কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নতুন কমিটি চাইলেন আহ্বায়ক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নতুন কমিটি চাইলেন আহ্বায়ক
# যৌথ সমাবেশেও ফ্লপ জেলা যুবদল
বিতর্ক পিছু ছাড়েনি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের। একের পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কোনঠাসা সংগঠনটি। জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন্ অপকর্মে জড়িয়ে নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচনা হয়ে উঠে সংগঠনটি, যাকে ঘিরে সংখ্যাগনিষ্টতা হারিয়ে যুবদল। কিছুদিন পূর্বে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব চাঁদাবাজির অভিযোগ আটক হয়ে পরবর্তীতে দল থেকে বহিস্কার হয়।
যা নিয়ে সমালোচনায় থাকা যুবদল নিজেদের শক্তি জাগান দিতে কেন্দ্র ঘোষিত সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে অপপ্রচার, শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেন যা পুরোই ফ্লপ। বর্তমানে জেলা যুবদলের নাজুক অবস্থা দেখে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের কাছে সংগঠনের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক নতুন কমিটি উপহার চাইলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর যুবদলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, সহসাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেলের উপস্থিতিতে মহানগর যুবদলের সহযোগীতায় চমক দেখাতে পারেনি জেলা যুবদল।
বিগত দিনে দলীয় বিভিন্ন পোগ্রামে জেলা যুবদলের ছিলো আলাদা ভূমিকা। সর্বদা ফতুল্লা, রূপগঞ্জের বিভিন্ন্ ইউনিট, সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন্ ইউনিট, আড়াইহাজারের বিভিন্ন্ ইউনিট। কিন্তু দীর্ঘদিন পর দলীয় ঘোষিত পোগ্রামে পাত্তা দেয়েনি একাধিক যুবদলের নেতাকর্মীরা।
যাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সামনে জেলা ভালো ভূমিকা দেখাতে না পেরে ফ্লপের দিকে ঝুঁকেছে। এদিকে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব কিংবা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সকলের বিরুদ্ধেই রয়েছে ভূড়ি ভূড়ি অভিযোগ যাকে ঘিরে কিছুদিন পূর্বেই উইকেট পরলো সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের কিন্তু নিশ্চুপ ভূমিকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে থেকে ও পাড় পাচ্ছেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব। এদিকে গত কয়েক মাসের সংঘর্ষ, হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং একের পর এক নেতাকর্মীর বহিষ্কারের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এই কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে।
গত ৯ এপ্রিল ফতুল্লার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান ও রাকিবুল ইসলাম। ফতুল্লার ঝুট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলে আসছে। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই সংঘর্ষ, হামলা ও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম এবং লিয়ন মাহমুদ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর ২১ এপ্রিল সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটে ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদল ও এনসিপি-সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
গত ৪ মে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ঘটনার পরদিনই কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
গত ৪ জুন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে তার অনুসারীরা ওই হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়।
গত ২০ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একের পর এক বিতর্ক, সংঘর্ষ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ যুবদলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দুই নেতায় সমীবদ্ধ হয়ে পরেছে জেলা যুবদল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতারা ফ্লপ জেলা যুবদলকে দেখছেন।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সুন্দর একটি কমিটি উপহার দিবেন এবং নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।”


