সমালোচনায় ব্যাকফুটে বিএনপি সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
সমালোচনায় ব্যাকফুটে বিএনপি সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক ঘটনায় সমালোচিত হয়ে ব্যাকফুটে যাচ্ছেন। আর তাদের বিপরীতে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডরে মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা নানারকম নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন।
এদিকে বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীরা গত ১ মাসে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে মারামারি, পরিবহন চাঁদাবাজিসহ নানা ঘটনায় সমালোচিত বিএনপি। সেখান থেকে বিএনপিকে ব্যাকফুটে ফেলতে একের পর এক কর্মকান্ড ও জনগণের কাছে বিএনপিকে করছেন ছোট। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে শুরু করেছেন।
প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তা ছাড়া বিএনপি নিয়মিত জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক বিতর্ক। বিএনপির উপরে ভর নিয়েই সুবিধা নিচ্ছেন জামায়াত। সূত্র জানিয়েছে, ভাগ-বাটোয়ারায় এক হলে ও রাজনৈতিক বিএনপি চোখ ঝাপসা করে এগুচ্ছে জামায়াত। জনগণের আস্থা কুড়াছে দলটি অন্যদিকে বিএনপি পরিণত হচ্ছে অনাস্থায়।
আর এই সরকার পতনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য আসেন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের নিহত ও আহতদের বাসায় বাসায় গিয়ে হাজির হতে থাকেন নারায়গঞ্জ জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন বাসায় বাসায় গিয়ে তারা নিরবেই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। কারও কারও বেলায় সকল দায়িত্ব নেন জামায়াত ইসলাম। বিভিন্ন মেডিকেল সেবা নিয়েও তারা জনগণের দৌড়গোড়ায় যাচ্ছেন।
সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগরের ম্যাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ও স্মরণসভা। ১৭ জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে যুবর্যালী।
১৮ থেকে ৩১ জুলাই থানা, ওয়ার্ডে জুলাই স্মৃতিচারণ, ডুকুমেন্টারী প্রদর্শন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল। সেই সাথে থানা ভিত্তিক গণরায় বাস্তবায়নের দাবীতে গণসমাবেশ। ১ আগস্ট মহানগরীর উদ্যোগে গণমিছিল। ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক গংগঠনের উদ্যোগে গণসমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন।
৫ আগস্ট মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া এবং ছাত্রনেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা। জেলা জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৪ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সমর্থন ও অংশগ্রহণ, ৫ থেকে ২০ জুলাই থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, ১৩ জুলাই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনার, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই উপজেলা ও থানা পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী, ২৯ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা, ১ আগস্ট উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল, ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ। তা ছাড়া আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণের দাড়ে জামায়াতকে পৌঁছে দিচ্ছেন নেতারা।
এ ছাড়া ও এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এমন নানান অভিযোগ কেন্দ্রে রয়েছে যাকে ঘিরে দ্রুতই অভিযানের শঙ্কা শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিএনপিতে আরো বাড়ছে চাঁদাবাজির শঙ্কা। তা ছাড়া আরো অনেকেই নানাভাবে চঁদাবাজিতেযুক্ত যা প্রকাশে আসছে দ্রুতই। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরেই ১২টি স্পটে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। শহরের সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় চাষাঢ়া গোল চত্বর থেকে। সর্বশেষ গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন মালিক-শ্রমিকরা।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা, আর প্রশ্ন উঠেছে কার দখলে শহরের সড়ক। দুপুরে ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলগামী ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বন্ধন পরিবহনের এক পরিচালক জানান, কোম্পানির একটি বাসের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি ও বিএনপি নেতা মাহাবুবউল্লাহ তপন মিশনপাড়া এলাকায় বাসটি আটকে দেন।
এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের অনুসারী এবং বন্ধন পরিবহনের বর্তমান পরিচালক শাহাদাত খান লিটন ও এমডি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে তাঁদের অনুসারীরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় লিটন ও দেলোয়ার অভিযোগ করেন মিশনপাড়ায় বন্ধন বাস আটকিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন মাহাবুবউল্লাহ তপন। এর বাহিরে ও বন্দর, ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও এলাকায় নানা অভিযোগ উঠছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ জনগণকে দেখিয়ে জনগণের আস্থা কুড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন জামায়াত।
সমাবেশে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “গণভোটের গণরায়কে যারা উপেক্ষা করবে বা বিকৃত করবে, সময়ের ব্যবধানে তারা হারিয়ে যাবে। যারা জুলাইকে ধারণ করবে না, তারাও সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।


