ত অন্যদিকে সাইনিং পাওয়ারের আরেকজন নারায়ণগঞ্জ জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে সকলেই যার যার মতো কজে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন, দুর্বল হয়ে পরেছে সংগঠনটি।


এদিকে সাংগঠনিক না হলে ও ফতুল্লায় বিভিন্ন পোগ্রামে ছড়ি গুরাতে দেখা যাচ্ছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থান গেড়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তা ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু নিজের রূপগঞ্জ নিয়ে সময় পার করছেন। যাকে ঘিরে সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়ছে সংগঠনটিতে। যাকে ঘিরে বেপোরয়া হয়ে পরেছে কর্মীরা, চাঁদাবাজিসহ নানা সংঘর্ষের ঘটনার দিনি দিন বাড়ছেই। এদিকে গত ৬ মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ দলীয় নেতারা জেলা বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধন করেন।


প্রধান ফটকের ওপরে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। কার্যালয়ের ভেতরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছবি টাঙানো হয়। কিন্তু গত (১৮ জুন) সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের অনুসারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মী কার্যালয়ে গিয়ে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন।


পরে সেখানে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। একই সঙ্গে তিন সংসদ সদস্যের ছবি সরিয়ে দিয়ে শুধু আজহারুল ইসলামের ছবি রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এতে কোন প্রকারের প্রতিবাদ করেনি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। পরবর্তীতে নানা চাপে পূনরায় কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়া হয় জেলা বিএনপির ব্যানারে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। একের পর এক আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে দেওয়ার প্রবনতা সংগঠনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তা ছাড়া জেলার রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থতা এখন বড় উদ্বেগের কারণ।


সংগঠনের নিচের স্তরগুলো সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে আসবে।


তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। তা ছাড়া জেলা বিএনপিতে বর্তমানে সবাই নেতা হয়ে জাহির করছেন যাকে ঘিরে সংগঠনে দেখা মিলছে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা। সেই সকল দিক লক্ষ্য করে তৃনমূলকে মূল্যায়িত করে নতুন কমিটির মাধ্যমে বিএনপিতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দাবি তৃণমূলের নেতাদের। এরই মধ্যে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।


এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর খালি মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ কাউকে মানছেন না। অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রভাব আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার খবর পাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন একরকম কিন্তু অধস্তন নেতাকর্মীরা করছেন আরেক রকম।


এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। বর্তমানে জেলা বিএনপি বিভক্ত থাকায় বেপরোয়া অঙ্গসংগঠন। বর্তমানে ৩ থানায় ৩ নেতার কাছে জেরা বিএনপির বিভক্ত হয়ে পরায় বাড়ছে কোনঠাসা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন